ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা বাউফলে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ইরানের হরমুজ নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেল প্রতি গুনতে হবে ১ ডলার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ফের খুলছে শ্রমবাজার আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলিকপ্টারে গিয়ে নয়, নিজ কক্ষে বসেই দেখব কোন স্কুলে কী হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ভোট বর্জন করলেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে রাশিয়ান দূতাবাসে মাওলানা মামুনুল হক এই সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচনেই কারচুপি-অনিয়ম ঘটছে: পরওয়ার ‘জঙ্গি এমপি’ অপবাদে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকারের নোটিশ

মার্কিন দশ হাজার স্থলসেনাদের প্রতিহত করতে ১০ লাখ সেনা মোতায়েন করছে ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থলপথের আক্রমণ প্রতিহত করতে ১০ লাখ যোদ্ধা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান এই ধরনের যেকোনো মার্কিন স্থল অভিযানকেআত্মঘাতীপদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে দেশজুড়ে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।  বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেখান থেকে ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালিত হয়।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে যে, দক্ষিণ ফ্রন্ট দিয়ে স্থলযুদ্ধে জড়ানোর যে কোনো মার্কিন প্রচেষ্টাকে একটিঐতিহাসিক বোকামিহিসেবে গণ্য করা হবে এবং ইরানি ভূখণ্ডে আমেরিকান বাহিনীর জন্য একটিঐতিহাসিক নরকতৈরি করতে দেশটির পদাতিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ লাখ সেনার একটি বিশাল বাহিনীকে স্থলযুদ্ধের জন্য সুসজ্জিত করার পাশাপাশি গত কয়েক দিনে ইরানি তরুণদের মধ্যে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরসিজি) এবং নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী রিক্রুটমেন্ট সেন্টারগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। 

আসন্ন এই সম্ভাব্য সংঘাতের অংশ হতে ইচ্ছুক তরুণদের এই গণজোয়ারকে দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা জাতীয় সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ইরানি কমান্ডিং অফিসাররা দাবি করছেন যে, বর্তমানে তাঁদের জনবল ও যুদ্ধের সরঞ্জাম যেকোনো ধরনের বড় মাপের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট। সামরিক সূত্রটি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার যেকোনো মার্কিন চেষ্টা হবে মূলত একটিআত্মঘাতীএবংবলিদানমূলককাজ। ইরান এই কৌশলগত জলপথটি বন্ধ রাখার বিষয়ে তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। 

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতেস্মার্ট কন্ট্রোল অফ দ্য স্ট্রেইট অফ হরমুজশীর্ষক একটি বিশেষ নৌমহড়া চালিয়েছে আইআরসিজি, যা মূলত বর্তমান পরিস্থিতির একটি মহড়া ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই বিশাল সেনা সমাবেশের ঘোষণা মূলত ওয়াশিংটনকে স্থলযুদ্ধ থেকে বিরত রাখার একটি শক্তিশালী বার্তা। সার্বিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ এখন একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যি স্থলপথে আগ্রাসন শুরু করে, তবে তা এই অঞ্চলের ইতিহাসে দীর্ঘতম এবং রক্তক্ষয়ী এক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। 

তেলের বৈশ্বিক বাজার এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার খাতিরে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য যেমন জরুরি, তেমনি খার্গ দ্বীপ রক্ষা করা ইরানের অর্থনীতির জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই দ্বিমুখী উত্তজনা প্রশমনে এখন পর্যন্ত কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসায় ১০ লাখ যোদ্ধার এই সমাবেশকে বিশ্ব সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৭ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর কথা বিবেচন করছেন যুক্তরাষ্ট্র বলে খবর পাওয়া যায়। এর পর পর ইরানের ১০ লাখ সেনা প্রস্তুত রাখার এই সংবাদ আসে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা

মার্কিন দশ হাজার স্থলসেনাদের প্রতিহত করতে ১০ লাখ সেনা মোতায়েন করছে ইরান

আপডেট সময় ১২:১৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থলপথের আক্রমণ প্রতিহত করতে ১০ লাখ যোদ্ধা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান এই ধরনের যেকোনো মার্কিন স্থল অভিযানকেআত্মঘাতীপদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে দেশজুড়ে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।  বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেখান থেকে ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালিত হয়।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে যে, দক্ষিণ ফ্রন্ট দিয়ে স্থলযুদ্ধে জড়ানোর যে কোনো মার্কিন প্রচেষ্টাকে একটিঐতিহাসিক বোকামিহিসেবে গণ্য করা হবে এবং ইরানি ভূখণ্ডে আমেরিকান বাহিনীর জন্য একটিঐতিহাসিক নরকতৈরি করতে দেশটির পদাতিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ লাখ সেনার একটি বিশাল বাহিনীকে স্থলযুদ্ধের জন্য সুসজ্জিত করার পাশাপাশি গত কয়েক দিনে ইরানি তরুণদের মধ্যে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরসিজি) এবং নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী রিক্রুটমেন্ট সেন্টারগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। 

আসন্ন এই সম্ভাব্য সংঘাতের অংশ হতে ইচ্ছুক তরুণদের এই গণজোয়ারকে দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা জাতীয় সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ইরানি কমান্ডিং অফিসাররা দাবি করছেন যে, বর্তমানে তাঁদের জনবল ও যুদ্ধের সরঞ্জাম যেকোনো ধরনের বড় মাপের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট। সামরিক সূত্রটি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার যেকোনো মার্কিন চেষ্টা হবে মূলত একটিআত্মঘাতীএবংবলিদানমূলককাজ। ইরান এই কৌশলগত জলপথটি বন্ধ রাখার বিষয়ে তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। 

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতেস্মার্ট কন্ট্রোল অফ দ্য স্ট্রেইট অফ হরমুজশীর্ষক একটি বিশেষ নৌমহড়া চালিয়েছে আইআরসিজি, যা মূলত বর্তমান পরিস্থিতির একটি মহড়া ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই বিশাল সেনা সমাবেশের ঘোষণা মূলত ওয়াশিংটনকে স্থলযুদ্ধ থেকে বিরত রাখার একটি শক্তিশালী বার্তা। সার্বিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ এখন একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যি স্থলপথে আগ্রাসন শুরু করে, তবে তা এই অঞ্চলের ইতিহাসে দীর্ঘতম এবং রক্তক্ষয়ী এক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। 

তেলের বৈশ্বিক বাজার এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার খাতিরে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য যেমন জরুরি, তেমনি খার্গ দ্বীপ রক্ষা করা ইরানের অর্থনীতির জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই দ্বিমুখী উত্তজনা প্রশমনে এখন পর্যন্ত কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসায় ১০ লাখ যোদ্ধার এই সমাবেশকে বিশ্ব সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৭ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর কথা বিবেচন করছেন যুক্তরাষ্ট্র বলে খবর পাওয়া যায়। এর পর পর ইরানের ১০ লাখ সেনা প্রস্তুত রাখার এই সংবাদ আসে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর