বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে সরকারও টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর শহরের লুইজ ভিলেজ পার্কে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তিতে আছে; উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কর্মসংস্থান নষ্ট হচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। সরকার যদি এ সংকট নিরসনে আরও উদ্যোগী না হয়, তাহলে সরকারের পতনও হয়ে যেতে পারে।
নির্বাচনের পর কোনো সংকটেরই সমাধান হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে যে সংকটের কথা তারা দেখাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সে সংকট আমরা দেখিনি। কিন্তু তখন তারা বলেছিল, নির্বাচন দিলেই সব সংকটের সমাধান হয়ে যাবে। নির্বাচনের আগের পাঁচ মাস আর পরের পাঁচ মাসের হিসাব করে দেখা গেছে, খুনের হার একই রকম আছে, ধর্ষণের হারও একই রকম রয়েছে। চাঁদাবাজির হার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, সিন্ডিকেটও বিস্তার লাভ করেছে।
সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগের সমালোচনা করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, প্রশাসনিক প্রতিটি দপ্তরে অযোগ্য ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে। সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে যোগ্যতার মূল্যায়নের সদিচ্ছা তাদের নেই। ফলে সংকট আরও বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যখন সিন্ডিকেট, ঘুষ-দুর্নীতি ও বাণিজ্যিক অনিয়ম বন্ধ করতে পারে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই সংকটগুলো মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। তেল-গ্যাস সংকটও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা এটাকে সরকারের সদিচ্ছার অভাব বলেই মনে করি।
বিরোধী দলগুলোর প্রস্তাবকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তুলে সাদ্দাম বলেন, বিরোধী দল যখন সংকট নিরসনের প্রস্তাব দিচ্ছে, তখন তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হচ্ছে, নানাভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। আন্দোলনের বয়ান তোলা হচ্ছে এবং পুরোনো ৭১-এর প্রসঙ্গ টেনে আনা হচ্ছে। জনগণের প্রতি যে অঙ্গীকার ছিল, সরকার তার কোনো মূল্যায়ন করছে না। সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি নিরসনের পথ বের করতে হবে। দেশের মানুষের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
এর আগে, আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের হাতে উপহার হিসেবে পবিত্র কোরআন শরিফ, ব্যাগ, কলমদানি, চাবির রিং, কলম, ইসলামিক বই ও দোয়ার স্টিকার তুলে দেওয়া হয়।
জাবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক ফাহাদ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















