কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জোর করে কোনো পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, এটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রত্যক্ষ সমস্যা এবং সমাধানের দায়িত্বও তাদের নিজেদের কাঁধেই বহন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে অনেক জটিল আন্তর্জাতিক ইস্যু রয়েছে। তবে ভারত বা পাকিস্তান চাইলে তিনি সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হবে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণেও ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাত বন্ধের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, সংকটকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছিল।
প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল পহেলগামে হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হামলা চালায়। পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তানও। কয়েকদিনের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়, যা নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।
তবে নয়াদিল্লি এ দাবি নাকচ করেছে। ভারতের মতে, যুদ্ধবিরতি হয়েছিল দুই দেশের সেনাবাহিনীর সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে, কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় নয়। পাকিস্তানও পহেলগাম হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট—এটি একটি দ্বিপাক্ষিক সমস্যা, যেখানে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একই সুরে বলছে, সমাধানের ভার দুই প্রতিবেশী দেশের হাতেই থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























