ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের সঙ্গে হাসনাত-সারজিস-নাসীরুদ্দীনের ধাক্কাধাক্কি হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক আসামি করে এনসিপির মামলা হামলার ঘটনায় এবার বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এনসিপির লিখিত অভিযোগ ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থানকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের সুযোগ থাকা উচিত নয়: মাহফুজ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমবোলোর লাল কার্ড ভুল ছিল, স্বীকার করল আইএফএবি স্পেনে ঘরে ফিরছেন হাজারো মানুষ, নতুন তাপপ্রবাহে আবারও দাবানলের শঙ্কা সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মামুনুল হকের চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান, উত্তেজনা চরমে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার

স্পেনে ঘরে ফিরছেন হাজারো মানুষ, নতুন তাপপ্রবাহে আবারও দাবানলের শঙ্কা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:২১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

স্পেনে ভয়াবহ দাবানলের কারণে সরিয়ে নেওয়া হাজারো মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। টলেডো, মাদ্রিদ, আভিলা ও কাস্তেয়োন অঞ্চলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় জারি করা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।

শুধু মাদ্রিদ অঞ্চলেই প্রায় ২৪ হাজার মানুষকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও প্রায় ২০ হাজার মানুষের ওপর আরোপিত ঘরে অবস্থানের নির্দেশনাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। স্পেন ও ফ্রান্স—উভয় দেশই চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কয়েকটি দাবানল এখনও জ্বলছে। এর মধ্যে মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে আভিলার বুরগোহোন্দো এলাকার আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

 

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরোন্দ অঞ্চলেও বড় দাবানলগুলো আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, শুষ্ক বাতাস এবং সর্বোচ্চ ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

 

বোর্দোর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত লে বার্প শহরের মেয়র ব্লানদিন সারাজাঁ বলেন, আগের দিন দুটি নতুন দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

 

জিরোন্দে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে দমকল বাহিনী। এসব ‘সেভেসো’ শিল্পকারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট তৈরিতে ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান উৎপাদন করা হয়।

 

এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, রাজধানীর কাছাকাছি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। কারণ তাপমাত্রা বাড়ছে, বাতাসে আর্দ্রতা কমছে এবং দমকা হাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।”

 

ভ্যালেন্সিয়ার উত্তর-পশ্চিমে ভাল দ’উইশো এলাকার একটি দাবানল এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।

 

অন্যদিকে আভিলা প্রদেশের বুরগোহোন্দোর দাবানলে ইতোমধ্যে ৪৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। এটি এখন স্পেনের ইতিহাসে নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় দাবানল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলতি বছর দেশটিতে দাবানলে মোট ২ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে।

 

বুরগোহোন্দোর আগুনে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের সমন্বয়কারী ফ্রান্সিসকো বোলানিওস বলেন, রাতে আগুন এক সেন্টিমিটারও এগোয়নি। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে আবারও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ১৮০ কিলোমিটারজুড়ে আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

 

বাড়ি ফেরা মানুষের মধ্যে মাদ্রিদের পশ্চিমে নাভাস দেল রে ও চাপিনেরিয়া শহরের প্রায় এক হাজার বাসিন্দাও রয়েছেন। দাবানলের সময় তারা রাজধানীর উপকণ্ঠের লেগানেস শহরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

 

চাপিনেরিয়ার মেয়র লুসিয়া ময়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টেলেমাদ্রিদকে বলেন, “আমাদের শহরের ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ। অনেক মানুষ তাদের বাড়ি ও জীবিকা হারিয়েছেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।”

 

এ ছাড়া কাছাকাছি তিয়েতার উপত্যকা থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রায় দুই হাজার মানুষকে তালাভেরা দে লা রেইনা শহরের স্বেচ্ছাসেবীরা আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছেন।

 

তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রেই ছিলেন। তালাভেরা দে লা রেইনার মেয়র হোসে হুলিয়ান গ্রেগোরিও জানান, তাদের প্রথম দিনের মতোই প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

মাদ্রিদ ও কাস্তেয়োনের দাবানলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে দক্ষিণাঞ্চলীয় সেভিলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে আলমেরিয়ার লস গাইয়ারদোস দাবানলে গুরুতর দগ্ধ হওয়া এক নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

 

আলমেরিয়ার ওই দাবানলে মোট ১৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও স্পেনের নাগরিকও ছিলেন।

 

প্রতিবেশী পর্তুগালের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভিলা রিয়াল জেলাতেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সিভিল প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে সক্রিয় আগুনের রেখা রয়েছে। ভালপাসোস শহরের কাছে একটি পানি শোধনাগার ও গ্যাস ডিপোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

 

এ ছাড়া গ্রিসের এজিয়ান সাগরের পারোস দ্বীপ এবং মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় ত্রিফিলিয়া এলাকাতেও নতুন দাবানল দেখা দিয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস বলছে, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপ প্রায় দ্বিগুণ হারে উষ্ণ হচ্ছে।

 

এর ফলে গ্রীষ্মকালে আরও তীব্র তাপপ্রবাহ, পানির সংকট এবং ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

 

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের সঙ্গে হাসনাত-সারজিস-নাসীরুদ্দীনের ধাক্কাধাক্কি

স্পেনে ঘরে ফিরছেন হাজারো মানুষ, নতুন তাপপ্রবাহে আবারও দাবানলের শঙ্কা

আপডেট সময় ০৯:২১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

স্পেনে ভয়াবহ দাবানলের কারণে সরিয়ে নেওয়া হাজারো মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। টলেডো, মাদ্রিদ, আভিলা ও কাস্তেয়োন অঞ্চলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় জারি করা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।

শুধু মাদ্রিদ অঞ্চলেই প্রায় ২৪ হাজার মানুষকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও প্রায় ২০ হাজার মানুষের ওপর আরোপিত ঘরে অবস্থানের নির্দেশনাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। স্পেন ও ফ্রান্স—উভয় দেশই চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কয়েকটি দাবানল এখনও জ্বলছে। এর মধ্যে মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে আভিলার বুরগোহোন্দো এলাকার আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

 

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরোন্দ অঞ্চলেও বড় দাবানলগুলো আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, শুষ্ক বাতাস এবং সর্বোচ্চ ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

 

বোর্দোর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত লে বার্প শহরের মেয়র ব্লানদিন সারাজাঁ বলেন, আগের দিন দুটি নতুন দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

 

জিরোন্দে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে দমকল বাহিনী। এসব ‘সেভেসো’ শিল্পকারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট তৈরিতে ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান উৎপাদন করা হয়।

 

এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, রাজধানীর কাছাকাছি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। কারণ তাপমাত্রা বাড়ছে, বাতাসে আর্দ্রতা কমছে এবং দমকা হাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।”

 

ভ্যালেন্সিয়ার উত্তর-পশ্চিমে ভাল দ’উইশো এলাকার একটি দাবানল এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।

 

অন্যদিকে আভিলা প্রদেশের বুরগোহোন্দোর দাবানলে ইতোমধ্যে ৪৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। এটি এখন স্পেনের ইতিহাসে নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় দাবানল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলতি বছর দেশটিতে দাবানলে মোট ২ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে।

 

বুরগোহোন্দোর আগুনে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের সমন্বয়কারী ফ্রান্সিসকো বোলানিওস বলেন, রাতে আগুন এক সেন্টিমিটারও এগোয়নি। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে আবারও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ১৮০ কিলোমিটারজুড়ে আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

 

বাড়ি ফেরা মানুষের মধ্যে মাদ্রিদের পশ্চিমে নাভাস দেল রে ও চাপিনেরিয়া শহরের প্রায় এক হাজার বাসিন্দাও রয়েছেন। দাবানলের সময় তারা রাজধানীর উপকণ্ঠের লেগানেস শহরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

 

চাপিনেরিয়ার মেয়র লুসিয়া ময়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টেলেমাদ্রিদকে বলেন, “আমাদের শহরের ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ। অনেক মানুষ তাদের বাড়ি ও জীবিকা হারিয়েছেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।”

 

এ ছাড়া কাছাকাছি তিয়েতার উপত্যকা থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রায় দুই হাজার মানুষকে তালাভেরা দে লা রেইনা শহরের স্বেচ্ছাসেবীরা আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছেন।

 

তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রেই ছিলেন। তালাভেরা দে লা রেইনার মেয়র হোসে হুলিয়ান গ্রেগোরিও জানান, তাদের প্রথম দিনের মতোই প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

মাদ্রিদ ও কাস্তেয়োনের দাবানলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে দক্ষিণাঞ্চলীয় সেভিলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে আলমেরিয়ার লস গাইয়ারদোস দাবানলে গুরুতর দগ্ধ হওয়া এক নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

 

আলমেরিয়ার ওই দাবানলে মোট ১৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও স্পেনের নাগরিকও ছিলেন।

 

প্রতিবেশী পর্তুগালের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভিলা রিয়াল জেলাতেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সিভিল প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে সক্রিয় আগুনের রেখা রয়েছে। ভালপাসোস শহরের কাছে একটি পানি শোধনাগার ও গ্যাস ডিপোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

 

এ ছাড়া গ্রিসের এজিয়ান সাগরের পারোস দ্বীপ এবং মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় ত্রিফিলিয়া এলাকাতেও নতুন দাবানল দেখা দিয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস বলছে, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপ প্রায় দ্বিগুণ হারে উষ্ণ হচ্ছে।

 

এর ফলে গ্রীষ্মকালে আরও তীব্র তাপপ্রবাহ, পানির সংকট এবং ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

 

সূত্র: বিবিসি