ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রবাসীদের দিয়ে যুবদলের কমিটি, একযোগে ১৬ নেতার পদত্যাগ শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী ঘুষের টাকা গুনতে গুনতে ভূমি কর্মকর্তা বললেন, এক মাসে কাজ কমপ্লিট করে দেওয়া হবে ‘আওয়ামী লীগ তো ভারতে জায়গা পেয়েছে, আপনারা কোথায় পালাবেন’—গাংনীতে এনসিপির পথসভায় বক্তারা ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, জায়গা পেলেন ওসমান হাদিও আগে ভোট চুরি হতো এবার বিএনপি ফল চুরি করেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ রক্ত লেখা ইতিহাস কখনো মুছে যায় না: নাহিদ ইসলাম ভারতের দিকে তাক করা চীনের ১১ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, স্যাটেলাইট ইমেজে অবাক করা দৃশ্য তিন শিক্ষার্থীকে পে’টা’লে’ন সালাহউদ্দিন আম্মারসহ শিবির নেতারা ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

অবশেষে ঢাকার সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ২৯৫ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করলেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ট্রাফিক বিভাগ—এমনটাই জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে সম্প্রতি একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, নিবন্ধন ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবহার এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষই নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আগামী মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকের পরই চূড়ান্ত নির্দেশনা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পুলিশ—উভয় পক্ষই প্রধান সড়ক থেকে এগুলো সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেই আসবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে প্রথম ধাপে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পুরো শহরে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। আগামী মাসের মধ্যভাগে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নগরবাসীকে বিষয়টি জানানো হতে পারে।

এদিকে এআই ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে চলাচল ও লেন ভাঙার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ই-প্রসিকিউশন ব্যবস্থার মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। অধিকাংশ যানবাহনের নেই বৈধ নিবন্ধন, নম্বরপ্লেট বা চালকের লাইসেন্স। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যকর হলেও এসব যান নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

ট্রাফিক বিভাগ জানায়, রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত জনবলও সীমিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কিছু গ্যারেজ ও মালিকপক্ষ থাকার কারণে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমস্যার সমাধান কঠিন হবে বলে মনে করছে তারা।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যক্রম ধাপে ধাপে বিস্তৃত করা হবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবাসীদের দিয়ে যুবদলের কমিটি, একযোগে ১৬ নেতার পদত্যাগ

অবশেষে ঢাকার সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ

আপডেট সময় ০২:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করলেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ট্রাফিক বিভাগ—এমনটাই জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে সম্প্রতি একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, নিবন্ধন ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবহার এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষই নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আগামী মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকের পরই চূড়ান্ত নির্দেশনা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পুলিশ—উভয় পক্ষই প্রধান সড়ক থেকে এগুলো সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেই আসবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে প্রথম ধাপে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পুরো শহরে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। আগামী মাসের মধ্যভাগে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নগরবাসীকে বিষয়টি জানানো হতে পারে।

এদিকে এআই ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে চলাচল ও লেন ভাঙার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ই-প্রসিকিউশন ব্যবস্থার মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। অধিকাংশ যানবাহনের নেই বৈধ নিবন্ধন, নম্বরপ্লেট বা চালকের লাইসেন্স। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যকর হলেও এসব যান নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

ট্রাফিক বিভাগ জানায়, রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত জনবলও সীমিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কিছু গ্যারেজ ও মালিকপক্ষ থাকার কারণে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমস্যার সমাধান কঠিন হবে বলে মনে করছে তারা।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যক্রম ধাপে ধাপে বিস্তৃত করা হবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।