গাজায় হামলা ও চলমান মানবিক সংকটের কারণে বিশ্বমঞ্চে ক্রমেই একা হয়ে পড়ছে ইসরাইল। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর প্রভাব অর্থনীতি, কূটনীতি, সংস্কৃতি এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ছে।
গাজা সিটিতে ইসরাইলের স্থল আক্রমণ ও কাতারে হামাস নেতাদের হত্যার চেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নিন্দার জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত সম্প্রতি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে ইসরাইল—যা মানবাধিকার গোষ্ঠী ও বিশেষজ্ঞদের মতের সঙ্গেও মিলে গেছে। যদিও ইসরাইলি সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরাইলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আংশিক স্থগিতের প্রস্তাব করেছে। ইতোমধ্যে কিছু পশ্চিমা দেশ ইসরাইলি ব্যক্তি, বসতি স্থাপনকারী ও সহিংসতা সমর্থনকারী সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলও গাজার পরিস্থিতির কারণে ইসরাইলি বিনিয়োগ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশ ইসরাইলের ওপর আংশিক বা সম্পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়া আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় সম্প্রচারক ইসরাইলকে ২০২৬ সালের ইউরোভিশন প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে বয়কটের হুমকি দিয়েছে।
হলিউডেও বহু চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা ও কর্মী ইসরাইলি চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ না করার অঙ্গীকার করেছেন। একইসঙ্গে ইউরোপীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা থেকেও ইসরাইলকে বহিষ্কারের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইসরাইলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহার জানিয়েছেন, ইউইএফএ থেকে বহিষ্কার ঠেকাতে তারা নেপথ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব এতটাই গভীর যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই স্বীকার করেছেন, ইসরাইল এক ধরনের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হয়েছে, যা বছরের পর বছর স্থায়ী হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























