ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘একসঙ্গে ফিরছিল, একসঙ্গে চলেও গেল ৯ বন্ধু’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

মাত্র এক হাজার ৮০০ টাকা বাসের অতিরিক্ত ভাড়া বাঁচাতে গিয়ে একসঙ্গে প্রাণ হারালেন নয় বন্ধু। ঈদ উপলক্ষে নোয়াখালী ও ফেনী থেকে একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারান। এই দুর্ঘটনায় রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে নয়জনই ছিলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাসিন্দা।

 

জানা গেছে, তারা সমবয়সী ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। জীবিকার সন্ধানে একত্রে বাড়ি ছেড়েছিলেন। আবার ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেও ফিরছিলেন একসঙ্গেই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের সেই শেষ যাত্রাও হলো একসঙ্গে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নোয়াখালী ও ফেনী থেকে রড বোঝাই একটি ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে আসছিল। যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ট্রাকটি উল্টে যায়।

 

ট্রাকে থাকা ভারী রডের নিচে চাপা পড়েন যাত্রীরা। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান কয়েকজন, আর হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

অভাবের সংসার ও ১৮০০ টাকার ব্যবধান

 

নিহত তরুণরা নোয়াখালী ও ফেনী এলাকায় ফেরি করে ভাঙা মোবাইল, প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি এবং মানুষের ফেলে দেওয়া চুল সংগ্রহের কাজ করতেন। যা আয় হতো তা দিয়ে চলতো গ্রামের দরিদ্র বাবা-মার সংসার।

 

নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন আর্তনাদ করে বলেন, ‘ওরা নয়জনই সমবয়সী ছিল, একে অপরের জানের বন্ধু ছিল। নোয়াখালীতে সবাই একসঙ্গেই থাকতো আর কাজ করতো। ঈদে বাড়ি আসার সময় বাসের দালালেরা ১৮০০ টাকা বেশি ভাড়া চাচ্ছিল। সামান্য এই টাকাটা বাঁচিয়ে মা-বাবার হাতে তুলে দেবে বলে ওরা সবাই মিলে একটা ট্রাকে উঠেছিল। কিন্তু এই সামান্য টাকাই ওদের সবার জীবন কেড়ে নিল।’

 

কান্নায় ভারী ভারশোঁ ইউনিয়নের বাতাস

 

নিহত নয় বন্ধুর বাড়িই নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। একই বয়সের নয়টি তরতাজা যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো উপজেলায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা। পরিবারগুলোর উপার্জনক্ষম সন্তানদের হারিয়ে মা-বাবারা এখন দিশেহারা।

 

নিহতদের পরিচয়

 

নিহতরা হলেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের সুলতান হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, আব্দুর রশিদের ছেলে মো. আব্দুল বারেক, আব্দুর রহিমের মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বরের ছেলে মো. সোহাগ, শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর; মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম, পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল ও মোহাম্মদ গিয়াস; এ ছাড়াও আরেকজনের পরিচয় জানা যাযনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘একসঙ্গে ফিরছিল, একসঙ্গে চলেও গেল ৯ বন্ধু’

আপডেট সময় ১১:০৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

মাত্র এক হাজার ৮০০ টাকা বাসের অতিরিক্ত ভাড়া বাঁচাতে গিয়ে একসঙ্গে প্রাণ হারালেন নয় বন্ধু। ঈদ উপলক্ষে নোয়াখালী ও ফেনী থেকে একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারান। এই দুর্ঘটনায় রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে নয়জনই ছিলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাসিন্দা।

 

জানা গেছে, তারা সমবয়সী ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। জীবিকার সন্ধানে একত্রে বাড়ি ছেড়েছিলেন। আবার ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেও ফিরছিলেন একসঙ্গেই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের সেই শেষ যাত্রাও হলো একসঙ্গে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নোয়াখালী ও ফেনী থেকে রড বোঝাই একটি ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে আসছিল। যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ট্রাকটি উল্টে যায়।

 

ট্রাকে থাকা ভারী রডের নিচে চাপা পড়েন যাত্রীরা। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান কয়েকজন, আর হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

অভাবের সংসার ও ১৮০০ টাকার ব্যবধান

 

নিহত তরুণরা নোয়াখালী ও ফেনী এলাকায় ফেরি করে ভাঙা মোবাইল, প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি এবং মানুষের ফেলে দেওয়া চুল সংগ্রহের কাজ করতেন। যা আয় হতো তা দিয়ে চলতো গ্রামের দরিদ্র বাবা-মার সংসার।

 

নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন আর্তনাদ করে বলেন, ‘ওরা নয়জনই সমবয়সী ছিল, একে অপরের জানের বন্ধু ছিল। নোয়াখালীতে সবাই একসঙ্গেই থাকতো আর কাজ করতো। ঈদে বাড়ি আসার সময় বাসের দালালেরা ১৮০০ টাকা বেশি ভাড়া চাচ্ছিল। সামান্য এই টাকাটা বাঁচিয়ে মা-বাবার হাতে তুলে দেবে বলে ওরা সবাই মিলে একটা ট্রাকে উঠেছিল। কিন্তু এই সামান্য টাকাই ওদের সবার জীবন কেড়ে নিল।’

 

কান্নায় ভারী ভারশোঁ ইউনিয়নের বাতাস

 

নিহত নয় বন্ধুর বাড়িই নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। একই বয়সের নয়টি তরতাজা যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো উপজেলায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা। পরিবারগুলোর উপার্জনক্ষম সন্তানদের হারিয়ে মা-বাবারা এখন দিশেহারা।

 

নিহতদের পরিচয়

 

নিহতরা হলেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের সুলতান হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, আব্দুর রশিদের ছেলে মো. আব্দুল বারেক, আব্দুর রহিমের মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বরের ছেলে মো. সোহাগ, শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর; মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম, পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল ও মোহাম্মদ গিয়াস; এ ছাড়াও আরেকজনের পরিচয় জানা যাযনি।