ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম, জুলাইতেও মানুষের পক্ষেই ছিলাম: ফারুকী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ‘জাতির জন্য লজ্জার’: নাহিদ ইসলাম খেলা শুরুর আগেই বিজয়ী বেছে নিল হাতি-জিরাফ-গরিলারা রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারালো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের নোয়াখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ

কুমিল্লায় সেই নারীর বিবস্ত্র ভিডিও করেন ছাত্রলীগের সভাপতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
  • ১৭৮৯ বার পড়া হয়েছে

এবার কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল করার মূল হোতা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী সুমন। এ ঘটনায় মূল আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় গত শুক্রবার দুপুরে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে রবিবার ভোর ৫টায় ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে। তারা হলেন হান্নান মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী সুমন, জাফর আলীর ছেলে রমজান আলী, তালেব হোসেনের ছেলে মো. অনিক ও মো. আরিফ। তাদের সবার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলায় বাহেরচর গ্রামে।

ঘটনার সূত্রপাত- ভুক্তভোগী ওই নারী (২৫) হিন্দু ধর্মাবলম্বীর। প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন তিনি। বেশ কিছুদিন আগে ভুক্তভোগীর মা ফজর আলীর কাছে টাকা ধার চান। দিতে সম্মতি প্রকাশ করেন ফজর আলী।

নিজের মোবাইলে টাকা না থাকায় মেয়ের মোবাইল থেকে ফোন দেন ভুক্তভোগীর মা। সেই সুবাধে ফজর আলী ওই নারীর ফোন নম্বর পেয়ে বেশ কয়েকবার কথা বলে সুসম্পর্ক তৈরি করেন। কথার রেশ ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে সুযোগ বুঝে ওই নারীর বাড়িতে যান ফজর আলী। বাড়ির পাশে পূজা হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি (ওই নারী) বাড়িতে একা ছিলেন।

আনুমানিক ১০টার দিকে ফজর আলী (৩৮) ঘরের দরজা খুলতে বলেন। এ সময় তিনি দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে জোরে ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। ভেতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘরে ঢোকার সময় ফজর আলীকে দেখে ফেলেন এক প্রতিবেশী। তিনি বিষয়টি জানাজানি করলে এলাকার লোকজন ঘরে ঢুকে মবের সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলেই মেরে ফজর আলীকে মারধর করে লোকজন। অন্যদিকে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণসহ মারধর করে। শনিবার রাতে এই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়।

অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয়- আটককৃত সুমন রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তার নেতৃত্বে হিন্দু নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। অন্য তিনজন ছাত্রলীগের সদস্য ও সুমনের সহযোগী। অন্যদিকে ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফজর আলীর একটি ছবিতে একই আসনের সাবেক এমপি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের একটি মিছিলের অগ্রভাগে দেখা যায়। গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে চলাফেরা করলেও বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, তিনি তাদের লোক নন।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ‘ফজর আলীর সঙ্গে আমার কোনো প্রেমের সম্পর্ক হয়নি। আমার নম্বর পেয়ে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন তিনি (ফজর আলী)। এমন ঘটনায় আমি আমার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন মারাত্মক মর্মাহত। ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝামেলা এড়াতে আমরা বিষয়টি নিয়ে সামনে এগোতে চাই না।’ মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করার পর পুলিশ অভিযানে নামে। ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মূল অভিযুক্তসহ ৫ জন আটক হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

কুমিল্লায় সেই নারীর বিবস্ত্র ভিডিও করেন ছাত্রলীগের সভাপতি

আপডেট সময় ০৬:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

এবার কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল করার মূল হোতা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী সুমন। এ ঘটনায় মূল আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় গত শুক্রবার দুপুরে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে রবিবার ভোর ৫টায় ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে। তারা হলেন হান্নান মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী সুমন, জাফর আলীর ছেলে রমজান আলী, তালেব হোসেনের ছেলে মো. অনিক ও মো. আরিফ। তাদের সবার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলায় বাহেরচর গ্রামে।

ঘটনার সূত্রপাত- ভুক্তভোগী ওই নারী (২৫) হিন্দু ধর্মাবলম্বীর। প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন তিনি। বেশ কিছুদিন আগে ভুক্তভোগীর মা ফজর আলীর কাছে টাকা ধার চান। দিতে সম্মতি প্রকাশ করেন ফজর আলী।

নিজের মোবাইলে টাকা না থাকায় মেয়ের মোবাইল থেকে ফোন দেন ভুক্তভোগীর মা। সেই সুবাধে ফজর আলী ওই নারীর ফোন নম্বর পেয়ে বেশ কয়েকবার কথা বলে সুসম্পর্ক তৈরি করেন। কথার রেশ ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে সুযোগ বুঝে ওই নারীর বাড়িতে যান ফজর আলী। বাড়ির পাশে পূজা হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি (ওই নারী) বাড়িতে একা ছিলেন।

আনুমানিক ১০টার দিকে ফজর আলী (৩৮) ঘরের দরজা খুলতে বলেন। এ সময় তিনি দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে জোরে ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। ভেতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘরে ঢোকার সময় ফজর আলীকে দেখে ফেলেন এক প্রতিবেশী। তিনি বিষয়টি জানাজানি করলে এলাকার লোকজন ঘরে ঢুকে মবের সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলেই মেরে ফজর আলীকে মারধর করে লোকজন। অন্যদিকে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণসহ মারধর করে। শনিবার রাতে এই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়।

অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয়- আটককৃত সুমন রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তার নেতৃত্বে হিন্দু নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। অন্য তিনজন ছাত্রলীগের সদস্য ও সুমনের সহযোগী। অন্যদিকে ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফজর আলীর একটি ছবিতে একই আসনের সাবেক এমপি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের একটি মিছিলের অগ্রভাগে দেখা যায়। গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে চলাফেরা করলেও বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, তিনি তাদের লোক নন।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ‘ফজর আলীর সঙ্গে আমার কোনো প্রেমের সম্পর্ক হয়নি। আমার নম্বর পেয়ে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন তিনি (ফজর আলী)। এমন ঘটনায় আমি আমার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন মারাত্মক মর্মাহত। ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝামেলা এড়াতে আমরা বিষয়টি নিয়ে সামনে এগোতে চাই না।’ মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করার পর পুলিশ অভিযানে নামে। ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মূল অভিযুক্তসহ ৫ জন আটক হয়েছে।