ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি যুবরাজের রহস্যময় মৃত্যু, তদন্তে ভয়াবহ মাদক গ্রহণের তথ্য

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

লন্ডনের একটি পাঁচতারা হোটেলে সৌদি রাজপরিবারের এক যুবরাজের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যুক্তরাজ্যের মৃত্যু তদন্তকারী কর্মকর্তা বা করোনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল, পার্টি ড্রাগ এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধের মারাত্মক মিশ্রণের কারণেই হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে হত্যা বা আত্মহত্যার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত যুবরাজের নাম আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউয়ি আল সৌদ। গত বছরের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটনের একটি ম্যারিয়ট হোটেলের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দরজা খুলে বাথরুমের মেঝেতে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তদন্তে পাওয়া বিষতত্ত্ব প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুবরাজের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল যুক্তরাজ্যে বৈধ সীমার প্রায় তিন গুণ। এছাড়া তার শরীরে জিএইচবি নামের পার্টি ড্রাগ, গাঁজা এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধ জ্যানাক্সসহ একাধিক ওষুধের বিপজ্জনক মাত্রা পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তে তার কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার প্রমাণ মেলেনি।

পুলিশের তদন্তে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের সন্ধ্যায় যুবরাজ একাই হোটেলের বাইরে যান এবং পরে একাই নিজের কক্ষে ফিরে আসেন। কক্ষে অন্য কারও প্রবেশের প্রমাণ কিংবা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।

সহকারী করোনার জিন হারকিন বলেন, যুবরাজ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। বরং একাধিক মাদক ও ওষুধের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়াতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

শুনানিতে আরও জানানো হয়, মৃত্যুর আগে যুবরাজ মাদকাসক্তি ও মানসিক অবসাদের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তিনি লন্ডনের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত ফলোআপ চিকিৎসা আর চালিয়ে যাননি।

ঘটনার কয়েক দিন পর সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। পরে রিয়াদে রাজকীয় মর্যাদায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজপরিবারের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি যুবরাজের রহস্যময় মৃত্যু, তদন্তে ভয়াবহ মাদক গ্রহণের তথ্য

আপডেট সময় ০৩:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

লন্ডনের একটি পাঁচতারা হোটেলে সৌদি রাজপরিবারের এক যুবরাজের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যুক্তরাজ্যের মৃত্যু তদন্তকারী কর্মকর্তা বা করোনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল, পার্টি ড্রাগ এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধের মারাত্মক মিশ্রণের কারণেই হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে হত্যা বা আত্মহত্যার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত যুবরাজের নাম আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউয়ি আল সৌদ। গত বছরের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটনের একটি ম্যারিয়ট হোটেলের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দরজা খুলে বাথরুমের মেঝেতে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তদন্তে পাওয়া বিষতত্ত্ব প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুবরাজের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল যুক্তরাজ্যে বৈধ সীমার প্রায় তিন গুণ। এছাড়া তার শরীরে জিএইচবি নামের পার্টি ড্রাগ, গাঁজা এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধ জ্যানাক্সসহ একাধিক ওষুধের বিপজ্জনক মাত্রা পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তে তার কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার প্রমাণ মেলেনি।

পুলিশের তদন্তে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের সন্ধ্যায় যুবরাজ একাই হোটেলের বাইরে যান এবং পরে একাই নিজের কক্ষে ফিরে আসেন। কক্ষে অন্য কারও প্রবেশের প্রমাণ কিংবা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।

সহকারী করোনার জিন হারকিন বলেন, যুবরাজ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। বরং একাধিক মাদক ও ওষুধের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়াতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

শুনানিতে আরও জানানো হয়, মৃত্যুর আগে যুবরাজ মাদকাসক্তি ও মানসিক অবসাদের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তিনি লন্ডনের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত ফলোআপ চিকিৎসা আর চালিয়ে যাননি।

ঘটনার কয়েক দিন পর সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। পরে রিয়াদে রাজকীয় মর্যাদায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজপরিবারের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।