এবার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সড়ক প্রশস্তকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের আওতায় ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণ নিয়ে বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, তুরস্কের বেসরকারি সংবাদ সংস্থা ইহলাস নিউজ এজেন্সি (আইএইচএলএএস)-এর প্রতিবদনের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে। মসজিদের একটি অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগের প্রতিবাদে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিম বাসিন্দা সেখানে অবস্থান নেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রশাসন ওই অংশ অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাথর ছোড়াসহ সংঘর্ষের ঘটনায় সাতটি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল সীমিত করা হয়েছে। উজ্জয়িনী প্রশাসন বলছে, পুরো শাহী মসজিদ ভাঙা হচ্ছে না। সড়ক প্রশস্তকরণের নির্ধারিত অংশের মধ্যে পড়া মসজিদের একটি ছোট অংশ অপসারণ করা হচ্ছে। উজ্জয়িনীর জেলা প্রশাসক রোশন সিং জানিয়েছেন, ওই অংশটি মসজিদ কমিটির সম্মতিতে সরানো হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, মসজিদের যে অংশটি প্রকল্পের আওতায় পড়েছে, তা মোট মসজিদ চত্বরের ১০ শতাংশেরও কম। মসজিদ কমিটি প্রথমে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর ওই অংশ সরাতে সম্মত হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো মসজিদ ভেঙে ফেলার দাবি ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বাড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















