বজ্রপাতে ৭ জেলায় ১৪ জন নিহত
বজ্রপাতে দেশের সাত জেলায় ১৪ জনের প্রাণ গেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, সিরাজগঞ্জে দুইজন, জামালপুরে দুইজন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুইজন, বগুড়ায় একজন, নাটোরে একজন ও পঞ্চগড়ে একজন মারা গেছেন। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গাইবান্ধা
বজ্রপাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় চাচা-ভাতিজাসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রাম, সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রাম এবং ফুলছড়ি উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে পৃথক পৃথক এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জে নিহতরা হলেন ফুয়াদ হাসান (৩৫), রাফি চৌধুরী (৮) ও মিজানুর রহমান (১৮)। ফুয়াদ হাসান ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর ছেলে, রাফি চৌধুরী ছোটন চৌধুরীর ছেলে এবং মিজানুর রহমান নবির হোসেনের ছেলে। নিহত রাফি ও মিজান সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় একই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে শামীম (১৭) আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশে একটি টিনশেড ঘরে গরু নিয়ে আশ্রয় নেন ফুয়াদ হাসান। এ সময় সেখানে রাফি, মিজান ও শামীমও আশ্রয় নেয়। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই ফুয়াদ হাসানের মৃত্যু হয় এবং অপর তিনজন গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফি চৌধুরী ও মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান মন্ডল জানান, বজ্রপাতের ঘটনায় প্রথমে একজন মারা যান এবং আহত তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতের ঘটনায় মোহাম্মদ নাব্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া, ফুলছড়ি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম দেলুয়ার চরে বজ্রপাতের ঘটনায় মানিক মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘোড়ার গাড়িতে করে ভুট্টা নিয়ে যাওয়ার সময় বজ্রপাতের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
একই উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের বুলবুলির চর এলাকায় গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে বজ্রপাতে আলী আকবর (৭০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) মারা যান।
অন্যদিকে, বিকেল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান এলাকায় কাটা ধান জড়ো করার সময় বজ্রপাতে হাসান শেখ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
জামালপুরের সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রপাতে গৃহবধূসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার লক্ষীরচর ইউনিয়নের চরযথার্থপুর এলাকায় নদীপাড়ের চরে গরু চরাতে গিয়ে বিকেলে বজ্রপাতে হাসমত আলী হাসু (৫৫) গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার একটি গরুও মারা যায়।
মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর এলাকার কড়ইচুড়া গ্রামে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা আক্তার (২২) গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শেফালী বেগম নামে আরও একজন আহত হয়েছেন, তিনি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বগুড়া
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মুচিখালী গ্রামে জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বিকেলে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) বেলা পৌনে ২টার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনায় তিনি মারা যান।
অন্যদিকে, নিহত অপরজন কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)। তিনি দুপুরে জমিতে ফসল দেখতে যান। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।
নাটোর
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঠ্যাঙ্গা পাকুরিয়া গ্রামে চলনবিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে চা-বাগানে পাতা সংগ্রহের সময় বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামের এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















