ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে অপসারণের মধ্য দিয়ে কাটতে শুরু করেছে অস্থিরতা। ব্যাংকটি নিয়ে নানা মহলে শঙ্কাও কিছুটা দূর হয়েছে। গ্রাহকসহ সংশ্লিষ্টরা দেখছেন আশার আলো। সচেতন গ্রাহক সমাবেশের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা আজ মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকে পূর্ণ পর্ষদ গঠনের দাবিতে গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।
একই দিনে গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নতুন করে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে নগদ তারল্য সহয়তার পরিমাণ ৬ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা হলো বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
গত ১ জুন থেকে অনেক গ্রাহক আতঙ্কিত হয়ে ব্যাংকটি থেকে টাকা তুলে নিয়েছেন। গত রবিবার এই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তখন কৌশলে চেক ক্লিয়ারিং, তহবিল স্থানান্তর, শাখা এবং এটিএম বুথে নগদ উত্তোলন সীমা সীমিত রাখা হয়। তবে চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমসহ বোর্ডের নিয়োগ বাতিল করায় গ্রাহকের টাকা তোলার চাপ কমতে শুরু করেছে। আজ বাংলাদেশ ব্যাংক দেড় হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেয়। অথচ রবি ও সোমবার ছিল যথাক্রমে ২৬৭০ কোটি এবং ২৫০০ কোটি টাকা।
খুরশীদ আলমকে অপসারণ করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। তবে শুধু প্রশাসক বা চেয়ারম্যান নিয়োগ যথেষ্ট নয়; দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা প্রয়োজন বলে দাবি তাদের। এরই মধ্যে টাকা তোলার মাত্রাও কমেছে।
তাদের মতে, নতুন পর্ষদে সৎ, যোগ্য, পেশাদার এবং গ্রাহকদের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে বা যারা এস আলম গ্রুপের সহযোগী ছিলেন, তাদের পর্ষদে স্থান না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া এস আলম গ্রুপ অবৈধভাবে ও জোরপূর্বক যেসব শেয়ার দখল করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে ফোরামটি।
খুরশীদ আলমের নিয়োগ গত ২৪ মে হলেও ঈদের ছুটির পর ১ জুন থেকে ব্যাংক খোলার পর তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। গত ১৫ দিনে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইন বলেছেন, ‘গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানাই।’

ডেস্ক রিপোর্ট 























