ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে আদালত চত্বরে বিএনপি নেতাকে গুলির কারণ কী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারে আদালত চত্বরে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলির ঘটনার কারণ হিসেবে স্থানীয় আধিপত্য ও রাজনৈতিক বিরোধকে চিহ্নিত করেছেন স্বজনরা। পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের। আদালতের দুই পাশে পুলিশি উপস্থিতি থাকলেও প্রকাশ্য গুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।

 

রোববার (২৪ মে) বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজার জেলা দায়রা জজ আদালত চত্বরে গুলির ঘটনাটি ঘটে। এতে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী সিকদার এবং তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন।

 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) অহিদুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ মঈন উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ জিয়াউল হক জিয়া নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। আটক জিয়ার বাড়ি ঈদগাঁও উপজেলার কালিরছড়া এলাকায়। বর্তমানে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

কক্সবাজারে আদালতে হাজিরা দিতে আসা বিএনপি নেতাকে গুলি

প্রত্যক্ষদর্শী ও লিয়াকত আলীর ছোট ভাই মোহাম্মদ জায়েদ জানান, লিয়াকত আলীর একটি মামলার হাজিরা ছিল। আদালতে প্রবেশের সময় ৬-৭ জনের একটি দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় লিয়াকত আলী আদালতে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন।

 

তিনি আরও জানান, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে খালেক বাহিনীর সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। হামলায় ওই বাহিনীর সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে। হামলার পর লোকজন ধাওয়া দিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। হামলায় অংশ নেওয়া অন্যরা মোটরসাইকেল ও একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে পালিয়ে যায়।

 

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

 

প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। কক্সবাজার আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ বলেন, এক পাশে পুলিশ সুপারের কার্যালয়, অন্য পাশে কোর্ট পুলিশ। এর মাঝখানে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা আইনজীবীরাও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে আদালত চত্বরে বিএনপি নেতাকে গুলির কারণ কী

আপডেট সময় ১১:২৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

কক্সবাজারে আদালত চত্বরে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলির ঘটনার কারণ হিসেবে স্থানীয় আধিপত্য ও রাজনৈতিক বিরোধকে চিহ্নিত করেছেন স্বজনরা। পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের। আদালতের দুই পাশে পুলিশি উপস্থিতি থাকলেও প্রকাশ্য গুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।

 

রোববার (২৪ মে) বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজার জেলা দায়রা জজ আদালত চত্বরে গুলির ঘটনাটি ঘটে। এতে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী সিকদার এবং তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন।

 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) অহিদুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ মঈন উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ জিয়াউল হক জিয়া নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। আটক জিয়ার বাড়ি ঈদগাঁও উপজেলার কালিরছড়া এলাকায়। বর্তমানে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

কক্সবাজারে আদালতে হাজিরা দিতে আসা বিএনপি নেতাকে গুলি

প্রত্যক্ষদর্শী ও লিয়াকত আলীর ছোট ভাই মোহাম্মদ জায়েদ জানান, লিয়াকত আলীর একটি মামলার হাজিরা ছিল। আদালতে প্রবেশের সময় ৬-৭ জনের একটি দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় লিয়াকত আলী আদালতে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন।

 

তিনি আরও জানান, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে খালেক বাহিনীর সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। হামলায় ওই বাহিনীর সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে। হামলার পর লোকজন ধাওয়া দিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। হামলায় অংশ নেওয়া অন্যরা মোটরসাইকেল ও একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে পালিয়ে যায়।

 

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

 

প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। কক্সবাজার আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ বলেন, এক পাশে পুলিশ সুপারের কার্যালয়, অন্য পাশে কোর্ট পুলিশ। এর মাঝখানে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা আইনজীবীরাও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।