ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স-সেনেগাল, ফিরছে ২৪ বছর আগের স্মৃতি বেনজীরকে দেশে আনতে দুবাই পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মাঠে ফিরলেন নেইমার, তবে গ্রুপ পর্বে খেলা কঠিন তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না’ বলে চাঁদা দাবি করা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার শ্রীমঙ্গলে তারেক রহমানের অনুষ্ঠানস্থলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, যুবক আটক  ইরাকের জার্সিতে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ইতিহাস লিখতে যাচ্ছেন যে ফুটবলার আরও ১৫০০ কোটি তারল্য সহায়তা পেল ইসলামী ব্যাংক সাকিবের পর দীঘিও কি ‘পল্টি’ দিলেন? কালুখালীতপ জামায়াত কর্মী হত্যার পর মরদেহ আগুনের ঘটনায় গ্রপ্তার ৩ ২ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ ইরানকে

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য জায়গা চূড়ান্ত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৮ বার পড়া হয়েছে

এবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে একটি জায়গা চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গণভবনের পাশেই নির্মাণ করা হবে এই বাসভবন। ইতোমধ্যে নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর চূড়ান্ত মতামত নিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন’ তৈরির কাজ শুরু করতে চায় গণপূর্ত অধিদপ্তর। তবে সেটি তৈরি হতেও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। সে সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা বা সংসদ ভবনসংলগ্ন স্পিকারের বাসভবনকে প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান হিসেবে নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। এটি নির্ভর করবে হবু প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ওপর। তিনি চাইলে স্পিকারের বাসভবনের সঙ্গে লাগোয়া ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকেও যুক্ত করে দেওয়া হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পরই দেশের মানুষ নতুন প্রধানমন্ত্রী পাবেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে শেরেবাংলা নগরের ‘গণভবন’ নির্ধারিত ছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে তৈরির উদ্যোগ নেয়। জাদুঘর তৈরির কাজ শেষের পথে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন যে এলাকায় নির্মিত হচ্ছে, তাতে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের নকশায় কোনো ব্যত্যয় হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ ব্যাপারে স্থাপত্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলরা কিছু বলতে চাননি।

জানা গেছে, ১৯৬২ সালে সংসদ ভবনসহ একটি পরিকল্পিত এলাকা গড়ে তোলার নকশা প্রণয়নের জন্য মার্কিন স্থপতি লুই আই কানকে শেরেবাংলা নগরে ২০৮ একর জমি দেওয়া হয়। ১৯৭৩ সালে তিনি এই নকশা চূড়ান্ত করেন। তবে সংসদ ভবন নির্মাণের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের নকশাকে নানাভাবে অবজ্ঞা করে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। যে স্থানটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, সেখানে লুই আই কানের নকশায় কী উল্লেখ ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উইকিপিডিয়া ও সংসদ ভবনবিষয়ক তথ্যাবলিতেও সেটার উল্লেখ নেই। তবে অতীতে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সংসদ ভবনের আশপাশের এলাকায় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসস্থান, হাসপাতাল, লেক, সবুজের সমারোহ, প্রশস্ত সড়ক ইত্যাদি থাকার প্রত্যাশা ছিল লুই আই কানের।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণ ঘিরে গণপূর্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, কারিগরি পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। কমিটির দুটি সভায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে এবং বাসভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন– এ দুটি বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য স্থায়ী বাসভবনের জায়গার বিষয়ে তিনটি স্থান আলোচনায় আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মত আসে গণভবনের পশ্চিম-উত্তর পাশে থাকা একটি জায়গা, যেটির অবস্থান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস লাগোয়া। সেখানে প্রায় ১৮ একর জমি রয়েছে। ওই জমির একাংশে সরকারি কর্মচারীদের পুরোনো কোয়ার্টার রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের উন্মুক্ত স্থান এবং আগারগাঁও-শ্যামলী সড়কের দক্ষিণ পাশে সংসদ ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পুরোনো কোয়ার্টার ভেঙে সেখানে বাসভবন তৈরির প্রস্তাব আসে। পরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসসংলগ্ন জায়গাটি চূড়ান্ত করেন কমিটির সদস্যরা। কমিটির সদস্য স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আমরা নকশার কাজ শুরু করেছি। আগেভাগেই এটি করে রাখতে চাই, যাতে নতুন সরকার আসার পরই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের কাজটা গণপূর্ত অধিদপ্তর শুরু করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য যে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে, সেখানে আগের গণভবনের মতোই জায়গা রয়েছে। ওই জমির পুরোটা নিয়ে নকশা তৈরি করা হচ্ছে। একজন প্রধানমন্ত্রীর যা যা প্রয়োজন হয়, এর সবকিছুই সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। মূল ভবনটি হবে তিনতলা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসান বলেন, সেখানে যেহেতু বহুতল ভবন হবে না, কাজেই দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে বাসভবন নির্মাণ সম্ভব।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স-সেনেগাল, ফিরছে ২৪ বছর আগের স্মৃতি

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য জায়গা চূড়ান্ত

আপডেট সময় ১১:২৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

এবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে একটি জায়গা চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গণভবনের পাশেই নির্মাণ করা হবে এই বাসভবন। ইতোমধ্যে নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর চূড়ান্ত মতামত নিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন’ তৈরির কাজ শুরু করতে চায় গণপূর্ত অধিদপ্তর। তবে সেটি তৈরি হতেও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। সে সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা বা সংসদ ভবনসংলগ্ন স্পিকারের বাসভবনকে প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান হিসেবে নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। এটি নির্ভর করবে হবু প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ওপর। তিনি চাইলে স্পিকারের বাসভবনের সঙ্গে লাগোয়া ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকেও যুক্ত করে দেওয়া হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পরই দেশের মানুষ নতুন প্রধানমন্ত্রী পাবেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে শেরেবাংলা নগরের ‘গণভবন’ নির্ধারিত ছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে তৈরির উদ্যোগ নেয়। জাদুঘর তৈরির কাজ শেষের পথে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন যে এলাকায় নির্মিত হচ্ছে, তাতে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের নকশায় কোনো ব্যত্যয় হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ ব্যাপারে স্থাপত্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলরা কিছু বলতে চাননি।

জানা গেছে, ১৯৬২ সালে সংসদ ভবনসহ একটি পরিকল্পিত এলাকা গড়ে তোলার নকশা প্রণয়নের জন্য মার্কিন স্থপতি লুই আই কানকে শেরেবাংলা নগরে ২০৮ একর জমি দেওয়া হয়। ১৯৭৩ সালে তিনি এই নকশা চূড়ান্ত করেন। তবে সংসদ ভবন নির্মাণের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের নকশাকে নানাভাবে অবজ্ঞা করে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। যে স্থানটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, সেখানে লুই আই কানের নকশায় কী উল্লেখ ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উইকিপিডিয়া ও সংসদ ভবনবিষয়ক তথ্যাবলিতেও সেটার উল্লেখ নেই। তবে অতীতে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সংসদ ভবনের আশপাশের এলাকায় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসস্থান, হাসপাতাল, লেক, সবুজের সমারোহ, প্রশস্ত সড়ক ইত্যাদি থাকার প্রত্যাশা ছিল লুই আই কানের।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণ ঘিরে গণপূর্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, কারিগরি পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। কমিটির দুটি সভায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে এবং বাসভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন– এ দুটি বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য স্থায়ী বাসভবনের জায়গার বিষয়ে তিনটি স্থান আলোচনায় আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মত আসে গণভবনের পশ্চিম-উত্তর পাশে থাকা একটি জায়গা, যেটির অবস্থান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস লাগোয়া। সেখানে প্রায় ১৮ একর জমি রয়েছে। ওই জমির একাংশে সরকারি কর্মচারীদের পুরোনো কোয়ার্টার রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের উন্মুক্ত স্থান এবং আগারগাঁও-শ্যামলী সড়কের দক্ষিণ পাশে সংসদ ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পুরোনো কোয়ার্টার ভেঙে সেখানে বাসভবন তৈরির প্রস্তাব আসে। পরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসসংলগ্ন জায়গাটি চূড়ান্ত করেন কমিটির সদস্যরা। কমিটির সদস্য স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আমরা নকশার কাজ শুরু করেছি। আগেভাগেই এটি করে রাখতে চাই, যাতে নতুন সরকার আসার পরই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের কাজটা গণপূর্ত অধিদপ্তর শুরু করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য যে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে, সেখানে আগের গণভবনের মতোই জায়গা রয়েছে। ওই জমির পুরোটা নিয়ে নকশা তৈরি করা হচ্ছে। একজন প্রধানমন্ত্রীর যা যা প্রয়োজন হয়, এর সবকিছুই সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। মূল ভবনটি হবে তিনতলা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসান বলেন, সেখানে যেহেতু বহুতল ভবন হবে না, কাজেই দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে বাসভবন নির্মাণ সম্ভব।