ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার লাশের সামনে অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি সুজন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

সাত ঘণ্টার জন্য দিনাজপুর কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশ নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন। বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। উপস্থিত অনেকেই এ দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

শনিবার (৩০ মে) সকালে দিনাজপুর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় বাবাকে হারানোর শোকে তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশগ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো কিছু সময় কাটানোর সুযোগ দিতে তাকে সাত ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দবিরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

শনিবার (৩০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং হাজারো সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

 

সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন বলেন, বাবাকে খুব ভালোবাসতাম। শেষ সময়ে তার কাছে থাকতে পারলাম না। আমাকে নিয়ে চেন্নাই চিকিৎসার জন্য যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার, এরপরে হজে। জেলে থাকার কারণে কোনোকিছু করতে পারলাম না। এই কষ্ট সারাজীবন আমাকে কাঁদাবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ৩৫ বছর তিনি এ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তার যদি কোনো ভুলত্রুটি থেকে থাকে, আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। মানুষের ভালোবাসাই ছিল বাবার সবচেয়ে বড় শক্তি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে ছিলেন। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-২ আসনের অন্যতম পরিচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিরল রেকর্ড গড়েন। স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে জানান স্থানীয়রা।

 

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে হলেও, পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ১৯৮৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকবিরোধী কমিটির উপদেষ্টার রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি বিএনপি নেতার

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার লাশের সামনে অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি সুজন

আপডেট সময় ১১:২৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

সাত ঘণ্টার জন্য দিনাজপুর কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশ নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন। বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। উপস্থিত অনেকেই এ দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

শনিবার (৩০ মে) সকালে দিনাজপুর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় বাবাকে হারানোর শোকে তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশগ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো কিছু সময় কাটানোর সুযোগ দিতে তাকে সাত ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দবিরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

শনিবার (৩০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং হাজারো সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

 

সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন বলেন, বাবাকে খুব ভালোবাসতাম। শেষ সময়ে তার কাছে থাকতে পারলাম না। আমাকে নিয়ে চেন্নাই চিকিৎসার জন্য যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার, এরপরে হজে। জেলে থাকার কারণে কোনোকিছু করতে পারলাম না। এই কষ্ট সারাজীবন আমাকে কাঁদাবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ৩৫ বছর তিনি এ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তার যদি কোনো ভুলত্রুটি থেকে থাকে, আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। মানুষের ভালোবাসাই ছিল বাবার সবচেয়ে বড় শক্তি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে ছিলেন। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-২ আসনের অন্যতম পরিচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিরল রেকর্ড গড়েন। স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে জানান স্থানীয়রা।

 

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে হলেও, পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ১৯৮৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।