ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশের পর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে পার্কিং বন্ধ ‘আম্মারের দেখানো খরচ অবাস্তব’, যা বললেন শিবির সভাপতি মিউজিকের সঙ্গে গান না গাওয়ার ঘোষণা জামায়াত নেতার ছেলের চাঁদপুরে অর্ধশত ট্রান্সফরমার চুরি, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক ব্যাগের ভেতর থেকে নবজাতক উদ্ধার, শরীরজুড়ে অসংখ্য পিঁপড়া গ্যাসের মূল সমস্যা আমদানি করতে না পারা: তথ্য উপদেষ্টা ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমাতে লবণাক্ত পানি শোধনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যে ধর্ষকদের যৌনাকাঙ্ক্ষা নিঃশেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা এবার জোট করতে ইরানকে ডেকেছে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান শেখ হাসিনাসহ ৭ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

শিগগিরই গ্যাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৩৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের চলমান গ্যাস সংকট দ্রুতই কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান জানান, গ্যাস সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামত করা হলেও দেশে থাকা গ্যাস কার্গোর সরবরাহে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে সরকার।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের পুরো দায় বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাপনার ওপর চাপানো ঠিক হবে না। এফএসআরইউতে দুর্ঘটনার কারণে কয়েক দিনের সংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ছিল। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।

তবে সরকারের ব্যবস্থাপনায় কোথাও অনিয়ম বা অদক্ষতা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পরিবর্তনও করা হচ্ছে।

শিল্পকারখানা সচল রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল একসঙ্গে পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান উপদেষ্টা।

গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে শিল্প খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার সাশ্রয় এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ভোলার সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে আনা হবে, নাকি এলএনজিতে রূপান্তর করা হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিদেশি গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ১ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, গত বছর একই সময়ে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল প্রায় ১২ থেকে ১৪ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে দাম ৩০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে এলএনজির চাহিদা বৃদ্ধি এবং শীত মৌসুমের আগে ইউরোপীয় দেশগুলোর গ্যাস মজুত বাড়ানোর প্রবণতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এ পরিস্থিতিতে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করে ভর্তুকি দেওয়া কিংবা স্বল্পমেয়াদে কিছুটা লোডশেডিং মেনে নেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সরকারকে বলেও জানান তিনি।

গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালানো হচ্ছে। জাহেদ উর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। কাতারের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে অতিরিক্ত গ্যাস আনার বিষয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। তবে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ রয়েছে ২৭০ থেকে ২৮০ কোটি ঘনফুটের মধ্যে। অর্থনীতির পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির চাহিদাও বাড়ছে।

সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ধীরে ধীরে গ্যাস পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন জাহেদ উর রহমান। তবে অর্থমন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, পরিস্থিতি পুরোপুরি ভালো অবস্থায় ফিরতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। যদিও এই পুরো সময়জুড়ে গ্যাস সংকট একই মাত্রায় থাকবে না বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশের পর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে পার্কিং বন্ধ

শিগগিরই গ্যাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

আপডেট সময় ০৩:৩৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশের চলমান গ্যাস সংকট দ্রুতই কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান জানান, গ্যাস সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামত করা হলেও দেশে থাকা গ্যাস কার্গোর সরবরাহে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে সরকার।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের পুরো দায় বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাপনার ওপর চাপানো ঠিক হবে না। এফএসআরইউতে দুর্ঘটনার কারণে কয়েক দিনের সংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ছিল। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।

তবে সরকারের ব্যবস্থাপনায় কোথাও অনিয়ম বা অদক্ষতা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পরিবর্তনও করা হচ্ছে।

শিল্পকারখানা সচল রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল একসঙ্গে পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান উপদেষ্টা।

গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে শিল্প খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার সাশ্রয় এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ভোলার সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে আনা হবে, নাকি এলএনজিতে রূপান্তর করা হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিদেশি গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ১ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, গত বছর একই সময়ে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল প্রায় ১২ থেকে ১৪ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে দাম ৩০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে এলএনজির চাহিদা বৃদ্ধি এবং শীত মৌসুমের আগে ইউরোপীয় দেশগুলোর গ্যাস মজুত বাড়ানোর প্রবণতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এ পরিস্থিতিতে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করে ভর্তুকি দেওয়া কিংবা স্বল্পমেয়াদে কিছুটা লোডশেডিং মেনে নেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সরকারকে বলেও জানান তিনি।

গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালানো হচ্ছে। জাহেদ উর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। কাতারের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে অতিরিক্ত গ্যাস আনার বিষয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। তবে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ রয়েছে ২৭০ থেকে ২৮০ কোটি ঘনফুটের মধ্যে। অর্থনীতির পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির চাহিদাও বাড়ছে।

সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ধীরে ধীরে গ্যাস পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন জাহেদ উর রহমান। তবে অর্থমন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, পরিস্থিতি পুরোপুরি ভালো অবস্থায় ফিরতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। যদিও এই পুরো সময়জুড়ে গ্যাস সংকট একই মাত্রায় থাকবে না বলেও জানান তিনি।