ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার আহ্বান স্পিকারের যুবদল নেতা নয়নের ‘দাড়িওয়ালাদের আস্তানা’ স্লোগানের প্রতিবাদ জামায়াতের পাকিস্তানের ‘স্বৈরাচারীদের’ রুখে দেওয়ার আহ্বান ইমরান খানের ছেলের বাবার কষ্টের দিন শেষ করার স্বপ্ন, নিয়োগের আগেই থামল সোহানের পথ কেউ চাঁদা চাইলে থানায় সোপর্দ করবেন: ধর্মমন্ত্রী এবার মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টা, অফিসে হামলা-ভাঙচুর নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরাল ইরান একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জোরালো আহ্বান বর্তমান সরকার যুবকদের লুটতরাজের জন্য দলীয় ক্যাডার বানাচ্ছে: সাবেক শিবির সভাপতি

দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ করার সুযোগ পেলেন ২ অন্ধ হাফেজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

এবার অন্ধকার আর স্তব্ধতা কি দমাতে পারে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে? দক্ষিণখানের সরদার বাড়িতে গড়ে ওঠা ‘মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া’ সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প বলছে। এখানে চোখের আলো নেই, কিন্তু অন্তরে আছে কোরআনের আলো; কানে শোনার ক্ষমতা নেই, কিন্তু আত্মায় আছে মহান আল্লাহর ডাক। এখানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই সমান তালে লড়ে যাচ্ছে। বেফাক-এর অধীনে তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় পরীক্ষায়। আমরা অবাক হয়ে দেখি, দৃষ্টিহীন এই কিশোরেরা কীভাবে হাজার হাজার পৃষ্ঠা মুখস্থ করে হাফেজে কুরআন হচ্ছে। তাদের আঙুলের ডগা যখন ব্রেইল কুরআনের ওপর দিয়ে দ্রুত ছুটে চলে, মনে হয় ফেরেশতারাও বুঝি অবাক হয়ে তাদের এই সাধনা দেখছে।

এদিকে সাফল্যের এই মিছিলে এবার যোগ হয়েছে নতুন ইতিহাস। এই মাদ্রাসা থেকে দুজন অদম্য মেধাবী ছাত্র এবার কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’ বা মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পুরস্কার হিসেবে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে জীবনের পরম পাওয়া– পবিত্র উমরাহ পালন। যারা কোনোদিন দুনিয়ার রঙ দেখেনি, তারা অনুভব করবে কাবাঘরের গিলাফ; যারা আওয়াজ শোনেনি, তারা হৃদয় দিয়ে শুনবে মদিনার প্রশান্তি। মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছে– সুযোগ পেলে এই অবহেলিত মানুষগুলোই হতে পারে জাতির সম্পদ। হয়তো তাদের চোখে আলো নেই, কানে শব্দ নেই– কিন্তু তাদের পবিত্র হৃদয়ের আয়নায় আজ জান্নাতের ছবি স্পষ্ট। শুভকামনা এই বীরদের জন্য, যারা অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে খুঁজে নিয়েছে আলোর রাজপথ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, বাংলাদেশে এমন মাদ্রাসা আছে কল্পনায় ছিলো না। অন্ধদের জন্য প্রতিষ্ঠান আছে শুনেছি তবে বধিরদের জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠান দেখলাম। তাদের জন্য কোরআন নতুন করে ছাপানো হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি বধির শিক্ষার্থীদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ উদ্যোগ।

এদিকে মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়ার মুহতামিম বখতিয়ার হুসাইন সরদার বলেন, বর্তমানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা একই ভবনে অবস্থান করলেও, তাদের ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও অনুভূতির কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য আলাদা আবাসিক ও একাডেমিক ভবন স্থাপনের প্রয়োজন প্রকট। এতে তাদের মন-মানসিকতা আরও সুন্দর ও বিকশিত হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবারগুলো, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ করার সুযোগ পেলেন ২ অন্ধ হাফেজ

আপডেট সময় ১১:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

এবার অন্ধকার আর স্তব্ধতা কি দমাতে পারে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে? দক্ষিণখানের সরদার বাড়িতে গড়ে ওঠা ‘মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া’ সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প বলছে। এখানে চোখের আলো নেই, কিন্তু অন্তরে আছে কোরআনের আলো; কানে শোনার ক্ষমতা নেই, কিন্তু আত্মায় আছে মহান আল্লাহর ডাক। এখানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই সমান তালে লড়ে যাচ্ছে। বেফাক-এর অধীনে তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় পরীক্ষায়। আমরা অবাক হয়ে দেখি, দৃষ্টিহীন এই কিশোরেরা কীভাবে হাজার হাজার পৃষ্ঠা মুখস্থ করে হাফেজে কুরআন হচ্ছে। তাদের আঙুলের ডগা যখন ব্রেইল কুরআনের ওপর দিয়ে দ্রুত ছুটে চলে, মনে হয় ফেরেশতারাও বুঝি অবাক হয়ে তাদের এই সাধনা দেখছে।

এদিকে সাফল্যের এই মিছিলে এবার যোগ হয়েছে নতুন ইতিহাস। এই মাদ্রাসা থেকে দুজন অদম্য মেধাবী ছাত্র এবার কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’ বা মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পুরস্কার হিসেবে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে জীবনের পরম পাওয়া– পবিত্র উমরাহ পালন। যারা কোনোদিন দুনিয়ার রঙ দেখেনি, তারা অনুভব করবে কাবাঘরের গিলাফ; যারা আওয়াজ শোনেনি, তারা হৃদয় দিয়ে শুনবে মদিনার প্রশান্তি। মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছে– সুযোগ পেলে এই অবহেলিত মানুষগুলোই হতে পারে জাতির সম্পদ। হয়তো তাদের চোখে আলো নেই, কানে শব্দ নেই– কিন্তু তাদের পবিত্র হৃদয়ের আয়নায় আজ জান্নাতের ছবি স্পষ্ট। শুভকামনা এই বীরদের জন্য, যারা অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে খুঁজে নিয়েছে আলোর রাজপথ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, বাংলাদেশে এমন মাদ্রাসা আছে কল্পনায় ছিলো না। অন্ধদের জন্য প্রতিষ্ঠান আছে শুনেছি তবে বধিরদের জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠান দেখলাম। তাদের জন্য কোরআন নতুন করে ছাপানো হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি বধির শিক্ষার্থীদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ উদ্যোগ।

এদিকে মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়ার মুহতামিম বখতিয়ার হুসাইন সরদার বলেন, বর্তমানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা একই ভবনে অবস্থান করলেও, তাদের ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও অনুভূতির কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য আলাদা আবাসিক ও একাডেমিক ভবন স্থাপনের প্রয়োজন প্রকট। এতে তাদের মন-মানসিকতা আরও সুন্দর ও বিকশিত হবে।