ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অপমান’ আর ‘অসহায়ত্ব’ নিয়ে ব্যাংক থেকে ফিরছেন আমানতকারীরা, সমাধান কী?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩২৪ বার পড়া হয়েছে

দুর্বল ব্যাংকের কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আমানতকারীরা। কাউন্টার থেকে অল্প অল্প টাকা হাতে পাওয়া, ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত অর্থ না মেলা এবং অসহায়ভাবে ফিরে আসা এখন নিয়মিত অভিজ্ঞতা। কেউ কেউ কাঁদতে কাঁদতে ব্যাংক ছাড়ছেন, আবার কেউ মেয়ের বিয়ের খরচের টাকাও তুলতে পারছেন না।

ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জমা টাকা বড় অংকে পরিণত হলেও ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্বলতা ও মন্দঋণের ফাঁদে তাদের স্বপ্ন থমকে যাচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ী ও এসএমই উদ্যোক্তারা বলছেন, ঋণ অনুমোদন না হওয়ায় তারা সুযোগ হারাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ক্লায়েন্টের কাজও হাতছাড়া হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বড় প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণে ব্যাংক খাত জর্জরিত হলেও দুর্বল ব্যাংকের চাপ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো আর্থিক খাতে। বর্তমানে ৬০ ব্যাংকের মধ্যে ভালো অবস্থায় আছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি, দেউলিয়ার পথে ১২টি এবং ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ১৫টি।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে খেলাপি ঋণ দ্রুত পুনরুদ্ধার ও ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মতো উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫ কার্যকর হলে দেউলিয়া বা দুর্বল ব্যাংক সাময়িকভাবে সরকারের মালিকানায় যাবে, যাতে আমানতকারীরা অন্তত আস্থায় থাকতে পারেন। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হতে আরও দুই বছর লাগতে পারে, ফলে আমানতকারীদের ভোগান্তি তাৎক্ষণিকভাবে কাটার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘অপমান’ আর ‘অসহায়ত্ব’ নিয়ে ব্যাংক থেকে ফিরছেন আমানতকারীরা, সমাধান কী?

আপডেট সময় ০৯:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দুর্বল ব্যাংকের কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আমানতকারীরা। কাউন্টার থেকে অল্প অল্প টাকা হাতে পাওয়া, ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত অর্থ না মেলা এবং অসহায়ভাবে ফিরে আসা এখন নিয়মিত অভিজ্ঞতা। কেউ কেউ কাঁদতে কাঁদতে ব্যাংক ছাড়ছেন, আবার কেউ মেয়ের বিয়ের খরচের টাকাও তুলতে পারছেন না।

ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জমা টাকা বড় অংকে পরিণত হলেও ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্বলতা ও মন্দঋণের ফাঁদে তাদের স্বপ্ন থমকে যাচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ী ও এসএমই উদ্যোক্তারা বলছেন, ঋণ অনুমোদন না হওয়ায় তারা সুযোগ হারাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ক্লায়েন্টের কাজও হাতছাড়া হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বড় প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণে ব্যাংক খাত জর্জরিত হলেও দুর্বল ব্যাংকের চাপ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো আর্থিক খাতে। বর্তমানে ৬০ ব্যাংকের মধ্যে ভালো অবস্থায় আছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি, দেউলিয়ার পথে ১২টি এবং ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ১৫টি।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে খেলাপি ঋণ দ্রুত পুনরুদ্ধার ও ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মতো উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫ কার্যকর হলে দেউলিয়া বা দুর্বল ব্যাংক সাময়িকভাবে সরকারের মালিকানায় যাবে, যাতে আমানতকারীরা অন্তত আস্থায় থাকতে পারেন। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হতে আরও দুই বছর লাগতে পারে, ফলে আমানতকারীদের ভোগান্তি তাৎক্ষণিকভাবে কাটার কোনো নিশ্চয়তা নেই।