ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফের আলোচনায় মিল্টন সমাদ্দার, বৃদ্ধাকে আশ্রয় দিতে যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর রংপুরের ৪ খুনে অল্প সময়ে অপরাধী গ্রেপ্তার না হলে সুনাম ক্ষুণ্ন হতো: রিজভী গত ছয় মাসে পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন মোদি বাসচাপায় আহত সেনাসদস্য, নিহত স্ত্রী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন মোদি ভারত-পাকিস্তানের জাহাজসহ ৪৫টি নৌযান ইরানের কালো তালিকায় অপরাধ ঘটলেই গ্রেপ্তার হচ্ছে, এটাই সরকারের কৃতিত্ব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরের ঘটনায় দ্রুত সময়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে বাংলাভাষী মুসলিমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘের কড়া বার্তা

ভারতে বাংলাভাষী মুসলিমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘের কড়া বার্তা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

ভারতে আদিবাসী, দলিতসহ বিভিন্ন বঞ্চিত জনগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি—সিইআরডি।

মঙ্গলবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সিইআরডির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন জাতিগত, ধর্মীয় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি, বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং ভারতের নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

কমিটির অভিযোগ, এসব জনগোষ্ঠী জাতিগত বিদ্বেষ থেকে সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, বেআইনি আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার ও যৌন সহিংসতার মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।

বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে জরুরি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ভারতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথার প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সিইআরডি। কমিটির সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের বিরুদ্ধে বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সূচক থাকা প্রয়োজন।

সিইআরডি জাতিসংঘের ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি। জাতিগত বৈষম্য বিলোপসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদের অধীনে সদস্য দেশগুলো তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে সংস্থাটি।

২০০৭ সালের পর চলতি আগস্টে প্রথমবারের মতো সিইআরডির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।

পর্যালোচনায় ভারতের বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য এবং জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বিষয়টি তুলে ধরে দেশটির প্রতিনিধি দল। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে সিইআরডির সুপারিশ কোনো দেশের জন্য সরাসরি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তারপরও জাতিগত বৈষম্য, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণ ভারতের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ও ভাবমূর্তির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফের আলোচনায় মিল্টন সমাদ্দার, বৃদ্ধাকে আশ্রয় দিতে যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর

ভারতে বাংলাভাষী মুসলিমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘের কড়া বার্তা

আপডেট সময় ১২:২৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে আদিবাসী, দলিতসহ বিভিন্ন বঞ্চিত জনগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি—সিইআরডি।

মঙ্গলবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সিইআরডির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন জাতিগত, ধর্মীয় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি, বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং ভারতের নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

কমিটির অভিযোগ, এসব জনগোষ্ঠী জাতিগত বিদ্বেষ থেকে সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, বেআইনি আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার ও যৌন সহিংসতার মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।

বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে জরুরি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ভারতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথার প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সিইআরডি। কমিটির সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের বিরুদ্ধে বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সূচক থাকা প্রয়োজন।

সিইআরডি জাতিসংঘের ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি। জাতিগত বৈষম্য বিলোপসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদের অধীনে সদস্য দেশগুলো তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে সংস্থাটি।

২০০৭ সালের পর চলতি আগস্টে প্রথমবারের মতো সিইআরডির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।

পর্যালোচনায় ভারতের বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য এবং জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বিষয়টি তুলে ধরে দেশটির প্রতিনিধি দল। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে সিইআরডির সুপারিশ কোনো দেশের জন্য সরাসরি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তারপরও জাতিগত বৈষম্য, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণ ভারতের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ও ভাবমূর্তির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।