ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াতের এমপির গাড়িতে হামলা: বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তির ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ চট্টগ্রামে যুবদল কর্মীকে গুলি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার সমন্বয়কের কাছে চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টা হুইলচেয়ারে ট্রাইব্যুনালে এসে দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অসুস্থ স্বামী অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক: প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি: আটক সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ, পূর্বাভাস আইএমএফ’র ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে কুড়িগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ৬

পদত্যাগ করলেও সরকারি বাসভবন ছাড়েননি আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩১১ বার পড়া হয়েছে

এক সপ্তাহ আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। তবে এখনো তাঁরা সরকারি বাসভবন ছাড়েননি। কবে ছাড়বেন, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার পর্যন্ত পদত্যাগী দুই উপদেষ্টার কেউ সরকারি বাসভবন ছাড়েননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাড়া মেলেনি।

এদিকে দুই উপদেষ্টার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা ফোন ধরেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বিদ্যমান নীতিমালায় মন্ত্রিসভার সদস্য বা জনপ্রতিনিধিরা পদত্যাগের পর কবে সরকারি বাসভবন ছাড়বেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি বাসভবন, গাড়ি বা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না।

আর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর দুই মাস পর্যন্ত বাসভবনে থাকতে পারবেন। তবে সন্তানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত হলে আরো চার মাস পর্যন্ত থাকতে পারবেন। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় তাঁরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন দুই ছাত্র প্রতিনিধি—আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। প্রধান উপদেষ্টা তা গ্রহণ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে।

এর পরদিন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন। এরপর সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলে এই দুই উপদেষ্টার পদত্যাগপত্র কার্যকর হয়। আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দিন থেকে সরকারে ছিলেন। তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। গত বছরের ২৮ আগস্ট নিয়োগ পেয়ে মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ছিলেন। গত বছরের ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। তবে সে সময় তাঁকে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করার পর তাঁকে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা ছিলেন ১৫ মাস। আর মাহফুজ আলম ছিলেন ১৩ মাস।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন তুঙ্গে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে, তখন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচি ছিল ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট, যা এক দিন এগিয়ে ৫ আগস্ট করা হয়। আর এ ঘোষণা আসে আসিফ মাহমুদের মাধ্যমে, যা শেখ হাসিনার সরকারের পতন ত্বরান্বিত করে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আসিফ মাহমুদের ভূমিকা তাই স্মরণীয়। গত বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতেই অন্তর্ভুক্ত হন আসিফ মাহমুদ। তিনি শুরুতে শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে এ এফ হাসান আরিফকে (প্রয়াত) সরিয়ে আসিফ মাহমুদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থেকে তিনি স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের এমপির গাড়িতে হামলা: বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার

পদত্যাগ করলেও সরকারি বাসভবন ছাড়েননি আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম!

আপডেট সময় ০৯:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

এক সপ্তাহ আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। তবে এখনো তাঁরা সরকারি বাসভবন ছাড়েননি। কবে ছাড়বেন, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার পর্যন্ত পদত্যাগী দুই উপদেষ্টার কেউ সরকারি বাসভবন ছাড়েননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাড়া মেলেনি।

এদিকে দুই উপদেষ্টার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা ফোন ধরেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বিদ্যমান নীতিমালায় মন্ত্রিসভার সদস্য বা জনপ্রতিনিধিরা পদত্যাগের পর কবে সরকারি বাসভবন ছাড়বেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি বাসভবন, গাড়ি বা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না।

আর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর দুই মাস পর্যন্ত বাসভবনে থাকতে পারবেন। তবে সন্তানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত হলে আরো চার মাস পর্যন্ত থাকতে পারবেন। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় তাঁরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন দুই ছাত্র প্রতিনিধি—আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। প্রধান উপদেষ্টা তা গ্রহণ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে।

এর পরদিন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন। এরপর সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলে এই দুই উপদেষ্টার পদত্যাগপত্র কার্যকর হয়। আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দিন থেকে সরকারে ছিলেন। তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। গত বছরের ২৮ আগস্ট নিয়োগ পেয়ে মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ছিলেন। গত বছরের ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। তবে সে সময় তাঁকে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করার পর তাঁকে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা ছিলেন ১৫ মাস। আর মাহফুজ আলম ছিলেন ১৩ মাস।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন তুঙ্গে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে, তখন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচি ছিল ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট, যা এক দিন এগিয়ে ৫ আগস্ট করা হয়। আর এ ঘোষণা আসে আসিফ মাহমুদের মাধ্যমে, যা শেখ হাসিনার সরকারের পতন ত্বরান্বিত করে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আসিফ মাহমুদের ভূমিকা তাই স্মরণীয়। গত বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতেই অন্তর্ভুক্ত হন আসিফ মাহমুদ। তিনি শুরুতে শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে এ এফ হাসান আরিফকে (প্রয়াত) সরিয়ে আসিফ মাহমুদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থেকে তিনি স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।