ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যা মামলা: ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মিলেছে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

এবার রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট প্রস্তুত হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া ডিএনএ প্রোফাইলিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে সোহেল রানাই ধর্ষণ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং শিশু ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রের ড্রাফট তৈরি করা হয়েছে। আজ রোববার আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হতে পারে। সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বর্ণনাও দেন তিনি। রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্টে এসেছে তাকে মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।  তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্র জমার জন্য যা যা কাজ আছে তা প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। সরকার ঘোষিত রোববারের মধ্যেই অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।  

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববারের ভেতরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার জন্য কাজ করছি। এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে, আমরা সেগুলো প্রসেস করছি। তারপর কারিগরি বিষয় আছে। অভিযোগপত্র তো আগের মতো হাতে লেখা হয় না। এটা সিডিএমএসে এন্ট্রি দিতে হবে। সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। 

মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ : রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে শনিবার মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯২ ধারার বিধান মতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্লবী থানার মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা হত্যা মামলা: ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মিলেছে

আপডেট সময় ১০:২১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

এবার রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট প্রস্তুত হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া ডিএনএ প্রোফাইলিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে সোহেল রানাই ধর্ষণ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং শিশু ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রের ড্রাফট তৈরি করা হয়েছে। আজ রোববার আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হতে পারে। সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বর্ণনাও দেন তিনি। রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্টে এসেছে তাকে মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।  তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্র জমার জন্য যা যা কাজ আছে তা প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। সরকার ঘোষিত রোববারের মধ্যেই অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।  

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববারের ভেতরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার জন্য কাজ করছি। এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে, আমরা সেগুলো প্রসেস করছি। তারপর কারিগরি বিষয় আছে। অভিযোগপত্র তো আগের মতো হাতে লেখা হয় না। এটা সিডিএমএসে এন্ট্রি দিতে হবে। সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। 

মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ : রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে শনিবার মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯২ ধারার বিধান মতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্লবী থানার মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।