ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ওমরাহ পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নিহত ৩ জাসদ-ছাত্রলীগ থেকে জামায়াত, এক ভিডিওতে সব হারালেন এমপি নজরুল বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ল ভোজিনহার নিরাপত্তার জেরে ইরান থেকে দূতাবাসকর্মীদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাজ্য দেশের মানুষ তারেক রহমানকে লাল কার্ড দেখাবে: সারজিস আলম ‘সব প্রস্তুতি শেষ’, ইরানে নজিরবিহীন হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের কুয়েতে ৩ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের দফায় দফায় ড্রোন হামলা ইন্টারনেট বন্ধ, রাতভর ধরপাকড়ের শঙ্কায় থমথমে দিল্লি আর্জেন্টিনাকে আজীবন বহিষ্কারে ২৩ মিলিয়ন গণস্বাক্ষর বাংলাদেশে কখনোই প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না: জোনায়েদ সাকি

‘সব প্রস্তুতি শেষ’, ইরানে নজিরবিহীন হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হামলার পরিধি অপারেশন এপিক ফিউরির চেয়েও বড় হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা জানান।

 

সংক্ষিপ্ত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে এই ধরনের সিদ্ধান্তের মারাত্মক পরিণতি হতে পারে। তবে তিনি গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

 

ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কোনও সময়সীমা বেঁধে দেননি। আরও দুজন মার্কিন কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন যে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সামরিক বাহিনীকে কোনও নতুন নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বর্তমান উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে মোটেও জনপ্রিয় নয়।

 

ট্রাম্প বলেন, আমি এক ব্যাপক হামলার কথা বিবেচনা করছি। এটি আগের যেকোনও সময়ের চেয়েও বড় হবে। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে আছে।

 

ট্রাম্প আরও বলেন, আমি যদি চাই, তবে ইসরায়েল দুই মিনিটের মধ্যে এতে যোগ দেবে। তবে তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনও অভিযান শুরু করতে আমাদের কাউকে প্রয়োজন নেই।

 

ইসরায়েল এই হামলায় যোগ দিলে তার পরিণতি থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। যা মূলত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কার ইঙ্গিত দেয়।

 

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানিরা আলোচনা করতে চায়। কিন্তু এই মুহূর্তে তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়। তিনি বলেন, তারা এখনও পর্যাপ্ত কষ্ট পায়নি।

 

মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবহিত দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া সর্ব শেষ প্রস্তাব গ্রহণ করেনি ইরানি নেতৃত্ব। তাদের একটি সূত্র জানায়, আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু ইরানিরা সহায়তামূলক আচরণ করছে না।

 

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধে বিগত ১২ দিন ধরে হামলা জোরদার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখন পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান বদলানোর কোনও লক্ষণ দেখায়নি ইরান; তারাও পাল্টা হামলা বাড়িয়েছে।

 

এদিকে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলা শুরু করেছে। এতে তেল পরিবহনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

 

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, লোহিত সাগরে হুথিরা যদি আবারও জাহাজে গুলিবর্ষণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করবে। তিনি বলেন, হুথিরা ইরানের প্রক্সি, তাই ইরান এবং অবশ্যই হুথিদের ওপর বড় ধরনের সামরিক শাস্তি নেমে আসবে।

 

অপর এক প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্য যোগ দিতে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফর করতে চান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ট্রাম্প বলেন, বিবি’র (নেতানিয়াহু) সঙ্গে সম্পর্ক খুবই ভালো। তিনি এখানে এলে আমি অবশ্যই তার সঙ্গে দেখা করব।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমরাহ পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নিহত ৩

‘সব প্রস্তুতি শেষ’, ইরানে নজিরবিহীন হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

আপডেট সময় ১১:১৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হামলার পরিধি অপারেশন এপিক ফিউরির চেয়েও বড় হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা জানান।

 

সংক্ষিপ্ত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে এই ধরনের সিদ্ধান্তের মারাত্মক পরিণতি হতে পারে। তবে তিনি গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

 

ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কোনও সময়সীমা বেঁধে দেননি। আরও দুজন মার্কিন কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন যে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সামরিক বাহিনীকে কোনও নতুন নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বর্তমান উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে মোটেও জনপ্রিয় নয়।

 

ট্রাম্প বলেন, আমি এক ব্যাপক হামলার কথা বিবেচনা করছি। এটি আগের যেকোনও সময়ের চেয়েও বড় হবে। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে আছে।

 

ট্রাম্প আরও বলেন, আমি যদি চাই, তবে ইসরায়েল দুই মিনিটের মধ্যে এতে যোগ দেবে। তবে তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনও অভিযান শুরু করতে আমাদের কাউকে প্রয়োজন নেই।

 

ইসরায়েল এই হামলায় যোগ দিলে তার পরিণতি থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। যা মূলত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কার ইঙ্গিত দেয়।

 

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানিরা আলোচনা করতে চায়। কিন্তু এই মুহূর্তে তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়। তিনি বলেন, তারা এখনও পর্যাপ্ত কষ্ট পায়নি।

 

মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবহিত দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া সর্ব শেষ প্রস্তাব গ্রহণ করেনি ইরানি নেতৃত্ব। তাদের একটি সূত্র জানায়, আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু ইরানিরা সহায়তামূলক আচরণ করছে না।

 

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধে বিগত ১২ দিন ধরে হামলা জোরদার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখন পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান বদলানোর কোনও লক্ষণ দেখায়নি ইরান; তারাও পাল্টা হামলা বাড়িয়েছে।

 

এদিকে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলা শুরু করেছে। এতে তেল পরিবহনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

 

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, লোহিত সাগরে হুথিরা যদি আবারও জাহাজে গুলিবর্ষণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করবে। তিনি বলেন, হুথিরা ইরানের প্রক্সি, তাই ইরান এবং অবশ্যই হুথিদের ওপর বড় ধরনের সামরিক শাস্তি নেমে আসবে।

 

অপর এক প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্য যোগ দিতে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফর করতে চান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ট্রাম্প বলেন, বিবি’র (নেতানিয়াহু) সঙ্গে সম্পর্ক খুবই ভালো। তিনি এখানে এলে আমি অবশ্যই তার সঙ্গে দেখা করব।