ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাবেক এমপি আনার হত্যার পরিকল্পনাকারী শিমুলের জামিন আওয়ামী লীগের পর বিএনপির দখলে, শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদে গুঁড়িয়ে গেল অবৈধ স্থাপনা ৫ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, দাবি শুভেন্দু অধিকারীর তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হাফিজুর আবারও কারাগারে ভাইরাল সেই ‘সুন্দরী’ নারী আসামি, সামনে এলো আসল পরিচয় ঋণের কিস্তি পরিশোধের দুশ্চিন্তা, গলায় ফাঁস দিয়ে প্রাণ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা ব্রাজিলের জালে ৭ বা তার বেশি গোল দিতে পেরেছে যারা পুলিশে যোগদানের ২০ বছর পর প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে এসআইয়ের মৃত্যু ইসরায়েলে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

বিয়ের এক দশক পর এক নারী একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে শেষপর্যন্ত কোনো শিশুকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই নবজাতকদের মধ্যে চারজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে ছিল। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার কালুখালী গ্রামে।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামের বাসিন্দা মহসিন মোল্যার স্ত্রী সালমা বেগম দীর্ঘ ১০ বছর পর গর্ভধারণ করেন। কয়েক মাস আগে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা তার গর্ভে ছয়টি সন্তান রয়েছে বলে জানান। তবে প্রসবের সময় দেখা যায়, তিনি সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

 

গত সোমবার (৪ মে) হঠাৎ প্রসব ব্যথা শুরু হলে সালমা বেগমকে দ্রুত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুটি মারা যায়। পরে একই রাতে আরও একটি সন্তান জন্ম নেয় এবং সেটিও বাঁচেনি।

 

পরদিন বুধবার (৬ মে) রাত পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় তাদের কেউই বেশিক্ষণ বাঁচেনি বলে জানিয়েছে পরিবার।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে কালুখালী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে ছয় নবজাতককে পাশাপাশি দাফন করা হয়। অপর শিশুটিকে যশোরে দাফন করা হয়েছে।

 

শিশুদের দাদা লতিফ মোল্যা বলেন, দীর্ঘদিন পর পরিবারে সন্তান আসার খবরে আমরা সবাই খুব খুশি ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হলো। নিজের হাতে এতগুলো শিশুকে কবর দিতে হবে কখনো ভাবিনি।

 

স্থানীয় শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, একসঙ্গে এত সন্তান জন্মের ঘটনা এলাকায় আগে কেউ দেখেননি। অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়ায় শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে তিনি ধারণা করছেন।

 

বর্তমানে প্রসূতি সালমা বেগম যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক এমপি আনার হত্যার পরিকল্পনাকারী শিমুলের জামিন

বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ

আপডেট সময় ১২:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

বিয়ের এক দশক পর এক নারী একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে শেষপর্যন্ত কোনো শিশুকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই নবজাতকদের মধ্যে চারজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে ছিল। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার কালুখালী গ্রামে।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামের বাসিন্দা মহসিন মোল্যার স্ত্রী সালমা বেগম দীর্ঘ ১০ বছর পর গর্ভধারণ করেন। কয়েক মাস আগে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা তার গর্ভে ছয়টি সন্তান রয়েছে বলে জানান। তবে প্রসবের সময় দেখা যায়, তিনি সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

 

গত সোমবার (৪ মে) হঠাৎ প্রসব ব্যথা শুরু হলে সালমা বেগমকে দ্রুত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুটি মারা যায়। পরে একই রাতে আরও একটি সন্তান জন্ম নেয় এবং সেটিও বাঁচেনি।

 

পরদিন বুধবার (৬ মে) রাত পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় তাদের কেউই বেশিক্ষণ বাঁচেনি বলে জানিয়েছে পরিবার।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে কালুখালী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে ছয় নবজাতককে পাশাপাশি দাফন করা হয়। অপর শিশুটিকে যশোরে দাফন করা হয়েছে।

 

শিশুদের দাদা লতিফ মোল্যা বলেন, দীর্ঘদিন পর পরিবারে সন্তান আসার খবরে আমরা সবাই খুব খুশি ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হলো। নিজের হাতে এতগুলো শিশুকে কবর দিতে হবে কখনো ভাবিনি।

 

স্থানীয় শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, একসঙ্গে এত সন্তান জন্মের ঘটনা এলাকায় আগে কেউ দেখেননি। অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়ায় শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে তিনি ধারণা করছেন।

 

বর্তমানে প্রসূতি সালমা বেগম যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।