ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি, থানায় জিডি করলেন অপ্রতিমের বাবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা হারাম: পেজেশকিয়ান সাদিক কায়েমকে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয়ে সতর্ক করলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী শাশুড়িকে সম্মান না করায় ছেলেকে চড়, পরে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা বিনিময়ে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ট্যুরে যেতে টিকিট কেটে দেয়ার অফার দেয় শিক্ষক, ছাত্রদল নেত্রীর পোস্ট সময়মতো যুদ্ধের অস্ত্র পৌঁছে অথচ কৃষক সার পায় না: জাতিসংঘে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ইরানের ৭ দিনের শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে পিছু হটবে না ইরান: মোহাম্মদ সালেহ ১২ বছর আগের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে শিবির: হামিম চীনের গোয়েন্দা তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের হামলা আরও নিখুঁত হচ্ছে

চীনের গোয়েন্দা তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের হামলা আরও নিখুঁত হচ্ছে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

এবার চীনা একাধিক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা সহায়তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজে আঘাত হানার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিএনএন এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা স্যাটেলাইট তথ্যের সাহায্যে গত জুলাইয়ে জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায় ইরান, যাতে তিনজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী হামলা চালানোর একক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ইরানের ছিল না।

এ ছাড়া চীনা ভৌগোলিক তথ্যের ওপর ভর করে হরমুজ প্রণালিতে নৌযানের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে ইরান। এর ফলে তাদের সাধারণ তাপদাহ–সংবেদনশীল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সঠিক সময়ে উৎক্ষেপণ করে মার্কিন রণতরি ও বাণিজ্যিক জাহাজে সহজে আঘাত হানতে পারছে। ইরানি হামলাই লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার ক্ষেত্রে চীনা সহায়তার পাশাপাশি রাশিয়ার কারিগরি সমর্থন এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ফলে অর্জিত ইরানি সেনাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভূমিকা রয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দারা জানান। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও ইতিপূর্বে জর্ডান হামলায় চীনা স্যাটেলাইট ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করেছিল।

তবে এই সহযোগিতা চীনা সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশে হচ্ছে নাকি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ঘটছে, তা নিশ্চিত হতে পারেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, চীন সব আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করে এবং ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরোধিতা করে। যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে এসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তারা বৈঠকে ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন। চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ জানান, ইরানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেকোনো সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বিষয়ে সরাসরি বিস্তারিত মন্তব্য না করে জানান, চীনের এসব পদক্ষেপ সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারেনি। এ ছাড়া চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীতে হামলার কাজে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করার অভিযোগে তিনটি চীনা স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মার্কিন প্রশাসন। যুদ্ধের সাত মাস অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গে ইরান সামরিক দিক থেকে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। তারা মার্কিন এমকিউ–৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার পাশাপাশি নিচু ও মাঝারি উচ্চতায় চলা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হামলা অব্যাহত রেখেছে। পেন্টাগনের পরিদর্শক জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম মাসগুলোতে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ইউএই, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটির একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: সিএনএন

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি, থানায় জিডি করলেন অপ্রতিমের বাবা

চীনের গোয়েন্দা তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের হামলা আরও নিখুঁত হচ্ছে

আপডেট সময় ১০:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার চীনা একাধিক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা সহায়তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজে আঘাত হানার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিএনএন এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা স্যাটেলাইট তথ্যের সাহায্যে গত জুলাইয়ে জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায় ইরান, যাতে তিনজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী হামলা চালানোর একক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ইরানের ছিল না।

এ ছাড়া চীনা ভৌগোলিক তথ্যের ওপর ভর করে হরমুজ প্রণালিতে নৌযানের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে ইরান। এর ফলে তাদের সাধারণ তাপদাহ–সংবেদনশীল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সঠিক সময়ে উৎক্ষেপণ করে মার্কিন রণতরি ও বাণিজ্যিক জাহাজে সহজে আঘাত হানতে পারছে। ইরানি হামলাই লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার ক্ষেত্রে চীনা সহায়তার পাশাপাশি রাশিয়ার কারিগরি সমর্থন এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ফলে অর্জিত ইরানি সেনাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভূমিকা রয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দারা জানান। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও ইতিপূর্বে জর্ডান হামলায় চীনা স্যাটেলাইট ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করেছিল।

তবে এই সহযোগিতা চীনা সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশে হচ্ছে নাকি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ঘটছে, তা নিশ্চিত হতে পারেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, চীন সব আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করে এবং ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরোধিতা করে। যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে এসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তারা বৈঠকে ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন। চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ জানান, ইরানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেকোনো সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বিষয়ে সরাসরি বিস্তারিত মন্তব্য না করে জানান, চীনের এসব পদক্ষেপ সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারেনি। এ ছাড়া চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীতে হামলার কাজে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করার অভিযোগে তিনটি চীনা স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মার্কিন প্রশাসন। যুদ্ধের সাত মাস অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গে ইরান সামরিক দিক থেকে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। তারা মার্কিন এমকিউ–৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার পাশাপাশি নিচু ও মাঝারি উচ্চতায় চলা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হামলা অব্যাহত রেখেছে। পেন্টাগনের পরিদর্শক জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম মাসগুলোতে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ইউএই, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটির একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: সিএনএন