মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ট্রায়াথলন প্রতিযোগিতা আয়রনম্যান ৭০.৩ দেসারু কোস্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন জাতীয় পর্যায়ের দীর্ঘপাল্লার দৌড়বিদ ও বিটোপিয়া গ্রুপের ওয়েলবিং অ্যাম্বাসেডর সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধ। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য আয়রনম্যান ৭০.৩ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
মালয়েশিয়ার দেসারু কোস্টে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় স্নিগ্ধ ৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট ২৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে ১.৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ২১.১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন সম্পন্ন করেন। ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সভিত্তিক বিভাগে তিনি ৩৯ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। আর সব বয়স বিভাগের ৪০৬ জন সফল প্রতিযোগীর মধ্যে তার অবস্থান ছিল ৩৬তম।
এই ফলাফলের ভিত্তিতেই তিনি আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আয়রনম্যান ৭০.৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। একই প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশের আরেক ট্রায়াথলেট মোহাম্মদ সামছুজ্জামান আরাফাতও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের টিকিট নিশ্চিত করেছেন।
আয়রনম্যান ৭০.৩ বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ হাফ-ডিস্ট্যান্স ট্রায়াথলন সিরিজগুলোর একটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিযোগীদের ১.৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ২১.১ কিলোমিটার দৌড় শেষ করতে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পেশাদার ও অপেশাদার অ্যাথলেটরা এতে অংশ নেন।
সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধর জন্য এই অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ছিল তার দ্বিতীয় আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতা। এর আগে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত আয়রনম্যান ৭০.৩-এ অংশ নিলেও তিনি ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করতে পারেননি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নিজের সক্ষমতা, কৌশল এবং সহনশীলতা উন্নত করেন। মালয়েশিয়ায় সফলভাবে প্রতিযোগিতা শেষ করার পাশাপাশি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের যোগ্যতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন।
প্রতিক্রিয়ায় স্নিগ্ধ বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বাংলাদেশের ট্রায়াথলন কমিউনিটির জন্যও একটি অনুপ্রেরণা। আমাদের দেশে এখনো ট্রায়াথলনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা খুব সীমিত। তারপরও আমরা যদি পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিতে পারি, তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ফল করা সম্ভব।”
তিনি বলেন, “কলম্বোয় রেস শেষ করতে না পারার হতাশা আমাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করেছে। মালয়েশিয়ায় ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করার মুহূর্তটি ছিল আমার দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। এখন আমার লক্ষ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের পতাকা বহন করা এবং ভবিষ্যতে পূর্ণ দূরত্বের আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া।”
স্নিগ্ধ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘপাল্লার দৌড়ে সাফল্যের পাশাপাশি ফিটনেস ও সহনশীলতাভিত্তিক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। অনলাইন ও অফলাইনে তিনি অসংখ্য রানার ও ফিটনেস অনুরাগীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে সচেতনতা তৈরিতেও তিনি কাজ করছেন।
স্নিগ্ধর এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিটোপিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও গ্রুপ সিইও মোহাম্মদ মনির হোসেন। তিনি বলেন, “সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধর এই অর্জন শুধু একজন অ্যাথলেটের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রতিফলন। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “বিটোপিয়া বিশ্বাস করে, মেধা ও স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতা। সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা স্নিগ্ধকে ওয়েলবিং অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত করেছি। আমরা চাই, তার মতো আরও প্রতিভাবান, পরিশ্রমী ও সাহসী তরুণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করুক। খেলাধুলা, প্রযুক্তি কিংবা উদ্ভাবন—যে ক্ষেত্রেই সম্ভাবনাময় মানুষ উঠে আসবেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদি যাত্রার অংশীদার হতে বিটোপিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ডেস্ক রিপোর্ট 


















