ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ৫ সমঝোতা স্মারক ও তিন নোট বিনিময়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • ৭৬৯ বার পড়া হয়েছে

এবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের তিন দিনের মালয়েশিয়া সফরের প্রথম দিন মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া বিভিন্ন সহযোগিতামূলক খাতে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং তিনটি নোট বিনিময় করেছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে কুয়ালালামপুরের পুত্রজায়ায় প্রধান উপদেষ্টা ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি ও নোট বিনিময় হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রথম নোট বিনিময় হয় উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো’ সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান ও বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজ নিজ দেশের পক্ষে নোট বিনিময় করেন।

দ্বিতীয় নোট বিনিময় হয় কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে। এতে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো’ সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন স্বাক্ষর করেন। তৃতীয় নোট বিনিময় হয় হালাল ইকোসিস্টেম খাতে সহযোগিতা নিয়ে। এতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উপমন্ত্রী সেনেটর ড. জুলকিফলি বিন হাসান ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন স্বাক্ষর করেন।

এছাড়া, প্রথম এমওইউ হয় প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বিষয়ে। মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতো’ সেরি মোহাম্মদ খালেদ বিন নরদিন ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এতে স্বাক্ষর করেন। দ্বিতীয় এমওইউ হয় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ও অবকাঠামো, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা নিয়ে। এতে মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক মন্ত্রী দাতুক সেরি আমির হামজা বিন আজিজান ও বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা এম ফওজুল কবির খান স্বাক্ষর করেন।

তৃতীয় এমওইউ হয় মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (আইএসআইএস) এবং বাংলাদেশের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে। এতে আইএসআইএস মালয়েশিয়ার চেয়ারম্যান দাতুক প্রফেসর ড. মোহদ ফাইজ আবদুল্লাহ ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান স্বাক্ষর করেন।

চতুর্থ এমওইউ হয় মালয়েশিয়ার এমআইএমওএস সার্ভিসেস এসডিএন. বিএইচডি (এমএসএসবি) এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই)-এর মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে। এতে এমএসএসবি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফৌজি ইয়াহায়া ও বিএমসিসিআই-এর সভাপতি সাব্বির আহমেদ খান স্বাক্ষর করেন।

পঞ্চম এমওইউ হয় মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া (এনসিসিআইএম) এবং বাংলাদেশের ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে। এতে এনসিসিআইএম-এর সভাপতি দাতো’ সেরি এন. গোপালাকৃষ্ণন ও এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষর করেন।

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় ৭টা) প্রধান উপদেষ্টা কুয়ালালামপুরের পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা দেওয়া হয়। সেখানে ড. ইউনূসকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গার্ড অব অনার প্রদান শেষে আনোয়ার ইব্রাহিম তার মন্ত্রিসভার সদস্যদেরকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে ড. ইউনূস প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ৫ সমঝোতা স্মারক ও তিন নোট বিনিময়

আপডেট সময় ১০:৩৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

এবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের তিন দিনের মালয়েশিয়া সফরের প্রথম দিন মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া বিভিন্ন সহযোগিতামূলক খাতে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং তিনটি নোট বিনিময় করেছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে কুয়ালালামপুরের পুত্রজায়ায় প্রধান উপদেষ্টা ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি ও নোট বিনিময় হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রথম নোট বিনিময় হয় উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো’ সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান ও বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজ নিজ দেশের পক্ষে নোট বিনিময় করেন।

দ্বিতীয় নোট বিনিময় হয় কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে। এতে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো’ সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন স্বাক্ষর করেন। তৃতীয় নোট বিনিময় হয় হালাল ইকোসিস্টেম খাতে সহযোগিতা নিয়ে। এতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উপমন্ত্রী সেনেটর ড. জুলকিফলি বিন হাসান ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন স্বাক্ষর করেন।

এছাড়া, প্রথম এমওইউ হয় প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বিষয়ে। মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতো’ সেরি মোহাম্মদ খালেদ বিন নরদিন ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এতে স্বাক্ষর করেন। দ্বিতীয় এমওইউ হয় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ও অবকাঠামো, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা নিয়ে। এতে মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক মন্ত্রী দাতুক সেরি আমির হামজা বিন আজিজান ও বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা এম ফওজুল কবির খান স্বাক্ষর করেন।

তৃতীয় এমওইউ হয় মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (আইএসআইএস) এবং বাংলাদেশের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে। এতে আইএসআইএস মালয়েশিয়ার চেয়ারম্যান দাতুক প্রফেসর ড. মোহদ ফাইজ আবদুল্লাহ ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান স্বাক্ষর করেন।

চতুর্থ এমওইউ হয় মালয়েশিয়ার এমআইএমওএস সার্ভিসেস এসডিএন. বিএইচডি (এমএসএসবি) এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই)-এর মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে। এতে এমএসএসবি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফৌজি ইয়াহায়া ও বিএমসিসিআই-এর সভাপতি সাব্বির আহমেদ খান স্বাক্ষর করেন।

পঞ্চম এমওইউ হয় মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া (এনসিসিআইএম) এবং বাংলাদেশের ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে। এতে এনসিসিআইএম-এর সভাপতি দাতো’ সেরি এন. গোপালাকৃষ্ণন ও এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষর করেন।

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় ৭টা) প্রধান উপদেষ্টা কুয়ালালামপুরের পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা দেওয়া হয়। সেখানে ড. ইউনূসকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গার্ড অব অনার প্রদান শেষে আনোয়ার ইব্রাহিম তার মন্ত্রিসভার সদস্যদেরকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে ড. ইউনূস প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।