ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এবার ফজলুর রহমানকে অশালীন মন্তব্য করায় আমির হামজাকে আইনি নোটিশ ১৫০টাকার দ্ব‌ন্দে কেন্দ্র বা‌তিল, বিপা‌কে প‌রিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ হামলা করত জয় বাংলা বলে, শিবির হামলা শুরু করেছে ‘নারায়ে তাকবীর’ বলে: রাশেদ খাঁন আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করতে নয় বরং যুদ্ধ এড়াতে: সেনাপ্রধান বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের: মোদি জ্বালানি স্বল্পতার কারণে সক্ষমতার পুরোটা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না: বিদ্যুৎ বিভাগ রবিবার থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ডাক প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতেনাতে ধরার পর চোরকে নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে অমিল থাকায় তরুণকে থাপ্পড় দিলেন ইউএনও

ভারতের মানুষ কেবল সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে: ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রেডিও সঞ্চালক মাইকেল সেভেজের একটি বিতর্কিত চিঠি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ার করেছেন, যেখানে ভারত, চীন এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশ সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে। ওই চিঠিতে সেভেজ ভারত ও চীনকেহেলহোলবানরকহিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন যে, এই দেশগুলো থেকে মানুষ কেবল যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আসে যাতে তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করতে পারে। তিনি একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের একটি অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এটি বন্ধের জোর দাবি জানান। সানস্তুতি নাথএর সম্পাদনায় এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড নিউজ এই খবরটি প্রকাশ করেছে।

মাইকেল সেভেজ তার ওই বর্ণবাদী লেখায় অভিযোগ করেন, ভারত বা চীনের মতো দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে নবম মাসে সন্তান জন্ম দেয় এবং সেই শিশুটি মুহূর্তের মধ্যেই মার্কিন নাগরিক হয়ে যায়। এরপর ওই শিশুর মাধ্যমে তারা তাদের পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে।  ট্রাম্প এই পোস্টটি এমন এক সময়ে শেয়ার করলেন যার ঠিক এক দিন আগেই তিনি সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে তথ্যগতভাবে ট্রাম্পের এই দাবিটি সঠিক নয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

বাস্তবতা হলো, বিশ্বের প্রায় তিন ডজনেরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডা ও মেক্সিকো ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশে এই আইন প্রচলিত আছে।  ট্রাম্পের এমন মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং বর্ণবাদী মন্তব্য শেয়ার করার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে ভারত ও চীনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে ট্রাম্প আবারও অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন এবং এর অংশ হিসেবেই তিনি এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণায় সায় দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের মন্তব্যকেবিদ্বেষমূলকএবংবর্ণবাদীহিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা মনে করছেন, ভারত ও চীনের মতো বন্ধুপ্রতিম ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলো সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বর্তমানে নানা কৌশলগত অংশীদারিত্বে যুক্ত, সেখানে ট্রাম্পের এমন অবস্থান দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলেছে। সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার ফজলুর রহমানকে অশালীন মন্তব্য করায় আমির হামজাকে আইনি নোটিশ

ভারতের মানুষ কেবল সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে: ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২:২৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রেডিও সঞ্চালক মাইকেল সেভেজের একটি বিতর্কিত চিঠি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ার করেছেন, যেখানে ভারত, চীন এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশ সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে। ওই চিঠিতে সেভেজ ভারত ও চীনকেহেলহোলবানরকহিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন যে, এই দেশগুলো থেকে মানুষ কেবল যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আসে যাতে তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করতে পারে। তিনি একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের একটি অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এটি বন্ধের জোর দাবি জানান। সানস্তুতি নাথএর সম্পাদনায় এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড নিউজ এই খবরটি প্রকাশ করেছে।

মাইকেল সেভেজ তার ওই বর্ণবাদী লেখায় অভিযোগ করেন, ভারত বা চীনের মতো দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে নবম মাসে সন্তান জন্ম দেয় এবং সেই শিশুটি মুহূর্তের মধ্যেই মার্কিন নাগরিক হয়ে যায়। এরপর ওই শিশুর মাধ্যমে তারা তাদের পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে।  ট্রাম্প এই পোস্টটি এমন এক সময়ে শেয়ার করলেন যার ঠিক এক দিন আগেই তিনি সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে তথ্যগতভাবে ট্রাম্পের এই দাবিটি সঠিক নয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

বাস্তবতা হলো, বিশ্বের প্রায় তিন ডজনেরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডা ও মেক্সিকো ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশে এই আইন প্রচলিত আছে।  ট্রাম্পের এমন মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং বর্ণবাদী মন্তব্য শেয়ার করার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে ভারত ও চীনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে ট্রাম্প আবারও অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন এবং এর অংশ হিসেবেই তিনি এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণায় সায় দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের মন্তব্যকেবিদ্বেষমূলকএবংবর্ণবাদীহিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা মনে করছেন, ভারত ও চীনের মতো বন্ধুপ্রতিম ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলো সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বর্তমানে নানা কৌশলগত অংশীদারিত্বে যুক্ত, সেখানে ট্রাম্পের এমন অবস্থান দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলেছে। সূত্র: এনডিটিভি