ঢাকা , শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াতের ফেসবুক পেজে বিজয়ী ৩৮ প্রার্থীর নাম ৫০ কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থী ডা. তাহের বড় ব্যবধানে এগিয়ে ঢাকা-১০ আসনে ৪ কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে বিএনপি যশোর-২ চৌগাছা ৬০ কেন্দ্রে জামায়াত এগিয়ে, ধানের শীষ পেছনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে ৪৫ কেন্দ্রে এগিয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নিজ কেন্দ্রে ৫ ভোটে পরাজিত জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, জয়ী ধানের শীষের শফিকুল ইসলাম খান ধানের শীষে বিজয়ী নাসির উদ্দিন চৌধুরী, শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত প্রার্থী শিশির মনির ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষে জয়ী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঢাকা-১৫ আসনে ৩০ কেন্দ্রে এগিয়ে ডা. শফিকুর রহমান, দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ ভোটগ্রহণ ঢাকা-৬ আসনে তিন কেন্দ্রে এগিয়ে ইশরাক হোসেন, ধানের শীষে ২৮০০ ভোট

দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ করার সুযোগ পেলেন ২ অন্ধ হাফেজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

এবার অন্ধকার আর স্তব্ধতা কি দমাতে পারে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে? দক্ষিণখানের সরদার বাড়িতে গড়ে ওঠা ‘মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া’ সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প বলছে। এখানে চোখের আলো নেই, কিন্তু অন্তরে আছে কোরআনের আলো; কানে শোনার ক্ষমতা নেই, কিন্তু আত্মায় আছে মহান আল্লাহর ডাক। এখানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই সমান তালে লড়ে যাচ্ছে। বেফাক-এর অধীনে তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় পরীক্ষায়। আমরা অবাক হয়ে দেখি, দৃষ্টিহীন এই কিশোরেরা কীভাবে হাজার হাজার পৃষ্ঠা মুখস্থ করে হাফেজে কুরআন হচ্ছে। তাদের আঙুলের ডগা যখন ব্রেইল কুরআনের ওপর দিয়ে দ্রুত ছুটে চলে, মনে হয় ফেরেশতারাও বুঝি অবাক হয়ে তাদের এই সাধনা দেখছে।

এদিকে সাফল্যের এই মিছিলে এবার যোগ হয়েছে নতুন ইতিহাস। এই মাদ্রাসা থেকে দুজন অদম্য মেধাবী ছাত্র এবার কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’ বা মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পুরস্কার হিসেবে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে জীবনের পরম পাওয়া– পবিত্র উমরাহ পালন। যারা কোনোদিন দুনিয়ার রঙ দেখেনি, তারা অনুভব করবে কাবাঘরের গিলাফ; যারা আওয়াজ শোনেনি, তারা হৃদয় দিয়ে শুনবে মদিনার প্রশান্তি। মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছে– সুযোগ পেলে এই অবহেলিত মানুষগুলোই হতে পারে জাতির সম্পদ। হয়তো তাদের চোখে আলো নেই, কানে শব্দ নেই– কিন্তু তাদের পবিত্র হৃদয়ের আয়নায় আজ জান্নাতের ছবি স্পষ্ট। শুভকামনা এই বীরদের জন্য, যারা অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে খুঁজে নিয়েছে আলোর রাজপথ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, বাংলাদেশে এমন মাদ্রাসা আছে কল্পনায় ছিলো না। অন্ধদের জন্য প্রতিষ্ঠান আছে শুনেছি তবে বধিরদের জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠান দেখলাম। তাদের জন্য কোরআন নতুন করে ছাপানো হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি বধির শিক্ষার্থীদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ উদ্যোগ।

এদিকে মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়ার মুহতামিম বখতিয়ার হুসাইন সরদার বলেন, বর্তমানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা একই ভবনে অবস্থান করলেও, তাদের ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও অনুভূতির কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য আলাদা আবাসিক ও একাডেমিক ভবন স্থাপনের প্রয়োজন প্রকট। এতে তাদের মন-মানসিকতা আরও সুন্দর ও বিকশিত হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের ফেসবুক পেজে বিজয়ী ৩৮ প্রার্থীর নাম

দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ করার সুযোগ পেলেন ২ অন্ধ হাফেজ

আপডেট সময় ১১:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

এবার অন্ধকার আর স্তব্ধতা কি দমাতে পারে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে? দক্ষিণখানের সরদার বাড়িতে গড়ে ওঠা ‘মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া’ সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প বলছে। এখানে চোখের আলো নেই, কিন্তু অন্তরে আছে কোরআনের আলো; কানে শোনার ক্ষমতা নেই, কিন্তু আত্মায় আছে মহান আল্লাহর ডাক। এখানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই সমান তালে লড়ে যাচ্ছে। বেফাক-এর অধীনে তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় পরীক্ষায়। আমরা অবাক হয়ে দেখি, দৃষ্টিহীন এই কিশোরেরা কীভাবে হাজার হাজার পৃষ্ঠা মুখস্থ করে হাফেজে কুরআন হচ্ছে। তাদের আঙুলের ডগা যখন ব্রেইল কুরআনের ওপর দিয়ে দ্রুত ছুটে চলে, মনে হয় ফেরেশতারাও বুঝি অবাক হয়ে তাদের এই সাধনা দেখছে।

এদিকে সাফল্যের এই মিছিলে এবার যোগ হয়েছে নতুন ইতিহাস। এই মাদ্রাসা থেকে দুজন অদম্য মেধাবী ছাত্র এবার কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’ বা মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পুরস্কার হিসেবে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে জীবনের পরম পাওয়া– পবিত্র উমরাহ পালন। যারা কোনোদিন দুনিয়ার রঙ দেখেনি, তারা অনুভব করবে কাবাঘরের গিলাফ; যারা আওয়াজ শোনেনি, তারা হৃদয় দিয়ে শুনবে মদিনার প্রশান্তি। মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছে– সুযোগ পেলে এই অবহেলিত মানুষগুলোই হতে পারে জাতির সম্পদ। হয়তো তাদের চোখে আলো নেই, কানে শব্দ নেই– কিন্তু তাদের পবিত্র হৃদয়ের আয়নায় আজ জান্নাতের ছবি স্পষ্ট। শুভকামনা এই বীরদের জন্য, যারা অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে খুঁজে নিয়েছে আলোর রাজপথ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, বাংলাদেশে এমন মাদ্রাসা আছে কল্পনায় ছিলো না। অন্ধদের জন্য প্রতিষ্ঠান আছে শুনেছি তবে বধিরদের জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠান দেখলাম। তাদের জন্য কোরআন নতুন করে ছাপানো হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি বধির শিক্ষার্থীদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ উদ্যোগ।

এদিকে মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়ার মুহতামিম বখতিয়ার হুসাইন সরদার বলেন, বর্তমানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা একই ভবনে অবস্থান করলেও, তাদের ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও অনুভূতির কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য আলাদা আবাসিক ও একাডেমিক ভবন স্থাপনের প্রয়োজন প্রকট। এতে তাদের মন-মানসিকতা আরও সুন্দর ও বিকশিত হবে।