ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী বালিশ মিষ্টি পেলো জিআই স্বীকৃতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৩০ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার শতবর্ষী ঐতিহ্যের প্রতীক বালিশ মিষ্টি অবশেষে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেল। সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর (ডিপিডিটি) এই মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। স্বীকৃতির খবরে আনন্দে ভাসছে নেত্রকোনাবাসী।

প্রায় ১২০ বছর আগে বারহাট্টা রোডের স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম তৈরি করেন এই মিষ্টি। ছোট বালিশের মতো লম্বাটে ও তুলতুলে আকারের জন্যই এর নাম হয় ‘বালিশ মিষ্টি’। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগেই এ মিষ্টি জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে মালিকানা হাতবদল হলেও গয়ানাথ ঘোষের নামেই পরিচিতি ধরে রেখেছে এটি।

মিষ্টি তৈরির মূল উপকরণ দুধ, চিনি ও ছানা। প্রথমে দুধ থেকে ছানা তৈরি করে ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে মণ্ড বানানো হয়, তারপর সেটিকে লম্বাটে আকার দিয়ে চিনির রসে ভিজানো হয়। উপরে দেওয়া হয় ঘন দুধের মালাই। কারিগররা দাবি করেন, বিশেষ কিছু কৌশল প্রয়োগের কারণেই বালিশ মিষ্টির স্বাদ আলাদা।

অতীতে এ মিষ্টি কয়েকদিন পর্যন্ত ভালো থাকলেও বর্তমানে এক থেকে দুই দিনেই নষ্ট হয়ে যায়। আকারভেদে এর দাম ৩০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রথম দিকে দাম ছিল মাত্র ৫০ পয়সা। বর্তমানে নিখিল মোদকের পরিবার গয়ানাথ ঘোষের দোকান পরিচালনা করছে। বাবুল মোদক জানান, স্বীকৃতি পাওয়ায় তারা গর্বিত এবং ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, নেত্রকোনার নাম উঠলেই বালিশ মিষ্টির কথা আসে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই অফিশিয়াল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে।

বালিশ মিষ্টি এখন শুধু নেত্রকোনার নয়, দেশের গর্বের অংশ হয়ে উঠলো।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী বালিশ মিষ্টি পেলো জিআই স্বীকৃতি

আপডেট সময় ১১:০৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নেত্রকোনার শতবর্ষী ঐতিহ্যের প্রতীক বালিশ মিষ্টি অবশেষে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেল। সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর (ডিপিডিটি) এই মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। স্বীকৃতির খবরে আনন্দে ভাসছে নেত্রকোনাবাসী।

প্রায় ১২০ বছর আগে বারহাট্টা রোডের স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম তৈরি করেন এই মিষ্টি। ছোট বালিশের মতো লম্বাটে ও তুলতুলে আকারের জন্যই এর নাম হয় ‘বালিশ মিষ্টি’। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগেই এ মিষ্টি জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে মালিকানা হাতবদল হলেও গয়ানাথ ঘোষের নামেই পরিচিতি ধরে রেখেছে এটি।

মিষ্টি তৈরির মূল উপকরণ দুধ, চিনি ও ছানা। প্রথমে দুধ থেকে ছানা তৈরি করে ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে মণ্ড বানানো হয়, তারপর সেটিকে লম্বাটে আকার দিয়ে চিনির রসে ভিজানো হয়। উপরে দেওয়া হয় ঘন দুধের মালাই। কারিগররা দাবি করেন, বিশেষ কিছু কৌশল প্রয়োগের কারণেই বালিশ মিষ্টির স্বাদ আলাদা।

অতীতে এ মিষ্টি কয়েকদিন পর্যন্ত ভালো থাকলেও বর্তমানে এক থেকে দুই দিনেই নষ্ট হয়ে যায়। আকারভেদে এর দাম ৩০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রথম দিকে দাম ছিল মাত্র ৫০ পয়সা। বর্তমানে নিখিল মোদকের পরিবার গয়ানাথ ঘোষের দোকান পরিচালনা করছে। বাবুল মোদক জানান, স্বীকৃতি পাওয়ায় তারা গর্বিত এবং ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, নেত্রকোনার নাম উঠলেই বালিশ মিষ্টির কথা আসে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই অফিশিয়াল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে।

বালিশ মিষ্টি এখন শুধু নেত্রকোনার নয়, দেশের গর্বের অংশ হয়ে উঠলো।