ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এবার ফজলুর রহমানকে অশালীন মন্তব্য করায় আমির হামজাকে আইনি নোটিশ ১৫০টাকার দ্ব‌ন্দে কেন্দ্র বা‌তিল, বিপা‌কে প‌রিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ হামলা করত জয় বাংলা বলে, শিবির হামলা শুরু করেছে ‘নারায়ে তাকবীর’ বলে: রাশেদ খাঁন আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করতে নয় বরং যুদ্ধ এড়াতে: সেনাপ্রধান বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের: মোদি জ্বালানি স্বল্পতার কারণে সক্ষমতার পুরোটা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না: বিদ্যুৎ বিভাগ রবিবার থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ডাক প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতেনাতে ধরার পর চোরকে নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে অমিল থাকায় তরুণকে থাপ্পড় দিলেন ইউএনও

হাতেনাতে ধরার পর চোরকে নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

এবার চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে শারীরিক কোনো শাস্তি না দিয়ে, অজু করিয়ে নামাজ পড়ানোর মাধ্যমে সংশোধনের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই যুবক মাদ্রাসার দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরির চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তার সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করে। চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সাধারণত উত্তেজিত জনতা মারধর করলেও, এখানে ঘটে উল্টো ঘটনা। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই যুবককে মারধর না করার সিদ্ধান্ত নেন। তারা তাকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে অজু করিয়ে মাদ্রাসার মসজিদে নামাজ পড়ানোর ব্যবস্থা করেন। এরপর তাকে সুপথে ফিরে আসার উপদেশ দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে আর কখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবে না, এমন অঙ্গীকার নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের এমন শান্ত ও মানবিক আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অনেকেই বলছেন, অন্ধকার দূর করতে আলোর প্রয়োজন, যা এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা তাকে ধরেছিলাম কিন্তু মাদ্রাসার হুজুররা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাকে নামাজ পড়ান এবং ভালো হওয়ার সুযোগ দেন। এটি সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

মাদ্রাসার মুহতামিম ইমাম হোসেন মোস্তাফী বলেন, আমরা মনে করি শাস্তির চেয়ে সংশোধনই বড় বিষয়। ঘৃণাকে ঘৃণা দিয়ে নয় বরং ভালোবাসা ও মহান আল্লাহর পথে ডাকার মাধ্যমে জয় করার চেষ্টা করেছি। সে নিজের ভুল স্বীকার করেছে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আর কখনো এমন কাজ করবে না। তাই আমরা তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার ফজলুর রহমানকে অশালীন মন্তব্য করায় আমির হামজাকে আইনি নোটিশ

হাতেনাতে ধরার পর চোরকে নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় ০৩:০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

এবার চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে শারীরিক কোনো শাস্তি না দিয়ে, অজু করিয়ে নামাজ পড়ানোর মাধ্যমে সংশোধনের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই যুবক মাদ্রাসার দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরির চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তার সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করে। চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সাধারণত উত্তেজিত জনতা মারধর করলেও, এখানে ঘটে উল্টো ঘটনা। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই যুবককে মারধর না করার সিদ্ধান্ত নেন। তারা তাকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে অজু করিয়ে মাদ্রাসার মসজিদে নামাজ পড়ানোর ব্যবস্থা করেন। এরপর তাকে সুপথে ফিরে আসার উপদেশ দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে আর কখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবে না, এমন অঙ্গীকার নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের এমন শান্ত ও মানবিক আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অনেকেই বলছেন, অন্ধকার দূর করতে আলোর প্রয়োজন, যা এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা তাকে ধরেছিলাম কিন্তু মাদ্রাসার হুজুররা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাকে নামাজ পড়ান এবং ভালো হওয়ার সুযোগ দেন। এটি সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

মাদ্রাসার মুহতামিম ইমাম হোসেন মোস্তাফী বলেন, আমরা মনে করি শাস্তির চেয়ে সংশোধনই বড় বিষয়। ঘৃণাকে ঘৃণা দিয়ে নয় বরং ভালোবাসা ও মহান আল্লাহর পথে ডাকার মাধ্যমে জয় করার চেষ্টা করেছি। সে নিজের ভুল স্বীকার করেছে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আর কখনো এমন কাজ করবে না। তাই আমরা তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছি।