২০১৫ সালে গুম হওয়ার পর ৬১ দিনের বন্দিদশা এবং ভারতের মেঘালয়ে ৯ বছরের নির্বাসিত জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভায় নিজের জীবনের চরম সংকটের কথা স্মরণ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে তুলে নেওয়ার পর তাকে মাত্র ৮ ফুট বাই ৪ ফুটের একটি অন্ধকার কক্ষে ৬১ দিন আটকে রাখা হয়। ঘরে ছিল একটি পানির কল, শৌচকার্যের জন্য সরু একটি ছিদ্র, একটি কম্বল ও বালিশ। হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও বন্দিদশায় কোনো চিকিৎসা পাননি তিনি।
এরপর চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের মেঘালয়ের একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায়। সেখানে তাকে ফেলে যায় অপহরণকারীরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
শিলংয়ে তাকে প্রথমে হাসপাতালে এবং পরে মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মানসিক রোগীদের সঙ্গে রাখা, ওষুধ খাওয়ানো এবং চশমা কেড়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।
সেই সময় নিজের পরিচয় নিয়েও শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন সালাহউদ্দিন। একপর্যায়ে স্ত্রীর ফোন পেয়ে বুঝতে পারেন, পরিবার তার বেঁচে থাকার খবর পেয়েছে। পরে ক্যামেরার সামনে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে আবেগে চিৎকার করে বলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন।’
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালে নিম্ন আদালত এবং ২০২৩ সালে আপিল আদালত তাকে খালাস দেন।
দীর্ঘ ৯ বছরের নির্বাসন শেষে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরেন তিনি। নিজের বক্তব্যে জুলাইয়ের আন্দোলনকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান হওয়ায় ভারত থেকে আমি দেশে ফিরতে পেরেছি।”
তার এই স্মৃতিচারণ শুধু ব্যক্তিগত দুঃসহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা নয়; বরং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং ন্যায়বিচারের দাবিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















