ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কে এই মুসলিম তরুণী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

কেরালার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের নেত্রী ফাতেমা তাহলিয়া। সোমবার ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে কোঝিকোড় জেলার পেরামব্রা বিধানসভা আসনে বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে জয় পেয়েছেন তিনি।

 

এই আসনে তিনি বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা টি পি রামকৃষ্ণানকে পরাজিত করে আলোচনায় উঠে আসেন। তার এই জয়কে কেরালার রাজনীতিতে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ফাতেমা তাহলিয়া ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে নতুন নজির গড়েছেন।

 

পেশায় আইনজীবী ফাতেমা তাহলিয়া কোঝিকোড় পৌর করপোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘দৈত্যবধের’ সঙ্গে তুলনা করছেন, কারণ ১৯৮০ সাল থেকে পেরামব্রা আসনটি টানা সিপিআই(এম)-এর নিয়ন্ত্রণে ছিল।

 

দীর্ঘ চার দশকের সেই রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে তাহলিয়ার এই জয় ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট শিবিরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

 

নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাহলিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়। ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের অভিযোগ ছিল, তার বিরুদ্ধে বামপন্থীরা সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছিল।

 

আইইউএমএল এবার মোট ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র দুই জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছিল, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন তাহলিয়া। এর আগে দলটির ইতিহাসেই মাত্র দুই জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউ জয়ী হতে পারেননি।

 

উল্লেখ্য, তাহলিয়া কেবল বিরোধী পক্ষের সঙ্গেই লড়াই করেননি, বরং দলের ভেতরেও সংস্কারবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

২০২২ সালে তিনি দলের অভ্যন্তরে নারী অধিকার এবং লিঙ্গ সমতার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) নারী শাখা ‘হারিতা’-র প্রতিষ্ঠাতা রাজ্য সভাপতি ছিলেন।

 

দলে নারী অধিকার প্রসঙ্গে ফাহিমা তাহলিয়া বলেন, ‘এটি দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না, বরং রাজনীতিতে নারীদের মর্যাদা ও স্থান নিশ্চিত করার লড়াই ছিল।’

 

অবশ্য তাহলিয়ার রাজনৈতিক জীবন অতটা সহজও ছিল না।

 

এমএসএফ-এর সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলায় এবং সেই বিষয়ে মুখ খোলায় তাকে এমএসএফ-এর জাতীয় সহ-সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ‘হারিতা’ কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তবুও তিনি পিছু হটেননি। বর্তমানে তিনি মুসলিম ইয়ুথ লিগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

তাহলিয়ার এই বিজয় কেরালার রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একজন তরুণ, সুবক্তা এবং নির্ভীক নেত্রী হিসেবে তার উত্থান আইইউএমএল-এর ভেতরে নারী প্রতিনিধিত্ব ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের প্রশ্নে বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।

 

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কে এই মুসলিম তরুণী

আপডেট সময় ১০:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

কেরালার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের নেত্রী ফাতেমা তাহলিয়া। সোমবার ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে কোঝিকোড় জেলার পেরামব্রা বিধানসভা আসনে বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে জয় পেয়েছেন তিনি।

 

এই আসনে তিনি বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা টি পি রামকৃষ্ণানকে পরাজিত করে আলোচনায় উঠে আসেন। তার এই জয়কে কেরালার রাজনীতিতে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ফাতেমা তাহলিয়া ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে নতুন নজির গড়েছেন।

 

পেশায় আইনজীবী ফাতেমা তাহলিয়া কোঝিকোড় পৌর করপোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘দৈত্যবধের’ সঙ্গে তুলনা করছেন, কারণ ১৯৮০ সাল থেকে পেরামব্রা আসনটি টানা সিপিআই(এম)-এর নিয়ন্ত্রণে ছিল।

 

দীর্ঘ চার দশকের সেই রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে তাহলিয়ার এই জয় ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট শিবিরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

 

নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাহলিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়। ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের অভিযোগ ছিল, তার বিরুদ্ধে বামপন্থীরা সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছিল।

 

আইইউএমএল এবার মোট ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র দুই জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছিল, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন তাহলিয়া। এর আগে দলটির ইতিহাসেই মাত্র দুই জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউ জয়ী হতে পারেননি।

 

উল্লেখ্য, তাহলিয়া কেবল বিরোধী পক্ষের সঙ্গেই লড়াই করেননি, বরং দলের ভেতরেও সংস্কারবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

২০২২ সালে তিনি দলের অভ্যন্তরে নারী অধিকার এবং লিঙ্গ সমতার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) নারী শাখা ‘হারিতা’-র প্রতিষ্ঠাতা রাজ্য সভাপতি ছিলেন।

 

দলে নারী অধিকার প্রসঙ্গে ফাহিমা তাহলিয়া বলেন, ‘এটি দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না, বরং রাজনীতিতে নারীদের মর্যাদা ও স্থান নিশ্চিত করার লড়াই ছিল।’

 

অবশ্য তাহলিয়ার রাজনৈতিক জীবন অতটা সহজও ছিল না।

 

এমএসএফ-এর সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলায় এবং সেই বিষয়ে মুখ খোলায় তাকে এমএসএফ-এর জাতীয় সহ-সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ‘হারিতা’ কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তবুও তিনি পিছু হটেননি। বর্তমানে তিনি মুসলিম ইয়ুথ লিগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

তাহলিয়ার এই বিজয় কেরালার রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একজন তরুণ, সুবক্তা এবং নির্ভীক নেত্রী হিসেবে তার উত্থান আইইউএমএল-এর ভেতরে নারী প্রতিনিধিত্ব ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের প্রশ্নে বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।

 

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস