ঢাকা , শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাকসু ভিপি-জিএসকে ব্যঙ্গ করে রাবিতে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’ ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে প্রাণ গেল মায়ের বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে ব্যর্থ হলে সরকারও টিকবে না: শিবির সভাপতি কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে শনিবার ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিলো এলাকাবাসী ইরান যুদ্ধে কতজন মার্কিন সেনা হতাহত, জানালো পেন্টাগন যারা বাংলাদেশকে ধারণ করে না, তাদের মাধ্যমেই বড় বড় দুর্নীতি হয়: সাদিক কায়েম অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শেখ হাসিনাকে পালাতে হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে পূরণ করতে হবে যে ৭ শর্ত ভারত সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের: জামায়াত আমির

কুমিল্লায় সেই নারীর বিবস্ত্র ভিডিও করেন ছাত্রলীগের সভাপতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
  • ১৮২২ বার পড়া হয়েছে

এবার কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল করার মূল হোতা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী সুমন। এ ঘটনায় মূল আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় গত শুক্রবার দুপুরে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে রবিবার ভোর ৫টায় ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে। তারা হলেন হান্নান মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী সুমন, জাফর আলীর ছেলে রমজান আলী, তালেব হোসেনের ছেলে মো. অনিক ও মো. আরিফ। তাদের সবার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলায় বাহেরচর গ্রামে।

ঘটনার সূত্রপাত- ভুক্তভোগী ওই নারী (২৫) হিন্দু ধর্মাবলম্বীর। প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন তিনি। বেশ কিছুদিন আগে ভুক্তভোগীর মা ফজর আলীর কাছে টাকা ধার চান। দিতে সম্মতি প্রকাশ করেন ফজর আলী।

নিজের মোবাইলে টাকা না থাকায় মেয়ের মোবাইল থেকে ফোন দেন ভুক্তভোগীর মা। সেই সুবাধে ফজর আলী ওই নারীর ফোন নম্বর পেয়ে বেশ কয়েকবার কথা বলে সুসম্পর্ক তৈরি করেন। কথার রেশ ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে সুযোগ বুঝে ওই নারীর বাড়িতে যান ফজর আলী। বাড়ির পাশে পূজা হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি (ওই নারী) বাড়িতে একা ছিলেন।

আনুমানিক ১০টার দিকে ফজর আলী (৩৮) ঘরের দরজা খুলতে বলেন। এ সময় তিনি দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে জোরে ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। ভেতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘরে ঢোকার সময় ফজর আলীকে দেখে ফেলেন এক প্রতিবেশী। তিনি বিষয়টি জানাজানি করলে এলাকার লোকজন ঘরে ঢুকে মবের সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলেই মেরে ফজর আলীকে মারধর করে লোকজন। অন্যদিকে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণসহ মারধর করে। শনিবার রাতে এই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়।

অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয়- আটককৃত সুমন রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তার নেতৃত্বে হিন্দু নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। অন্য তিনজন ছাত্রলীগের সদস্য ও সুমনের সহযোগী। অন্যদিকে ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফজর আলীর একটি ছবিতে একই আসনের সাবেক এমপি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের একটি মিছিলের অগ্রভাগে দেখা যায়। গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে চলাফেরা করলেও বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, তিনি তাদের লোক নন।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ‘ফজর আলীর সঙ্গে আমার কোনো প্রেমের সম্পর্ক হয়নি। আমার নম্বর পেয়ে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন তিনি (ফজর আলী)। এমন ঘটনায় আমি আমার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন মারাত্মক মর্মাহত। ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝামেলা এড়াতে আমরা বিষয়টি নিয়ে সামনে এগোতে চাই না।’ মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করার পর পুলিশ অভিযানে নামে। ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মূল অভিযুক্তসহ ৫ জন আটক হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাকসু ভিপি-জিএসকে ব্যঙ্গ করে রাবিতে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’

কুমিল্লায় সেই নারীর বিবস্ত্র ভিডিও করেন ছাত্রলীগের সভাপতি

আপডেট সময় ০৬:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

এবার কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল করার মূল হোতা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী সুমন। এ ঘটনায় মূল আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় গত শুক্রবার দুপুরে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে রবিবার ভোর ৫টায় ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে। তারা হলেন হান্নান মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী সুমন, জাফর আলীর ছেলে রমজান আলী, তালেব হোসেনের ছেলে মো. অনিক ও মো. আরিফ। তাদের সবার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলায় বাহেরচর গ্রামে।

ঘটনার সূত্রপাত- ভুক্তভোগী ওই নারী (২৫) হিন্দু ধর্মাবলম্বীর। প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন তিনি। বেশ কিছুদিন আগে ভুক্তভোগীর মা ফজর আলীর কাছে টাকা ধার চান। দিতে সম্মতি প্রকাশ করেন ফজর আলী।

নিজের মোবাইলে টাকা না থাকায় মেয়ের মোবাইল থেকে ফোন দেন ভুক্তভোগীর মা। সেই সুবাধে ফজর আলী ওই নারীর ফোন নম্বর পেয়ে বেশ কয়েকবার কথা বলে সুসম্পর্ক তৈরি করেন। কথার রেশ ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে সুযোগ বুঝে ওই নারীর বাড়িতে যান ফজর আলী। বাড়ির পাশে পূজা হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি (ওই নারী) বাড়িতে একা ছিলেন।

আনুমানিক ১০টার দিকে ফজর আলী (৩৮) ঘরের দরজা খুলতে বলেন। এ সময় তিনি দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে জোরে ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। ভেতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘরে ঢোকার সময় ফজর আলীকে দেখে ফেলেন এক প্রতিবেশী। তিনি বিষয়টি জানাজানি করলে এলাকার লোকজন ঘরে ঢুকে মবের সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলেই মেরে ফজর আলীকে মারধর করে লোকজন। অন্যদিকে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণসহ মারধর করে। শনিবার রাতে এই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়।

অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয়- আটককৃত সুমন রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তার নেতৃত্বে হিন্দু নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। অন্য তিনজন ছাত্রলীগের সদস্য ও সুমনের সহযোগী। অন্যদিকে ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফজর আলীর একটি ছবিতে একই আসনের সাবেক এমপি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের একটি মিছিলের অগ্রভাগে দেখা যায়। গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে চলাফেরা করলেও বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, তিনি তাদের লোক নন।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ‘ফজর আলীর সঙ্গে আমার কোনো প্রেমের সম্পর্ক হয়নি। আমার নম্বর পেয়ে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন তিনি (ফজর আলী)। এমন ঘটনায় আমি আমার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন মারাত্মক মর্মাহত। ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝামেলা এড়াতে আমরা বিষয়টি নিয়ে সামনে এগোতে চাই না।’ মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করার পর পুলিশ অভিযানে নামে। ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মূল অভিযুক্তসহ ৫ জন আটক হয়েছে।