এবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তেলাবিব কেন্দ্রিক নীতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আরব দেশগুলো একত্রিত হয়ে ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, কাতারের পর এবার তুরস্কের দিকে ইসরাইলি হামলার নজর পড়েছে।
এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, দোহা হামলার পর তেলাবিবের আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে কাতারের উপর আঘাতের পর দ্রুত গতিতে তুরস্ককে পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে দেখছে ইসরাইল। ওয়াশিংটনের ডানপন্থী ‘আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের’ জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল রুবিনের মতে, তুরস্কই ইসরাইলের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ইসরাইলকে প্রতিহত করতে শুধুমাত্র ন্যাটো সদস্যপদের উপর নির্ভর করা উচিত নয়।
আঙ্কারার সামাজিক মাধ্যমেও খবর ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইসরাইলের নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা তুরস্ককে পরবর্তী লক্ষ্য বানাতে পারে। ইসরাইলি শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মেয়ের মাশরি পোস্টে বলেছেন, “আজ কাতার, আগামীকাল তুরস্ক।” তবে এরদোয়ান প্রশাসক এর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইসরাইলকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “দ্রুতই বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইসরাইলকে মুছে ফেলার মধ্যে শান্তি ফেরানো হবে।”
ইসরাইল পূর্ব ভূমধ্য সাগরে তুর্কিদের উপস্থিতিকে হুমকি হিসেবে দেখছে এবং সিরিয়ার পুনর্গঠনেও তুরস্ককে নতুন ক্রমবর্ধমান বিপদ হিসেবে বিবেচনা করছে। গাজা যুদ্ধের কোনো সমাধান না থাকায় আগস্টে তুরস্ক ইসরাইলের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করে প্রতিশোধ নিয়েছে। কাতারের উপরে হামলার পর তুরস্ক মার্কিন নিরাপত্তার গ্যারান্টি নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছে। দোহাতে হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া না থাকায় ইসরাইলকে কোন বাধা মনে হয়নি। ফলে তুরস্কের উপর ইসরাইলের যেকোনো আক্রমণ ন্যাটোর নির্দেশনায় কতটা গুরুত্ব পাবে তা প্রশ্নবিদ্ধ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্ক বহু আগে থেকেই বুঝেছে যে নিজের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোর উপর পুরোপুরি নির্ভর করা সম্ভব নয়। রোববার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আল জাজিরাকে বলেছেন, “বৃহত্তর ইসরাইল, সিরিয়া, মিশর ও জর্ডান এই অঞ্চলের দেশগুলোকে দুর্বল ও অকার্যকর রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে ইসরাইল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে বিভক্ত রাখতে চাইছে।”

ডেস্ক রিপোর্ট 






















