ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
লালমনিরহাটের তিন সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-জনতার বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম, টালমাটাল তৃণমূলে নতুন ধাক্কা রাজনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল নওগাঁ সীমান্তে গভীর রাতে ১৭ জনকে পুশইন, মুখোমুখি বিজিবি-বিএসএফ সাতক্ষীরায় আ.লীগ-বিএনপি-জামায়াত’র ত্রিমুখী সংঘর্ষ হাদি হত্যা মামলা: বাদী নির্বাচন নিয়ে মুখ খুললেন বোন মাসুমা সাহারায় তৃষ্ণায় প্রাণ গেল ৪৯ জনের, বিকল ট্রাকে আটকা ছিলেন যাত্রীরা দ্রুত হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল ৩ কোটি টাকার ‘ডিল’ অভিযোগের জেরে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ ‘রাজপথ ছাড়ব না’, নোয়াখালী সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতার হুঁশিয়ারি

বিএনপি হয়তো মনে করছে তারা ক্ষমতায় আসবে: সারজিস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • ৮৮২ বার পড়া হয়েছে

এবার প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও এনসিসি প্রশ্নে বিএনপি যে শর্ত দিয়েছে তাতে দেশের চেয়ে দলের স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পাওয়ার চিত্র ফুটে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বুধবার (২৫ জুন) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ১০ বছরের মেয়াদে বিএনপি একমত। তবে এনসিসির মতো কমিটি করে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করা হলে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে একমত হওয়া সম্ভব হবে না। অর্থাৎ তিনি শর্তসাপেক্ষে সেটা বলেছেন।

রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য গঠিত কাউন্সিল। যেমন: নির্বাচন কমিশন, PSC, দুদক এমন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে এই কাউন্সিল কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধিসহ কয়েকজন সদস্য মিলে এই কাউন্সিল গঠিত হবে।

ফলে এমন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রকে একটি দলের কাছে জিম্মি করার সুযোগ কমে আসবে। বিরোধী দলের মতামত দেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে। সিদ্ধান্তে ভারসাম্য আসব। দলীয় আনুগত্য প্রদর্শনকারী ব্যক্তির চেয়ে অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রাধান্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

চাইলেই যাকে-তাকে বসিয়ে নির্বাচন ডাকাতি করা, দুদককে কাজে লাগিয়ে অর্থ-সম্পদ লুটপাট করা কিংবা পিএসসিকে প্রভাবিত করে দলীয় লিস্ট থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে না। আমরা যদি বাংলাদেশের সিস্টেমগুলোর প্রকৃত সংস্কারের কথা বলি তাহলে সকল ক্ষেত্রে সম্ভব না হলেও এই সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ অবশ্যই এনসিসি কিংবা যেকোনো নামের এমন কাউন্সিলের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিএনপি যদি এই শর্ত দেয় যে, হয় প্রধানমন্ত্রীর পদে সর্বোচ্চ দশ বছর অথবা এনসিসি, তাহলে এখানে দেশের স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পাওয়ার চিত্র ফুটে ওঠে। বিএনপি হয়তো মনে করছে তারা তো অবধারিত ক্ষমতায় আসবে! তাই সবাই মিলে এনসিসি গঠন করে তাদের নির্বাহী ক্ষমতা হ্রাস করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিএনপির উচিত নিজেদেরকে ক্ষমতার জায়গায় না দেখে নিরপেক্ষ পজিশনে থেকে দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়া। ইভেন তারা নিজেদেরকে বিরোধী দলের জায়গায় রেখেও এই বিষয়টি ভাবতে পারে। কারন একটি দল তো সব সময় ক্ষমতায় থাকবে না।

যদি NCC আর প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর ক্ষমতায় থাকাকে বিএনপি মুখোমুখি দাঁড় করায় এবং একটি বেছে নিতে হয় তবে দেশের স্বার্থে আমি নির্দ্বিধায় NCC কে বেছে নেব। শের স্বার্থে মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস নয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটের তিন সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-জনতার বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

বিএনপি হয়তো মনে করছে তারা ক্ষমতায় আসবে: সারজিস

আপডেট সময় ১১:০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

এবার প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও এনসিসি প্রশ্নে বিএনপি যে শর্ত দিয়েছে তাতে দেশের চেয়ে দলের স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পাওয়ার চিত্র ফুটে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বুধবার (২৫ জুন) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ১০ বছরের মেয়াদে বিএনপি একমত। তবে এনসিসির মতো কমিটি করে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করা হলে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে একমত হওয়া সম্ভব হবে না। অর্থাৎ তিনি শর্তসাপেক্ষে সেটা বলেছেন।

রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য গঠিত কাউন্সিল। যেমন: নির্বাচন কমিশন, PSC, দুদক এমন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে এই কাউন্সিল কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধিসহ কয়েকজন সদস্য মিলে এই কাউন্সিল গঠিত হবে।

ফলে এমন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রকে একটি দলের কাছে জিম্মি করার সুযোগ কমে আসবে। বিরোধী দলের মতামত দেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে। সিদ্ধান্তে ভারসাম্য আসব। দলীয় আনুগত্য প্রদর্শনকারী ব্যক্তির চেয়ে অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রাধান্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

চাইলেই যাকে-তাকে বসিয়ে নির্বাচন ডাকাতি করা, দুদককে কাজে লাগিয়ে অর্থ-সম্পদ লুটপাট করা কিংবা পিএসসিকে প্রভাবিত করে দলীয় লিস্ট থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে না। আমরা যদি বাংলাদেশের সিস্টেমগুলোর প্রকৃত সংস্কারের কথা বলি তাহলে সকল ক্ষেত্রে সম্ভব না হলেও এই সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ অবশ্যই এনসিসি কিংবা যেকোনো নামের এমন কাউন্সিলের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিএনপি যদি এই শর্ত দেয় যে, হয় প্রধানমন্ত্রীর পদে সর্বোচ্চ দশ বছর অথবা এনসিসি, তাহলে এখানে দেশের স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পাওয়ার চিত্র ফুটে ওঠে। বিএনপি হয়তো মনে করছে তারা তো অবধারিত ক্ষমতায় আসবে! তাই সবাই মিলে এনসিসি গঠন করে তাদের নির্বাহী ক্ষমতা হ্রাস করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিএনপির উচিত নিজেদেরকে ক্ষমতার জায়গায় না দেখে নিরপেক্ষ পজিশনে থেকে দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়া। ইভেন তারা নিজেদেরকে বিরোধী দলের জায়গায় রেখেও এই বিষয়টি ভাবতে পারে। কারন একটি দল তো সব সময় ক্ষমতায় থাকবে না।

যদি NCC আর প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর ক্ষমতায় থাকাকে বিএনপি মুখোমুখি দাঁড় করায় এবং একটি বেছে নিতে হয় তবে দেশের স্বার্থে আমি নির্দ্বিধায় NCC কে বেছে নেব। শের স্বার্থে মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস নয়।