বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর রাইডশেয়ারিং সেবার যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। স্মার্টফোন, মোবাইল ইন্টারনেট ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসারের সঙ্গে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় এই খাত। শুরুতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর থাকলেও পরে যুক্ত হয় অ্যাপভিত্তিক সিএনজি অটোরিকশা সেবা।
তবে সম্প্রতি রাইডশেয়ারিং নীতিমালা থেকে অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বাদ দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি মহলের চাপে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ—বিআরটিএ এমন সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে। যদিও এখনো এটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি।
জানা গেছে, গত ৩ মে রাইডশেয়ারিং খাতের অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা নীতিমালা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিআরটিএ।
বর্তমানে দেশে ১৮টি রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সক্রিয় রয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৩৫ হাজার যানবাহন এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যাত্রীসেবা দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অ্যাপভিত্তিক সেবার কারণে যাত্রীরা সহজেই গাড়ি বুকিং, ভাড়া সম্পর্কে ধারণা, চালকের পরিচয় যাচাই, জিপিএস ট্র্যাকিং এবং যাত্রার ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণের সুবিধা পাচ্ছেন। এতে বেড়েছে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা।
তাদের আশঙ্কা, অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বন্ধ হলে যাত্রী নিরাপত্তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাও। কারণ ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিটি যাত্রার তথ্য সংরক্ষিত থাকায় ভ্যাট ও অন্যান্য রাজস্ব আদায়ে নজরদারি সহজ হয়।
রাইডশেয়ারিং খাত শুধু যাত্রীসেবাই নয়, কর্মসংস্থানেও বড় ভূমিকা রাখছে। হাজারো চালক এই খাতের মাধ্যমে পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন আয়ের সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি, বীমা, ডিজিটাল পেমেন্ট ও প্রযুক্তি খাতেও তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান।
যাত্রীদের অনেকেই বলছেন, অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবার কারণে ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি কমেছে এবং নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে এই সেবা বেশি স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন তারা।
চালকরাও বলছেন, অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রী পাওয়ায় আগের মতো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না। নির্ধারিত ভাড়ার কারণে যাত্রীদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনাও কমেছে।
রাইডশেয়ারিং অপারেটরদের সংগঠন ও খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা হঠাৎ বন্ধ হলে চালক, মালিক ও সাধারণ যাত্রী—সবাই ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাদের দাবি, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সেবাকে বাদ না দিয়ে বরং আরও উন্নত ও নিয়ন্ত্রিত করা উচিত।
তাদের মতে, ২০১৯ সালেই অ্যাপে সিএনজি অটোরিকশা সেবা চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছিল বিআরটিএ। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধান বের করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা চালু রাখা হলে যাত্রী নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সরকারি রাজস্ব—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব অব্যাহত থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























