ঢাকা , শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাকসু ভিপি-জিএসকে ব্যঙ্গ করে রাবিতে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’ ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে প্রাণ গেল মায়ের বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে ব্যর্থ হলে সরকারও টিকবে না: শিবির সভাপতি কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে শনিবার ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিলো এলাকাবাসী ইরান যুদ্ধে কতজন মার্কিন সেনা হতাহত, জানালো পেন্টাগন যারা বাংলাদেশকে ধারণ করে না, তাদের মাধ্যমেই বড় বড় দুর্নীতি হয়: সাদিক কায়েম অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শেখ হাসিনাকে পালাতে হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে পূরণ করতে হবে যে ৭ শর্ত ভারত সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের: জামায়াত আমির

চাঁদা না দেওয়ায় ১০ দোকানে তালা, জামায়াত নেতা ও বিএনপির কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৪

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • ৭১৩ বার পড়া হয়েছে

এবার নাটোরের বড়াইগ্রামে চাঁদা না পেয়ে ১০টি দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বিএনপির কর্মীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা উপজেলার আহম্মেদপুর বাজারে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর জোয়াড়ী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও আহম্মেদপুর এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন (৪৫), তাঁর ভাই জামায়াতের কর্মী আজিমুদ্দিন (৪০), বিএনপির কর্মী হায়দার আলী (৪৮) ও তাঁর বাবা মুজিবর রহমান (৭০)।

এদিকে চাঁদা দাবি ও দোকানে তালা দেওয়ার ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম নামের এক দোকানি বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তিনি এবং নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কোরবান আলী, শাহ আলম হোসেন ও মোতালেব হোসেন ওই জমির মালিক হিসেবে দাবি করেছেন। সেখানে তাঁদের ১০টি দোকান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অনেক দিন ধরে আহম্মেদপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন রুহুল আমিন ও তাঁর ভাইয়েরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাঁরা ৪০ থেকে ৫০ জন লোক নিয়ে গতকাল বেলা ১১টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁরা তালা দিয়ে আমাদের ১০টি দোকান বন্ধ করে দেন। আমরা নিরুপায় হয়ে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দিয়ে রক্ষা পেয়েছি।’

আরেক দোকানি কোরবান আলী বলেন, ‘বিকেলে সেনাবাহিনী ও বড়াইগ্রাম থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাঁরা ১০টি দোকানের তালা খুলে ব্যবসা করার ব্যবস্থা করে দেন।’ এদিকে গ্রেপ্তারের আগে চাঁদা চাওয়ার কথা অস্বীকার করে জামায়াত নেতা রুহুল আমিন বলেন, ‘ওই জমি আমাদের। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা (দোকানি) জমি দখল করে রেখেছেন। জমি ফেরত চাইলে তাঁরা দোকান ছাড়ছেন না। এ বিষয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি। তবে এভাবে দোকানে তালা দেওয়া আমাদের ঠিক হয়নি।’

বিএনপি কর্মী হায়দার আলী বলেন, ‘উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক ও জোয়াড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মালেকের নেতৃত্ব ঘটনাটি সমাধান করার জন্য একটি কমিটি করা হয়। সেখানে উভয় পক্ষই জামানত বাবদ ১৫ হাজার করে টাকা জমা দেয়। কিন্তু তাঁরা (দোকানিরা) তা মানেন না। তাই আমরা দখল করেছি। কিন্তু সেটি আমাদের ঠিক হয়নি।’

এদিকে জোয়াড়ী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, ‘রুহুল আমিন জামায়াতে ইসলামী জোয়াড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সভাপতি ও তার ভাই কর্মী। দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় ১০টি দোকানে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাকসু ভিপি-জিএসকে ব্যঙ্গ করে রাবিতে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’

চাঁদা না দেওয়ায় ১০ দোকানে তালা, জামায়াত নেতা ও বিএনপির কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৪

আপডেট সময় ১১:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

এবার নাটোরের বড়াইগ্রামে চাঁদা না পেয়ে ১০টি দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বিএনপির কর্মীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা উপজেলার আহম্মেদপুর বাজারে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর জোয়াড়ী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও আহম্মেদপুর এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন (৪৫), তাঁর ভাই জামায়াতের কর্মী আজিমুদ্দিন (৪০), বিএনপির কর্মী হায়দার আলী (৪৮) ও তাঁর বাবা মুজিবর রহমান (৭০)।

এদিকে চাঁদা দাবি ও দোকানে তালা দেওয়ার ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম নামের এক দোকানি বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তিনি এবং নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কোরবান আলী, শাহ আলম হোসেন ও মোতালেব হোসেন ওই জমির মালিক হিসেবে দাবি করেছেন। সেখানে তাঁদের ১০টি দোকান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অনেক দিন ধরে আহম্মেদপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন রুহুল আমিন ও তাঁর ভাইয়েরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাঁরা ৪০ থেকে ৫০ জন লোক নিয়ে গতকাল বেলা ১১টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁরা তালা দিয়ে আমাদের ১০টি দোকান বন্ধ করে দেন। আমরা নিরুপায় হয়ে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দিয়ে রক্ষা পেয়েছি।’

আরেক দোকানি কোরবান আলী বলেন, ‘বিকেলে সেনাবাহিনী ও বড়াইগ্রাম থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাঁরা ১০টি দোকানের তালা খুলে ব্যবসা করার ব্যবস্থা করে দেন।’ এদিকে গ্রেপ্তারের আগে চাঁদা চাওয়ার কথা অস্বীকার করে জামায়াত নেতা রুহুল আমিন বলেন, ‘ওই জমি আমাদের। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা (দোকানি) জমি দখল করে রেখেছেন। জমি ফেরত চাইলে তাঁরা দোকান ছাড়ছেন না। এ বিষয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি। তবে এভাবে দোকানে তালা দেওয়া আমাদের ঠিক হয়নি।’

বিএনপি কর্মী হায়দার আলী বলেন, ‘উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক ও জোয়াড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মালেকের নেতৃত্ব ঘটনাটি সমাধান করার জন্য একটি কমিটি করা হয়। সেখানে উভয় পক্ষই জামানত বাবদ ১৫ হাজার করে টাকা জমা দেয়। কিন্তু তাঁরা (দোকানিরা) তা মানেন না। তাই আমরা দখল করেছি। কিন্তু সেটি আমাদের ঠিক হয়নি।’

এদিকে জোয়াড়ী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, ‘রুহুল আমিন জামায়াতে ইসলামী জোয়াড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সভাপতি ও তার ভাই কর্মী। দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় ১০টি দোকানে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।’