ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাজধানীতে তৃতীয় লিঙ্গের উৎপাতে নিয়ন্ত্রণ হারান বাসচালক, নিহত ২ এবার ফজলুর রহমানকে অশালীন মন্তব্য করায় আমির হামজাকে আইনি নোটিশ ১৫০টাকার দ্ব‌ন্দে কেন্দ্র বা‌তিল, বিপা‌কে প‌রিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ হামলা করত জয় বাংলা বলে, শিবির হামলা শুরু করেছে ‘নারায়ে তাকবীর’ বলে: রাশেদ খাঁন আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করতে নয় বরং যুদ্ধ এড়াতে: সেনাপ্রধান বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের: মোদি জ্বালানি স্বল্পতার কারণে সক্ষমতার পুরোটা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না: বিদ্যুৎ বিভাগ রবিবার থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ডাক প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতেনাতে ধরার পর চোরকে নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ

এমপিরা সংসদে গেছেন জনগণের সমস্যার সমাধান করতে, নিজেদের জন্য নয়: তাসনিম জারা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপিদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির দাবি জানিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এ ধরনের দাবি উঠায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। বিষয়টিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এমপিদের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। যখন শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও সরকারি কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধি ও ন্যায্য দাবির জন্য রাজপথে দিনের পর দিন আন্দোলন করছেন, তখন এমপিরা সংসদে নিজেদের সুযোগসুবিধা নিয়ে ব্যস্ত।

জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে দীর্ঘসূত্রতা দেখা গেলেও এমপিদের গাড়ি বা অফিসের দাবির প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দল মুহূর্তের মধ্যে একমত হয়ে যায়। তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, পৃথিবীর কোনো পেশার মানুষ নিজের বেতন বা সুযোগসুবিধা নিজে নির্ধারণ করে না। এমপিদের বেতন জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে আসে, তাই এটি তারা নিজেরা নির্ধারণ করা নীতিগতভাবে ভুল। তার মতে, এমপিরা জনগণের সেবক। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় জনগণের সমস্যার চেয়ে এমপিদের নিজস্ব প্রাপ্তির হিসাবই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এমপিরা সংসদে গিয়েছেন জনগণের সমস্যার সমাধান করতে, নিজেদের প্রাপ্তির হিসাব কষতে না। যখন একজন শিক্ষক ছয় মাস আন্দোলন করেও সাড়া পান না, কিন্তু এমপিদের সুবিধার সিদ্ধান্ত কয়েক দিনেই হয়ে যায়, তখন পরিষ্কার হয়ে যায় এই ব্যবস্থায় আসলে কার স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি মনে করেন, এমপিদের বেতনভাতা ও সুযোগসুবিধা নির্ধারণের জন্য একটি নিরপেক্ষ কাঠামো থাকা প্রয়োজন। জনসেবার দোহাই দিয়ে জনগণের করের টাকায় নিজেদের বিলাসিতা নিশ্চিত করাকে তিনি অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। এর সমাধান হিসেবে ডা. তাসনিম জারা বলেন, একটা স্বাধীন কমিটি গঠন করুন, যারা এমপিদের ব্যক্তিগত সুযোগসুবিধার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করবে। এই কমিটি কী করবে? প্রথমত, অন্যান্য পেশার সাথে তুলনা করে দেখবে। একজন এমপির দায়িত্ব কী, সময় কতটুকু দিতে হয়, ঝুঁকি কেমন, যোগ্যতা কী লাগে। এগুলো বিবেচনা করে দেখবে তার প্রাপ্য আসলে কতটুকু হওয়া উচিত। একজন জেলা জজ, একজন সচিব, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, একজন হাসপাতালের কনসালট্যান্ট। এদের সঙ্গে তুলনা করে একটা যৌক্তিক অবস্থান বের করা সম্ভব।

তিনি লেখেন, কমিটি দেখবে সুযোগসুবিধাগুলো আজকের বাস্তবতায় প্রাসঙ্গিক কিনা। অনেক ভাতা বা সুবিধা হয়তো কোনো এক সময়ে যুক্তিসঙ্গত ছিল, কিন্তু আজকের দিনে তার আর কোনো ভিত্তি নেই। আবার কিছু নতুন চাহিদা হয়তো তৈরি হয়েছে, যেগুলো এখনো স্বীকৃত হয়নি। এই কমিটির কাজ শুধু সুধিবা বাড়ানো বা শুধু সুবিধা কাটছাঁট করা না। হতে পারে কিছু ক্ষেত্রে এমপিদের প্রাপ্যতা আসলেই অপ্রতুল। একজন প্রত্যন্ত এলাকার এমপিকে যে পরিমাণ যাতায়াত করতে হয়, যে পরিমাণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হয়, সেই হিসেবে তার সহায়তা তহবিল বা অফিস সুবিধা হয়তো বাড়ানো দরকার। আবার কিছু সুবিধা, যেমন শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি, হয়তো আজকের দিনে যৌক্তিকতা হারিয়েছে। সেগুলো ছাঁটাই হোক। মোদ্দা কথা, কোনটা বাড়বে কোনটা কমবে, সেটা নিরপেক্ষ বিচারে ঠিক হোক। এমপিরা নিজেরা এই সিদ্ধান্ত নেবেন না। নেবে স্বাধীন কমিটি।

এনসিপির সাবেক এই নেত্রী বলেন, এই কমিটিতে কারা থাকবেন সেটা আলাদা আলোচনার বিষয়, এবং সেই আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে মূল নীতি হচ্ছে বিচারক, অর্থনীতিবিদ, প্রশাসন বিশেষজ্ঞ, সুশাসন সংস্থার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও থাকতে হবে। একজন সরকারি স্কুলশিক্ষক, একজন নার্স, একজন ছোট ব্যবসায়ী থাকতে পারেন। কারণ এমপিদের সুযোগসুবিধা শেষ পর্যন্ত একটা অনুপাতের প্রশ্ন। সাধারণ বাংলাদেশির জীবনমানের সঙ্গে তাদের প্রাপ্যতার অনুপাত। সেই অনুপাত বোঝার জন্য ঘরে এমন মানুষ দরকার, যারা সেই জীবনটা যাপন করেন। এমপিদের নিজেদেরই এই প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এটা আপনাদের মর্যাদার প্রশ্ন। জাতির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বেতন নিজে ঠিক করা একটা অস্বস্তিকর বিষয়। যেটা থেকে বের হয়ে আসা আপনাদের নিজেদের স্বার্থেই প্রয়োজন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে তৃতীয় লিঙ্গের উৎপাতে নিয়ন্ত্রণ হারান বাসচালক, নিহত ২

এমপিরা সংসদে গেছেন জনগণের সমস্যার সমাধান করতে, নিজেদের জন্য নয়: তাসনিম জারা

আপডেট সময় ০২:০৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপিদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির দাবি জানিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এ ধরনের দাবি উঠায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। বিষয়টিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এমপিদের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। যখন শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও সরকারি কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধি ও ন্যায্য দাবির জন্য রাজপথে দিনের পর দিন আন্দোলন করছেন, তখন এমপিরা সংসদে নিজেদের সুযোগসুবিধা নিয়ে ব্যস্ত।

জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে দীর্ঘসূত্রতা দেখা গেলেও এমপিদের গাড়ি বা অফিসের দাবির প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দল মুহূর্তের মধ্যে একমত হয়ে যায়। তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, পৃথিবীর কোনো পেশার মানুষ নিজের বেতন বা সুযোগসুবিধা নিজে নির্ধারণ করে না। এমপিদের বেতন জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে আসে, তাই এটি তারা নিজেরা নির্ধারণ করা নীতিগতভাবে ভুল। তার মতে, এমপিরা জনগণের সেবক। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় জনগণের সমস্যার চেয়ে এমপিদের নিজস্ব প্রাপ্তির হিসাবই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এমপিরা সংসদে গিয়েছেন জনগণের সমস্যার সমাধান করতে, নিজেদের প্রাপ্তির হিসাব কষতে না। যখন একজন শিক্ষক ছয় মাস আন্দোলন করেও সাড়া পান না, কিন্তু এমপিদের সুবিধার সিদ্ধান্ত কয়েক দিনেই হয়ে যায়, তখন পরিষ্কার হয়ে যায় এই ব্যবস্থায় আসলে কার স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি মনে করেন, এমপিদের বেতনভাতা ও সুযোগসুবিধা নির্ধারণের জন্য একটি নিরপেক্ষ কাঠামো থাকা প্রয়োজন। জনসেবার দোহাই দিয়ে জনগণের করের টাকায় নিজেদের বিলাসিতা নিশ্চিত করাকে তিনি অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। এর সমাধান হিসেবে ডা. তাসনিম জারা বলেন, একটা স্বাধীন কমিটি গঠন করুন, যারা এমপিদের ব্যক্তিগত সুযোগসুবিধার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করবে। এই কমিটি কী করবে? প্রথমত, অন্যান্য পেশার সাথে তুলনা করে দেখবে। একজন এমপির দায়িত্ব কী, সময় কতটুকু দিতে হয়, ঝুঁকি কেমন, যোগ্যতা কী লাগে। এগুলো বিবেচনা করে দেখবে তার প্রাপ্য আসলে কতটুকু হওয়া উচিত। একজন জেলা জজ, একজন সচিব, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, একজন হাসপাতালের কনসালট্যান্ট। এদের সঙ্গে তুলনা করে একটা যৌক্তিক অবস্থান বের করা সম্ভব।

তিনি লেখেন, কমিটি দেখবে সুযোগসুবিধাগুলো আজকের বাস্তবতায় প্রাসঙ্গিক কিনা। অনেক ভাতা বা সুবিধা হয়তো কোনো এক সময়ে যুক্তিসঙ্গত ছিল, কিন্তু আজকের দিনে তার আর কোনো ভিত্তি নেই। আবার কিছু নতুন চাহিদা হয়তো তৈরি হয়েছে, যেগুলো এখনো স্বীকৃত হয়নি। এই কমিটির কাজ শুধু সুধিবা বাড়ানো বা শুধু সুবিধা কাটছাঁট করা না। হতে পারে কিছু ক্ষেত্রে এমপিদের প্রাপ্যতা আসলেই অপ্রতুল। একজন প্রত্যন্ত এলাকার এমপিকে যে পরিমাণ যাতায়াত করতে হয়, যে পরিমাণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হয়, সেই হিসেবে তার সহায়তা তহবিল বা অফিস সুবিধা হয়তো বাড়ানো দরকার। আবার কিছু সুবিধা, যেমন শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি, হয়তো আজকের দিনে যৌক্তিকতা হারিয়েছে। সেগুলো ছাঁটাই হোক। মোদ্দা কথা, কোনটা বাড়বে কোনটা কমবে, সেটা নিরপেক্ষ বিচারে ঠিক হোক। এমপিরা নিজেরা এই সিদ্ধান্ত নেবেন না। নেবে স্বাধীন কমিটি।

এনসিপির সাবেক এই নেত্রী বলেন, এই কমিটিতে কারা থাকবেন সেটা আলাদা আলোচনার বিষয়, এবং সেই আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে মূল নীতি হচ্ছে বিচারক, অর্থনীতিবিদ, প্রশাসন বিশেষজ্ঞ, সুশাসন সংস্থার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও থাকতে হবে। একজন সরকারি স্কুলশিক্ষক, একজন নার্স, একজন ছোট ব্যবসায়ী থাকতে পারেন। কারণ এমপিদের সুযোগসুবিধা শেষ পর্যন্ত একটা অনুপাতের প্রশ্ন। সাধারণ বাংলাদেশির জীবনমানের সঙ্গে তাদের প্রাপ্যতার অনুপাত। সেই অনুপাত বোঝার জন্য ঘরে এমন মানুষ দরকার, যারা সেই জীবনটা যাপন করেন। এমপিদের নিজেদেরই এই প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এটা আপনাদের মর্যাদার প্রশ্ন। জাতির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বেতন নিজে ঠিক করা একটা অস্বস্তিকর বিষয়। যেটা থেকে বের হয়ে আসা আপনাদের নিজেদের স্বার্থেই প্রয়োজন।