ঢাকা , রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এখন স্বপ্ন দেখাটাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে: আমির হামজা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

এবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া৩ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি নরসিংদী ও রাজধানীর রামপুরায় ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ঘটনা উল্লেখ করে দ্রুত বিচার ও প্রশাসনিক জবাবদিহি দাবি করেন।

পোস্টে আমির হামজা লিখেছেন, ‘ফ্যাসিবাদ উত্তর বাংলাদেশে আমাদের পরিকল্পনা ছিল, দেশটাকে ঢেলে সাজানোর। ইচ্ছা ছিল সবকিছু নতুনভাবে শুরু করার। পুরোনো বন্দোবস্তের মতো ক্ষমতার অপপ্রয়োগ আর দেখা লাগবে নাএটাই ছিল আমাদের কাম্য। আমরা সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই এগিয়ে চলেছিলাম। কিন্তু, অতি দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে, বিগত কয়েকদিন ধরে আমরা আমাদের সেই স্বপ্নের ওপরে কেবল বালিচাপা পড়তেই দেখছি। বালিচাপার অন্তরাল থেকে মাথা বের করে স্বপ্ন দেখাটা পর্যন্ত দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে।

তিনি আরও লেখেন, ‘বলছিলাম, গত তিন দিনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ কিছু অশনিসংকেত নিয়ে। গতকাল আমরা নরসিংদীতে একটি নারীর মৃত্যুর খবর পায়। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটেদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে ওই নারীর পরিবার বিচারের দাবি তোলে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাহায্য না করে, স্থানীয় নেতৃত্বের আলোকেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এবং এই ধামাচাপা বা সমঝোতা করে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত হিসেবে নাম উঠে আসেএকটি বিশেষ দলেরকিছু নেতাকর্মীর। যাইহোক, এই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চললেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি নরসিংদীর ওই ধর্ষিত নারী। বিচার চাওয়ার অপরাধে তাকে তার বাবার সামনে থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করে সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।আমির হামজা উল্লেখ করেছেন, ‘রাজধানীর রামপুরায় মাত্র ৬ বছরের কোমলমতি শিশুকে ধর্ষণপূর্বক খুন করা হয়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে ভিক্টিমের পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে কোনোভাবেই মামলা নিতে চাওয়া হয় না। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করলে প্রশাসন মামলা নিতে বাধ্য হয়। তবুও শোনা যাচ্ছেএই মামলা উঠিয়ে নিতে ভিক্টিমের পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

পুরোনো বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে দেব না উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এমন ভয়াবহ ঘটনা এই দেশে ঘটবে, তাও আবার ৫ আগস্টের পরে, তা কি আমরা কল্পনাতেও ভেবেছিলাম? প্রশাসনের একি দৈন্যদশা দেখা দিয়েছে? কেন তারা প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না? এর পেছনে কার বা কাদের অসহযোগিতা রয়েছে তা আমাদের কাছে তুলে ধরুন, আমরা দেশের মানুষ মিলে প্রতিবাদ গড়ে তুলব। তবুও কোনোভাবেই বাংলাদেশকে পুরোনো বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে দেব না।

সবশেষে আমির হামজা লেখেন, ‘আরও দুঃখের সঙ্গে জানাতে হয়, আমাদের মূলধারার মিডিয়া, সুশীল সমাজ, প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনসমূহ ও নারীবাদীরা এমন গুরুতর বিষয় নিয়ে একেবারেই নিশ্চুপ রয়েছেন। তাদের সিলেক্টিভ প্রতিবাদস্লোগান আমাদেরকে খুব গভীরভাবে ভাবায়। আমি একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে নরসিংদী ও রামপুরার এই ঘটনার প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি এবং অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদেরকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। আল্লাহতায়ালা মৃতদের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতবাসী করুন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এখন স্বপ্ন দেখাটাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে: আমির হামজা

আপডেট সময় ০২:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া৩ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি নরসিংদী ও রাজধানীর রামপুরায় ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ঘটনা উল্লেখ করে দ্রুত বিচার ও প্রশাসনিক জবাবদিহি দাবি করেন।

পোস্টে আমির হামজা লিখেছেন, ‘ফ্যাসিবাদ উত্তর বাংলাদেশে আমাদের পরিকল্পনা ছিল, দেশটাকে ঢেলে সাজানোর। ইচ্ছা ছিল সবকিছু নতুনভাবে শুরু করার। পুরোনো বন্দোবস্তের মতো ক্ষমতার অপপ্রয়োগ আর দেখা লাগবে নাএটাই ছিল আমাদের কাম্য। আমরা সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই এগিয়ে চলেছিলাম। কিন্তু, অতি দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে, বিগত কয়েকদিন ধরে আমরা আমাদের সেই স্বপ্নের ওপরে কেবল বালিচাপা পড়তেই দেখছি। বালিচাপার অন্তরাল থেকে মাথা বের করে স্বপ্ন দেখাটা পর্যন্ত দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে।

তিনি আরও লেখেন, ‘বলছিলাম, গত তিন দিনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ কিছু অশনিসংকেত নিয়ে। গতকাল আমরা নরসিংদীতে একটি নারীর মৃত্যুর খবর পায়। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটেদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে ওই নারীর পরিবার বিচারের দাবি তোলে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাহায্য না করে, স্থানীয় নেতৃত্বের আলোকেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এবং এই ধামাচাপা বা সমঝোতা করে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত হিসেবে নাম উঠে আসেএকটি বিশেষ দলেরকিছু নেতাকর্মীর। যাইহোক, এই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চললেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি নরসিংদীর ওই ধর্ষিত নারী। বিচার চাওয়ার অপরাধে তাকে তার বাবার সামনে থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করে সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।আমির হামজা উল্লেখ করেছেন, ‘রাজধানীর রামপুরায় মাত্র ৬ বছরের কোমলমতি শিশুকে ধর্ষণপূর্বক খুন করা হয়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে ভিক্টিমের পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে কোনোভাবেই মামলা নিতে চাওয়া হয় না। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করলে প্রশাসন মামলা নিতে বাধ্য হয়। তবুও শোনা যাচ্ছেএই মামলা উঠিয়ে নিতে ভিক্টিমের পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

পুরোনো বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে দেব না উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এমন ভয়াবহ ঘটনা এই দেশে ঘটবে, তাও আবার ৫ আগস্টের পরে, তা কি আমরা কল্পনাতেও ভেবেছিলাম? প্রশাসনের একি দৈন্যদশা দেখা দিয়েছে? কেন তারা প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না? এর পেছনে কার বা কাদের অসহযোগিতা রয়েছে তা আমাদের কাছে তুলে ধরুন, আমরা দেশের মানুষ মিলে প্রতিবাদ গড়ে তুলব। তবুও কোনোভাবেই বাংলাদেশকে পুরোনো বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে দেব না।

সবশেষে আমির হামজা লেখেন, ‘আরও দুঃখের সঙ্গে জানাতে হয়, আমাদের মূলধারার মিডিয়া, সুশীল সমাজ, প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনসমূহ ও নারীবাদীরা এমন গুরুতর বিষয় নিয়ে একেবারেই নিশ্চুপ রয়েছেন। তাদের সিলেক্টিভ প্রতিবাদস্লোগান আমাদেরকে খুব গভীরভাবে ভাবায়। আমি একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে নরসিংদী ও রামপুরার এই ঘটনার প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি এবং অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদেরকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। আল্লাহতায়ালা মৃতদের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতবাসী করুন।