এবার ওমানের পূর্ব উপকূলের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি কেপ দাও–এ হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জাহাজে থাকা আরও ১৯ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত নাবিকের নাম সুরজ যাদব। তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলার বাসিন্দা। খবর এনডিটিভির।
বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ওমানের পূর্ব উপকূলের কাছে বুধবার বাণিজ্যিক জাহাজটিতে হামলার ঘটনায় ২০ ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। একজন ভারতীয় নাগরিক ‘দুঃখজনকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন’। নিহত নাবিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনতে ওমানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে মাসকাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।
হামলার বিষয়ে ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এফএসইউআই) জানিয়েছে, জাহাজটিতে দুটি টর্পেডো আঘাত হানে। এর একটি জাহাজের বাম পাশের সি–ডেকে আঘাত করে, যেখানে নাবিকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। অপরটি বাম পাশের হালে, ইঞ্জিন কক্ষের কাছে আঘাত করে। ইউনিয়নটি জানায়, জাহাজটিতে মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন ভারতীয় নাগরিক। তবে এই সংখ্যা ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের দেওয়া ১৯ জনের তথ্যের সঙ্গে ভিন্ন। এক বিবৃতিতে এফএসইউআই বলেছে, এ অঞ্চলে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, এই হামলার পর তার কোনো অর্থ নেই। সংগঠনটির মতে, ‘হরমুজের আশপাশে নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের হত্যা করা হচ্ছে।’
ঘটনার জন্য অবিলম্বে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের নৌপথ ব্যবহারকারী নাবিকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত এবং নিহত সুরজ যাদবসহ ঝুঁকিতে থাকা সব ভারতীয় নাবিকের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বাণিজ্যিক জাহাজে চলমান হামলাকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে। উত্তেজনা কমাতে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। মন্ত্রণালয় বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ, নাবিক ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অঞ্চলটির আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। সূত্র : এনডিটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট 


















