চাঁদপুরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি। চলতি বছরে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অর্ধশতাধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে মতলব উত্তর উপজেলায়। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনে অতিরিক্ত খরচের বোঝা পড়ছে গ্রাহকদের ওপর।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত শুধু মতলব উত্তর উপজেলাতেই ২৪টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এছাড়া হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও শাহরাস্তিতে চুরি হয়েছে আরও ১২টি।
মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. অহিদুজ্জামান জানান, এসব ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সুযোগ বুঝে ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সেগুলো বিক্রি করা হয়।
চুরি ঠেকাতে থানায় মামলা করার পাশাপাশি মাইকিং, উঠান বৈঠক, গণশুনানি ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুরি হওয়া প্রতিটি ট্রান্সফরমারের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে ট্রান্সফরমার চুরির পর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনে প্রথমবার খরচের অর্ধেক এবং পরবর্তী সময়ে পুরো ব্যয় গ্রাহকদের বহন করতে হয়। ফলে বিদ্যুৎহীন থাকার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
পুলিশ জানিয়েছে, চুরির ঘটনায় বিভিন্ন থানায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চোর চক্রের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। তাদের দাবি, লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























