ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
টানা ৪০ বছর দায়িত্ব পালন, ঘোড়ারগাড়িতে বাড়ি ফিরলেন মুয়াজ্জিন শুক্কুর আলী দুধ দিয়ে গোসল করে প্রেমের ইতি টানলেন যুবক ‘আগে বিদ্যুতের জন্য ফোন চার্জ দিতে পারতাম না, এখন ২ ফোনেই চার্জ’ মিনাবে স্কুলে হামলা কখনো ‘ভুলবে না’ কিংবা ‘ক্ষমাও করবে না’ ইরান: আরাঘচি ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবি জানালেন কামিন্স পটুয়াখালীতে যুবদলের দুগ্রুপের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ভাঙচুর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬ এর জমকালো সমাপনী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন উত্তর দিতে পারেন না তখন শাহবাগ-পল্টন নিয়ে আসেন: সারজিস সেপ্টেম্বরে জামায়াত এনসিপির লংমার্চের ঘোষণা ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ফেরার পথ তৈরি করছে: রাশেদ খান নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯

মিনাবে স্কুলে হামলা কখনো ‘ভুলবে না’ কিংবা ‘ক্ষমাও করবে না’ ইরান: আরাঘচি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা দেশটির মানুষ ‘কখনো ভুলবে না’ এবং ‘ক্ষমাও করবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

 

হামলার শিকার মিনাব স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখন ইরানের মানুষের কাছে একটি ‘বীরত্বের প্রতীক’ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন আরাঘচি।

 

তিনি বলেন, এই হামলার ঘটনা ইরানের মানুষের মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে। নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্মরণ করে দেশটির মানুষ ঘটনাটি মনে রাখবে এবং এর জন্য দায়ীদের কখনো ক্ষমা করবে না।

 

মিনাবের ওই স্কুলে হামলার ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। হামলার পর হতাহতদের পরিবার এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে শোকের পাশাপাশি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইতিহাসের পাতায় ‘যুদ্ধ’ অধ্যায়ে নতুন করে নাম লেখায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। টার্গেট ‘ইরান’। তবে, টার্গেট ‘প্রি-ডিসাইডেড’ হলেও ভুল করে বসে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হামলা আঘাত হানে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের একটি স্কুলে। ভয়াবহ এই হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল’ যুদ্ধ।

 

এই নির্মম হামলার পর সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোতে মার্কিন বাহিনীর ‘ভুল’ হামলা এবং পর্যাপ্ত ‘হোম-ওয়ার্ক’ না করার অভিযোগ ওঠে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। হামলার দায় স্বীকার না করে ‘তদন্ত চলছে’ এবং ‘প্রতিবেদন প্রকাশ’ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে, ছয় মাস পার হবার পর এখনও প্রতিবেদন প্রকাশ করা নিয়ে নিশ্চুপ পেন্টাগন।

 

হামলায় ‘ওয়ার ক্রাইম’ হয়েছে কিংবা হয়নি এমনটা ঠিক তখনই জানা যাবে, যখন মার্কিন প্রশাসন ‘অফিসিয়ালি’ রিপোর্ট জমা দেবে। তবে, রিপোর্ট নিয়ে কোন ধরনের অগ্রগতি কিংবা সময় লাগার কারণ গণমাধ্যমে উপস্থাপন না করায় এরইমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বচ্ছতার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পাঁচ কর্মকর্তা।

 

 

তাদের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরে বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার বিষয়ে এখনও ‘স্পষ্ট তথ্য’ দেয়নি পেন্টাগন।

 

সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন শীর্ষ সামরিক আইনজীবীও রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এত সময় পেরিয়ে গেলেও হামলার বিষয়ে মৌলিক তথ্য প্রকাশ ‘না’ করা খুবই অস্বাভাবিক।

 

মূলত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের দক্ষিণে মিনাব শহরের শাজারাহ তাইয়েবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে হামলাটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি নিশানাগত (টার্গেটিং) ভুল বলে দাবি করেছিলো নিউ ইয়র্ক টাইমস।

 

হামলার দিন, বিদ্যালয় ভবনের পাশেই অবস্থিত একটি ইরানি ঘাঁটিতে অ্যাটাকের প্ল্যান ছিলো মার্কিন বাহিনীর। বিদ্যালয় ভবনটি আগে ওই ঘাঁটিরই অংশ ছিল। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের এক ভুলে স্কুলে অবস্থানরত ১৬৮ শিক্ষার্থী, স্কুলের শিক্ষক এবং স্টাফ নিহত হয়।

 

 

প্রাথমিকভাবে, হামলার দায় স্বীকার না করলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা জানান, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির দেওয়া ‘পুরোনো তথ্য’ ব্যবহার করে হামলার স্থান নির্ধারণ করেছিলেন।

 

শিশুদের দিয়ে পরিপূর্ণ একটি স্কুলে হামলার এই ঘটনা নিশ্চিতভাবে সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ ‘সামরিক ভুল’ হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে এমনটা দাবি করেছিলো সিএনএনসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম। তবে, প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিবেদনের অগ্রগতি নিয়ে পেন্টাগন কি বলছে?

 

ওই হামলার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে শুধু বলা হয়েছে, ঘটনাটি ‘তদন্তাধীন’। তদন্ত শেষ হলে আরও তথ্য জানানো হবে।

 

মার্চের শুরুতে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো দাবি করে, প্রাথমিক তদন্ত এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণকরে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন বাহিনী ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ স্কুলটিতে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে এখনো ‘চূড়ান্ত’ সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

মার্কিন বিমান বাহিনীর সাবেক আইন কর্মকর্তা র‍্যাচেল ই. ভ্যানল্যান্ডিংহাম বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমান প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ‘অস্বাভাবিকভাবে ভিন্ন’। তার ভাষ্য, ‘আগের প্রশাসনগুলো অন্তত জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দেখাতো। এখন ট্রাম্প প্রশাসনে সেটিও নেই।’

 

এ ঘটনায় জবাব চেয়ে মার্কিন প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্র্যাট শিবিরের আইনপ্রণেতারাও একাধিকবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়েছেন। তবে, পাওয়া জবাবে হামলা নিয়ে কোনো ‘নির্দিষ্ট তথ্য’ দেওয়া হয়নি।

 

মিনাবে ওই হামলার পর লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানায়, বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা ও বহু শিশু নিহতের ঘটনা যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন।

 

সংস্থাটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, স্কুলে এই মর্মান্তিক হামলা বেসামরিক জনগণের ওপর সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাবের নির্মম উদাহরণ। এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে ‘স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ’ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

 

এদিকে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, যেমন, নিউ ইয়র্ক টাইমস, তাদের বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দিয়েছে যে হামলাটি সম্ভবত মার্কিন বাহিনী চালিয়েছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

 

তবে হামলার কিছুদিনের মধ্যে ইরান একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গেছে ‘মেইড ইন ইউএসএ’ লোগো।

 

প্রমাণ দেখানোর পরও হামলার দায় স্বীকার ‘না’ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সে সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হওয়া প্রাণঘাতী বিমান হামলার পেছনে ইরান-ই দায়ী।

 

মিনাবে হামলার ছয় দিন পর শনিবার (৭ মার্চ) ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে এটা ইরানই করেছে। কারণ ওদের অস্ত্র খুব নিখুঁত নয়। ওদের গোলাবারুদের কোনও একুরেসি নেই।’

 

শিশুদের দিয়ে পরিপূর্ণ একটি স্কুলে হামলার এই ঘটনা নিশ্চিতভাবে সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ ‘সামরিক ভুল’ হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে।

 

এমন হামলা পরিষ্কারভাবে ‘ওয়ার ক্রাইম’ বলে দাবি করেছে ইরান। এখন শুধু অপেক্ষা, পেন্টাগনের প্রতিবেদনের, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন হামলার দায় স্বীকার করতেও পারে, কিংবা এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সীমা পেছাতে পেছাতে হয়তো আর প্রকাশ-ই হবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

টানা ৪০ বছর দায়িত্ব পালন, ঘোড়ারগাড়িতে বাড়ি ফিরলেন মুয়াজ্জিন শুক্কুর আলী

মিনাবে স্কুলে হামলা কখনো ‘ভুলবে না’ কিংবা ‘ক্ষমাও করবে না’ ইরান: আরাঘচি

আপডেট সময় ১১:০৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা দেশটির মানুষ ‘কখনো ভুলবে না’ এবং ‘ক্ষমাও করবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

 

হামলার শিকার মিনাব স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখন ইরানের মানুষের কাছে একটি ‘বীরত্বের প্রতীক’ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন আরাঘচি।

 

তিনি বলেন, এই হামলার ঘটনা ইরানের মানুষের মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে। নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্মরণ করে দেশটির মানুষ ঘটনাটি মনে রাখবে এবং এর জন্য দায়ীদের কখনো ক্ষমা করবে না।

 

মিনাবের ওই স্কুলে হামলার ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। হামলার পর হতাহতদের পরিবার এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে শোকের পাশাপাশি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইতিহাসের পাতায় ‘যুদ্ধ’ অধ্যায়ে নতুন করে নাম লেখায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। টার্গেট ‘ইরান’। তবে, টার্গেট ‘প্রি-ডিসাইডেড’ হলেও ভুল করে বসে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হামলা আঘাত হানে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের একটি স্কুলে। ভয়াবহ এই হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল’ যুদ্ধ।

 

এই নির্মম হামলার পর সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোতে মার্কিন বাহিনীর ‘ভুল’ হামলা এবং পর্যাপ্ত ‘হোম-ওয়ার্ক’ না করার অভিযোগ ওঠে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। হামলার দায় স্বীকার না করে ‘তদন্ত চলছে’ এবং ‘প্রতিবেদন প্রকাশ’ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে, ছয় মাস পার হবার পর এখনও প্রতিবেদন প্রকাশ করা নিয়ে নিশ্চুপ পেন্টাগন।

 

হামলায় ‘ওয়ার ক্রাইম’ হয়েছে কিংবা হয়নি এমনটা ঠিক তখনই জানা যাবে, যখন মার্কিন প্রশাসন ‘অফিসিয়ালি’ রিপোর্ট জমা দেবে। তবে, রিপোর্ট নিয়ে কোন ধরনের অগ্রগতি কিংবা সময় লাগার কারণ গণমাধ্যমে উপস্থাপন না করায় এরইমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বচ্ছতার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পাঁচ কর্মকর্তা।

 

 

তাদের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরে বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার বিষয়ে এখনও ‘স্পষ্ট তথ্য’ দেয়নি পেন্টাগন।

 

সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন শীর্ষ সামরিক আইনজীবীও রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এত সময় পেরিয়ে গেলেও হামলার বিষয়ে মৌলিক তথ্য প্রকাশ ‘না’ করা খুবই অস্বাভাবিক।

 

মূলত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের দক্ষিণে মিনাব শহরের শাজারাহ তাইয়েবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে হামলাটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি নিশানাগত (টার্গেটিং) ভুল বলে দাবি করেছিলো নিউ ইয়র্ক টাইমস।

 

হামলার দিন, বিদ্যালয় ভবনের পাশেই অবস্থিত একটি ইরানি ঘাঁটিতে অ্যাটাকের প্ল্যান ছিলো মার্কিন বাহিনীর। বিদ্যালয় ভবনটি আগে ওই ঘাঁটিরই অংশ ছিল। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের এক ভুলে স্কুলে অবস্থানরত ১৬৮ শিক্ষার্থী, স্কুলের শিক্ষক এবং স্টাফ নিহত হয়।

 

 

প্রাথমিকভাবে, হামলার দায় স্বীকার না করলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা জানান, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির দেওয়া ‘পুরোনো তথ্য’ ব্যবহার করে হামলার স্থান নির্ধারণ করেছিলেন।

 

শিশুদের দিয়ে পরিপূর্ণ একটি স্কুলে হামলার এই ঘটনা নিশ্চিতভাবে সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ ‘সামরিক ভুল’ হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে এমনটা দাবি করেছিলো সিএনএনসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম। তবে, প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিবেদনের অগ্রগতি নিয়ে পেন্টাগন কি বলছে?

 

ওই হামলার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে শুধু বলা হয়েছে, ঘটনাটি ‘তদন্তাধীন’। তদন্ত শেষ হলে আরও তথ্য জানানো হবে।

 

মার্চের শুরুতে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো দাবি করে, প্রাথমিক তদন্ত এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণকরে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন বাহিনী ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ স্কুলটিতে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে এখনো ‘চূড়ান্ত’ সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

মার্কিন বিমান বাহিনীর সাবেক আইন কর্মকর্তা র‍্যাচেল ই. ভ্যানল্যান্ডিংহাম বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমান প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ‘অস্বাভাবিকভাবে ভিন্ন’। তার ভাষ্য, ‘আগের প্রশাসনগুলো অন্তত জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দেখাতো। এখন ট্রাম্প প্রশাসনে সেটিও নেই।’

 

এ ঘটনায় জবাব চেয়ে মার্কিন প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্র্যাট শিবিরের আইনপ্রণেতারাও একাধিকবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি দিয়েছেন। তবে, পাওয়া জবাবে হামলা নিয়ে কোনো ‘নির্দিষ্ট তথ্য’ দেওয়া হয়নি।

 

মিনাবে ওই হামলার পর লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানায়, বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা ও বহু শিশু নিহতের ঘটনা যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন।

 

সংস্থাটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, স্কুলে এই মর্মান্তিক হামলা বেসামরিক জনগণের ওপর সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাবের নির্মম উদাহরণ। এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে ‘স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ’ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

 

এদিকে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, যেমন, নিউ ইয়র্ক টাইমস, তাদের বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দিয়েছে যে হামলাটি সম্ভবত মার্কিন বাহিনী চালিয়েছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

 

তবে হামলার কিছুদিনের মধ্যে ইরান একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গেছে ‘মেইড ইন ইউএসএ’ লোগো।

 

প্রমাণ দেখানোর পরও হামলার দায় স্বীকার ‘না’ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সে সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হওয়া প্রাণঘাতী বিমান হামলার পেছনে ইরান-ই দায়ী।

 

মিনাবে হামলার ছয় দিন পর শনিবার (৭ মার্চ) ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে এটা ইরানই করেছে। কারণ ওদের অস্ত্র খুব নিখুঁত নয়। ওদের গোলাবারুদের কোনও একুরেসি নেই।’

 

শিশুদের দিয়ে পরিপূর্ণ একটি স্কুলে হামলার এই ঘটনা নিশ্চিতভাবে সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ ‘সামরিক ভুল’ হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে।

 

এমন হামলা পরিষ্কারভাবে ‘ওয়ার ক্রাইম’ বলে দাবি করেছে ইরান। এখন শুধু অপেক্ষা, পেন্টাগনের প্রতিবেদনের, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন হামলার দায় স্বীকার করতেও পারে, কিংবা এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সীমা পেছাতে পেছাতে হয়তো আর প্রকাশ-ই হবে না।