ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষ্ণসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৭ নাবিক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৫১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৩৬৭ বার পড়া হয়েছে

কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের পরিচালিত একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় জাহাজটিতে তুরস্কের ২৭ জন নাবিক অবস্থান করলেও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুল কাদির উরালুগ্লুর বরাতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে এটি অচল হয়ে পড়ে।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম এনটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাংকারটির মালিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠান বেসিকতাস। তবে জাহাজটি সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ছিল। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, ট্যাংকারটি রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল।

মন্ত্রী উরালুগ্লু বলেন, হামলাটি আকাশপথে ড্রোন দিয়ে নয়; বরং একটি চালকবিহীন নৌযান (আনম্যানড সারফেস ভেহিকল) ব্যবহার করে পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বাইরে থেকে ঘটানো বিস্ফোরণ এবং বিশেষভাবে ইঞ্জিন রুমকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

হামলাটি তুরস্কের জলসীমার ভেতরে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বসফরাস প্রণালি থেকে ৩০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি পরিবহনমন্ত্রী।

এদিকে তুর্কি সংবাদপত্র ইয়েনি শাফাক জানিয়েছে, এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। কৃষ্ণসাগর দিয়ে নিয়মিত জ্বালানি তেল ও শস্যবাহী জাহাজ চলাচল করায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার মধ্যেই কৃষ্ণসাগরে এ হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমিনুর শাহ গ্রেপ্তার

কৃষ্ণসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৭ নাবিক

আপডেট সময় ০৭:৫১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের পরিচালিত একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় জাহাজটিতে তুরস্কের ২৭ জন নাবিক অবস্থান করলেও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুল কাদির উরালুগ্লুর বরাতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে এটি অচল হয়ে পড়ে।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম এনটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাংকারটির মালিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠান বেসিকতাস। তবে জাহাজটি সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ছিল। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, ট্যাংকারটি রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল।

মন্ত্রী উরালুগ্লু বলেন, হামলাটি আকাশপথে ড্রোন দিয়ে নয়; বরং একটি চালকবিহীন নৌযান (আনম্যানড সারফেস ভেহিকল) ব্যবহার করে পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বাইরে থেকে ঘটানো বিস্ফোরণ এবং বিশেষভাবে ইঞ্জিন রুমকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

হামলাটি তুরস্কের জলসীমার ভেতরে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বসফরাস প্রণালি থেকে ৩০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি পরিবহনমন্ত্রী।

এদিকে তুর্কি সংবাদপত্র ইয়েনি শাফাক জানিয়েছে, এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। কৃষ্ণসাগর দিয়ে নিয়মিত জ্বালানি তেল ও শস্যবাহী জাহাজ চলাচল করায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার মধ্যেই কৃষ্ণসাগরে এ হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।