টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুকুরে টানাটানির পর স্থানীয়দের খবরে মাটি খুঁড়ে সম্প্রতি মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার ৬ দিন পার হলেও এখনও মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশের ধারণা, ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এর আগে, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদের পাড় থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে টাঙ্গাইলে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণ অতঃপর পেট থেকে বাচ্চা বের করে মা ও শিশুকে হত্যা–এমন একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। তবে পুলিশ এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।
পুলিশ জানান, গত ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্থানীয়রা মাটির নিচে থাকা বস্তার একটি অংশ কুকুর কামড়ে ধরে টানতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত নারী ও নবজাতকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। তখন পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় মরদেহ দুটি অজ্ঞাত হিসেবে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে রোববার মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এশিয়া পোস্টকে জানান, মাটি খুঁড়ে নারীর মরদেহ উদ্ধারের সময় তার সঙ্গে একটি নবজাতকের মরদেহও পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী প্রায় ৭-৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
তিনি আরও জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধারের সময়ই অর্ধগলিত ছিল। সুরতহাল করার সময় নারীর গলায় ওড়নাজাতীয় একটি কাপড় প্যাঁচানো পাওয়া যায়। ডান হাতের মাংসপেশি ছিল না। মনে হচ্ছিল কুকুরে কামড়িয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর পর সেখানে ভিসেরাসহ প্রয়োজনীয় রিপোর্ট পেতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে নারী ও নবজাতকের কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা জানা যাবে।
এদিকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে টাঙ্গাইলেরে এই ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘এত বিভৎস ঘটনার বর্ণনা পড়ে বেশ হতবাক হয়েছি। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, গত ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর সেতু পার্শ্ববর্তী স্থানে মাটিচাপা দেওয়া একটি বস্তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে এলাকাবাসী পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পুলিশ মাটি খুঁড়ে বস্তা থেকে একজন নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের অবস্থা বিবেচনায় তাদের প্রায় ৮-৯ দিন আগে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয় বলে পুলিশের ধারণা।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির জন্যে মরদেহ দুটি ২০ এপ্রিল রাতেই টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার ভিক্টিমদের শনাক্তকরণে তাদের অভিযান অব্যাহত আছে ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তবে বিস্তারিত ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবেনা যে ঠিক কীভাবে তাদের মৃত্যু ঘটেছে।’
সবশেষে সতর্ক করে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনার তথ্য প্রচার ও শেয়ার করার আগে প্রকৃত ঘটনা সঠিকভাবে যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ডেস্ক রিপোর্ট 



















