ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০ নিজেদের সক্ষমতার সামান্যই ব্যবহার করেছে ইরান, নিচ্ছে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল ৭২-এর সংবিধান মোতাবেক শেখ হাসিনা এখনও দেশের প্রধানমন্ত্রী: ব্যারিস্টার ফুয়াদ ‘যেই বিএনপির জন্ম হয়েছে গণভোটের মাধ্যমে, তারাই আজ গণভোটকে অস্বীকার করছে’

অবৈধ নিয়োগ সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ড বিসিসির সিস্টেম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১৩৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ গোলাম রব্বানী। আছেন সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সিস্টেম ম্যানেজার ও বিকেআইআইসিটির ইনচার্জ পদে। অনুসন্ধানী তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর সহ সরকারি যে কোন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ পরিক্ষায় দূর্নীতি অনিয়ম এবং স্কোর কেলেঙ্কারির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে তার। অভিনব এই দূর্নীতির আশ্রয়ের সর্বপ্রথম ধাপে নির্ধারিত পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে, ডামি পরিক্ষার্থী বা বডি পরিক্ষার্থীর ব্যবহারও হয়ে থাকে তার নিজস্ব তত্বাবধায়নে।

অনুসন্ধানী তথ্যের বরাতে জানা যায়, অতিসম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিজ্ঞপ্তি যোগে অনুষ্ঠিত কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ পরিক্ষায়, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গোলাম রব্বানীর জালিয়াতি হাতে নাতে ধরা পড়লেও এখনো নীরব ভূমিকায় আছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

ইতিপূর্বে বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়মের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিলো। নির্ভরযোগ্য সূ্ত্র বলছে, কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি বড় সিন্ডিকেট সংঘবদ্ধ ভাবে কাজ করে। যেখানে কয়েকটি ধাপে এই অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়। প্রথমে নির্ধারিত প্রার্থীর সঙ্গে নিয়োগের নিশ্চয়তা ঘিরে চুক্তি হয় মোটা অংকের অনৈতিক অর্থ লেনদেনের। অতঃপর পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে পাঠানো ডামি পরীক্ষার্থী বা বডি চেঞ্জ পরিক্ষার্থী। লিখিত পরিক্ষায় ডামি প্রার্থীরা উত্তীর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে চলে প্রাকটিক্যাল পরিক্ষা সেখানেও মুল প্রার্থীর পরিবর্তে অংশ নেয় ডামি প্রার্থী। অতঃপর শেষ ধাপেও চলে ভাইবা জালিয়াতি। ডামি পরিক্ষার্থী বা বডি চেঞ্জ প্রার্থী এসে ভাইবা দিয়ে চলে যায় অনায়েশে। এক্ষেত্রে লেনদেন চলে তিন ধাপে। লিখিত পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর চুক্তির ৩০% অতঃপর প্র্যাকটিক্যালে উর্ত্তীন্ন হবার পর ৩০% এবং সর্বশেষ ভাইবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর বাকী ৪০% অর্থ লেনদেন হয়। যার পুরোটাই ভাগবাঁটোয়ারা করে নেয় সংঘবদ্ধ চক্রটি।

অনুসন্ধানে আরো জানা গিয়েছে, গোলাম রব্বানী নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (NDD) প্রকল্পে উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটির ইম্পোরিয়ো নামক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কাজ জেনওয়েব টু লিঃ নামক একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেয়ার জন্য নেন মোটা অংকের টাকা। যে অর্থের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর মিরপুরে দক্ষিণ পীরেরবাগ এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। যার ঠিকানা ১৪৭/২০/১ দক্ষিণ পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা।

এছাড়াও প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ প্রদান প্রকল্প থেকে দুর্নীতি, বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে করা দুর্নীতি, নিউরো ডেভলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার প্রকল্পে দূর্নীতিসহ অগণিত দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ, অপ্রচলিত অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সমূহ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চেয়ে মুঠোফোনে সংযুক্ত করা এবং তার বক্তব্য গ্রহণের চেষ্টা করা হলে, তিনি গণমাধ্যমকে এড়িয়ে গিয়েছেন। এবং এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদান করতে অসম্মতি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এমন কোনো বিষয় নজরে এলে বা কোনরূপ অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুততার সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার

অবৈধ নিয়োগ সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ড বিসিসির সিস্টেম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী

আপডেট সময় ০১:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ গোলাম রব্বানী। আছেন সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সিস্টেম ম্যানেজার ও বিকেআইআইসিটির ইনচার্জ পদে। অনুসন্ধানী তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর সহ সরকারি যে কোন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ পরিক্ষায় দূর্নীতি অনিয়ম এবং স্কোর কেলেঙ্কারির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে তার। অভিনব এই দূর্নীতির আশ্রয়ের সর্বপ্রথম ধাপে নির্ধারিত পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে, ডামি পরিক্ষার্থী বা বডি পরিক্ষার্থীর ব্যবহারও হয়ে থাকে তার নিজস্ব তত্বাবধায়নে।

অনুসন্ধানী তথ্যের বরাতে জানা যায়, অতিসম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিজ্ঞপ্তি যোগে অনুষ্ঠিত কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ পরিক্ষায়, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গোলাম রব্বানীর জালিয়াতি হাতে নাতে ধরা পড়লেও এখনো নীরব ভূমিকায় আছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

ইতিপূর্বে বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়মের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিলো। নির্ভরযোগ্য সূ্ত্র বলছে, কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি বড় সিন্ডিকেট সংঘবদ্ধ ভাবে কাজ করে। যেখানে কয়েকটি ধাপে এই অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়। প্রথমে নির্ধারিত প্রার্থীর সঙ্গে নিয়োগের নিশ্চয়তা ঘিরে চুক্তি হয় মোটা অংকের অনৈতিক অর্থ লেনদেনের। অতঃপর পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে পাঠানো ডামি পরীক্ষার্থী বা বডি চেঞ্জ পরিক্ষার্থী। লিখিত পরিক্ষায় ডামি প্রার্থীরা উত্তীর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে চলে প্রাকটিক্যাল পরিক্ষা সেখানেও মুল প্রার্থীর পরিবর্তে অংশ নেয় ডামি প্রার্থী। অতঃপর শেষ ধাপেও চলে ভাইবা জালিয়াতি। ডামি পরিক্ষার্থী বা বডি চেঞ্জ প্রার্থী এসে ভাইবা দিয়ে চলে যায় অনায়েশে। এক্ষেত্রে লেনদেন চলে তিন ধাপে। লিখিত পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর চুক্তির ৩০% অতঃপর প্র্যাকটিক্যালে উর্ত্তীন্ন হবার পর ৩০% এবং সর্বশেষ ভাইবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর বাকী ৪০% অর্থ লেনদেন হয়। যার পুরোটাই ভাগবাঁটোয়ারা করে নেয় সংঘবদ্ধ চক্রটি।

অনুসন্ধানে আরো জানা গিয়েছে, গোলাম রব্বানী নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (NDD) প্রকল্পে উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটির ইম্পোরিয়ো নামক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কাজ জেনওয়েব টু লিঃ নামক একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেয়ার জন্য নেন মোটা অংকের টাকা। যে অর্থের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর মিরপুরে দক্ষিণ পীরেরবাগ এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। যার ঠিকানা ১৪৭/২০/১ দক্ষিণ পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা।

এছাড়াও প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ প্রদান প্রকল্প থেকে দুর্নীতি, বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে করা দুর্নীতি, নিউরো ডেভলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার প্রকল্পে দূর্নীতিসহ অগণিত দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ, অপ্রচলিত অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সমূহ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চেয়ে মুঠোফোনে সংযুক্ত করা এবং তার বক্তব্য গ্রহণের চেষ্টা করা হলে, তিনি গণমাধ্যমকে এড়িয়ে গিয়েছেন। এবং এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদান করতে অসম্মতি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এমন কোনো বিষয় নজরে এলে বা কোনরূপ অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুততার সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।