ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে চীনের দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড শান্তিচুক্তির মধ্যেই ইরানের রাজধানীসহ একাধিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা  ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় মসজিদের ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয় ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রলিচাপায় নিজাম রাড়ী নিহতের ১ বছর পরে অভিযুক্ত ট্রলি চালক রিয়াজ র‍্যাবের হাতে আটক ভেঙে গেল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা, মমতা এখন কী করবেন দুবাই থেকে গ্রেপ্তার মূল আসামি আরিফ বরিশালে নারী শিক্ষার্থীকে হত্যা, মূল আসামি মাইনুল গ্রেপ্তার বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দিপালীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

গণভোট ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াতের নতুন পাল্টাপাল্টি অবস্থান: ‘নির্বাচনের দিন না আগে’ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৭:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৬২ বার পড়া হয়েছে

 

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট নিয়ে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে গেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ট্রেস কনসালট্যান্সি আয়োজিত এক সংলাপে দুই দলের নেতারা এ বিষয়ে বিপরীতমুখী মত দেন।

সংলাপে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব আসলে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি বলেন, “কথায় কথায় রাস্তায় নামলে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়। বড় দল যদি এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামে, তাহলে সংঘর্ষ হবে। এ জন্য কি আমরা শেখ হাসিনাকে বিদায় করেছি?”

অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনের দিনে গণভোট আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়। “৪৬ হাজার ভোটকেন্দ্রে একসঙ্গে দুটি ভোট হলে সময় লাগবে বেশি, ভোট কম পড়বে। এতে জুলাই সনদে জনগণের সমর্থন নিয়েও প্রশ্ন উঠবে,” বলেন তিনি।

জামায়াতের গণভোটের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিএনপির বর্তমান আচরণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে। তারা আলোচনায় বসতে রাজি নয়, যা অতীত সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি।”

আমীর খসরু পাল্টা যুক্তি দেন, “অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমান সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়েছে, যেখানে গণভোটের বিধান নেই। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে পাস না করে এখনই গণভোটের দাবি অবাস্তব।”

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারে, অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।”

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “মাঠের কর্মসূচি ও চাপ প্রয়োগে নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসতে হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে সেটিই হবে গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষার শেষ সুযোগ।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রেস কনসালট্যান্সির প্রধান নির্বাহী ফুয়াদ এম খালিদ হোসেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুষ নেয়ার অভিযোগে চীনের দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

গণভোট ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াতের নতুন পাল্টাপাল্টি অবস্থান: ‘নির্বাচনের দিন না আগে’ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

আপডেট সময় ০৯:১৭:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

 

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট নিয়ে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে গেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ট্রেস কনসালট্যান্সি আয়োজিত এক সংলাপে দুই দলের নেতারা এ বিষয়ে বিপরীতমুখী মত দেন।

সংলাপে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব আসলে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি বলেন, “কথায় কথায় রাস্তায় নামলে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়। বড় দল যদি এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামে, তাহলে সংঘর্ষ হবে। এ জন্য কি আমরা শেখ হাসিনাকে বিদায় করেছি?”

অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনের দিনে গণভোট আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়। “৪৬ হাজার ভোটকেন্দ্রে একসঙ্গে দুটি ভোট হলে সময় লাগবে বেশি, ভোট কম পড়বে। এতে জুলাই সনদে জনগণের সমর্থন নিয়েও প্রশ্ন উঠবে,” বলেন তিনি।

জামায়াতের গণভোটের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিএনপির বর্তমান আচরণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে। তারা আলোচনায় বসতে রাজি নয়, যা অতীত সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি।”

আমীর খসরু পাল্টা যুক্তি দেন, “অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমান সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়েছে, যেখানে গণভোটের বিধান নেই। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে পাস না করে এখনই গণভোটের দাবি অবাস্তব।”

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারে, অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।”

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “মাঠের কর্মসূচি ও চাপ প্রয়োগে নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসতে হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে সেটিই হবে গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষার শেষ সুযোগ।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রেস কনসালট্যান্সির প্রধান নির্বাহী ফুয়াদ এম খালিদ হোসেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম।