এবার ইরান ঘোষণা দিয়েছে, দেশটির বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলবে না। একই সঙ্গে এই জলপথে দুটি জাহাজ আটক করার কথাও জানিয়েছে তেহরান। তেহরান থেকে এএফপি জানায়, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে তিনি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবেন। ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তান–এর উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানায়। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, “পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি তখনই অর্থবহ হবে, যখন নৌ অবরোধের মাধ্যমে তা লঙ্ঘন করা না হয়।”
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা সম্ভব নয়।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে। তবে ইরান এতে অংশ নেবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ সফর স্থগিত করেছেন।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ যে সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দুটি জাহাজ আটক করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজ এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী আরেকটি জাহাজ থামানো হয়েছে। পানামার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপর গুরুতর আঘাত এবং অপ্রয়োজনীয় উসকানি বলে উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ওই এলাকায় কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একটি জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতেই তারা নৌ অবরোধ কৌশল ব্যবহার করছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময়েও মার্কিন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা ওয়াশিংটনে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















