জেলগেটে নেওয়া হয় বাবার লাশ। ইনসেটে ছাত্রলীগ নেতা আহসান শাহরুখ।
কারাগারে রয়েছেন তিন মামলার আসামি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আহসান শাহরুখ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় শাহরুখের বাবা আবুল বাশার মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন শাহরুখের স্বজনরা। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি না মেলায় বাবার লাশ নিয়ে জেলগেটে যান স্বজনরা।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় শাহরুখের বাবা আবুল বাশার মারা যান। এর আগে চলতি মাসেই গ্রেপ্তার হন শাহরুখ। বাবা-ছেলের শেষ দেখা হয়েছে বরিশাল জেলগেটে। এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শাহরুখের বন্ধু আল আমিন বলেন, প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে রাজনৈতিক মামলা শোনার পর কেউ কোনো সহযোগিতা করেনি। এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব না। জেলগেটে দেখা করতে হবে। এরপর জেলগেটে লাশ নিয়ে যাই।
প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলাম। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব না জানিয়ে জেলগেটে দেখা করতে বলেন।
এ বিষয়ে জানতে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা বলেন, ‘আমার কাছে প্যারোলে মুক্তির একটি আবেদন আসে। আবেদনটি জেলা প্রশাসক বরাবর ছিল। পরে আবেদনের বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানাই। স্যার অফিসে না থাকায় আবেদনটি হোয়াটসঅ্যাপে দিই। স্যার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলগেটে দেখা করার সিদ্ধান্ত দেন। এখানে পুরো বিষয়টি স্যারই সিদ্ধান্ত নেন। পরে আমি সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্বজনদের জানিয়ে দিই।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















