ঢাকা , শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বঙ্গোপসাগরে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত এমপিদের সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে পড়ানো বাধ্যতামূলক করা উচিত: রুমিন ফারহানা দেশে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি আমাকে ‘জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার প্রোডাক্ট’ বলা হয়েছিল: তাসনিম জারা কোনো বাপের বেটার ক্ষমতা নেই এখানে কিছু করার: এসপি মাসুদ গাজীপুরে এক পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা তামিলনাড়ুতে নতুন নাটক! থালাপতি বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত তাহাজ্জুদ নামাজে কেরাতে ভুল হলে করণীয় কী? ভারতের মিসাইলের ঝলকানি দেখা গেলো সুন্দরবন-কক্সবাজারের আকাশে

সুনামগঞ্জে টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, থামাতে গিয়ে এমপি আহত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের জাউয়া বাজারে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে টর্চ জ্বালিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাত ৯টা পর্যন্ত চলে বলে জানা গেছে।

 

এদিকে সিলেট থেকে সড়কপথে সুনামগঞ্জে যাওয়ার সময় সংঘর্ষে আটকা পড়েন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান কামরুল। সংঘর্ষ থামাতে ও দুই পক্ষকে শান্ত করতে আহত হন তিনি।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জাউয়া বাজারের নিকটবর্তী খিদ্রাখাপন গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আখলুছ মিয়া জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন জাউয়া কোনাপাড়ার মোহাম্মদ আলীর কাছে। জমি কেনার জন্য আখলুছ মিয়াকে ২২ লাখ টাকা দেন মোহাম্মদ আলী। পরে জমি বিক্রি করেননি, টাকাও ফেরত দেননি। বারবার পাওনা টাকা তাগাদা দিয়েও আদায় করতে পারেননি মোহাম্মদ আলী। এনিয়ে দুদিন আগে আখলুছ মিয়াকে গালিগালাজ করেন মোহাম্মদ আলী। বিষয়টি শুনে মোহাম্মদ আলীকে জাউয়া বাজারে মারধর করেন আখলুছ মিয়ার লোকজন।

 

এর জের ধরে শুক্রবার বিকেলে আখলুছ মিয়ার লোকজনকে মারধর করেন মোহাম্মদ আলীর লোকজন। সন্ধ্যার পরে উভয়পক্ষের লোকজন সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের জাউয়া বাজারে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়েন। রাতের অন্ধকারে উভয়পক্ষের লোকজন টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় সড়কের উভয়পাশে শতশত যানবাহন আটক পড়ে। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ কয়েক দফা চেষ্টা করেও সংঘর্ষ থামাতে পারেনি।

 

মোহাম্মদ আলী ও আখলুছ মিয়াকে ফোন করা হলেও তারা না ধরায় সংঘর্ষের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

 

এদিকে সিলেট থেকে সড়কপথে সুনামগঞ্জে যাওয়ার সময় সংঘর্ষে আটকা পড়েন সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুল। সংঘর্ষ থামাতে ও দুই পক্ষকে শান্ত করতে পুলিশের সঙ্গে মধ্যস্থতায় অংশ নেন তিনিও। এ সময় তার হাতে ও পায়ে ঢিল পড়ে জখম হয়। পরে পুলিশ তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

 

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, জমির বিরোধ নিয়ে দুই গ্রামের লোকজন জাউয়া বাজারে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে। ঢিল পড়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জাউয়া বাজারে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে জাউয়া বাজার তদন্ত কেন্দ্র ও ছাতক থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সড়কপথে সুনামগঞ্জে আসার সময় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সংঘর্ষ দেখে মধ্যস্থতা করতে ও সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেছেন। এ সময় তার হাতে ও পায়ে ঢিল পড়েছে। পুলিশ তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। পরে তিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। জাউয়া বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত

সুনামগঞ্জে টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, থামাতে গিয়ে এমপি আহত

আপডেট সময় ০১:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের জাউয়া বাজারে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে টর্চ জ্বালিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাত ৯টা পর্যন্ত চলে বলে জানা গেছে।

 

এদিকে সিলেট থেকে সড়কপথে সুনামগঞ্জে যাওয়ার সময় সংঘর্ষে আটকা পড়েন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান কামরুল। সংঘর্ষ থামাতে ও দুই পক্ষকে শান্ত করতে আহত হন তিনি।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জাউয়া বাজারের নিকটবর্তী খিদ্রাখাপন গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আখলুছ মিয়া জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন জাউয়া কোনাপাড়ার মোহাম্মদ আলীর কাছে। জমি কেনার জন্য আখলুছ মিয়াকে ২২ লাখ টাকা দেন মোহাম্মদ আলী। পরে জমি বিক্রি করেননি, টাকাও ফেরত দেননি। বারবার পাওনা টাকা তাগাদা দিয়েও আদায় করতে পারেননি মোহাম্মদ আলী। এনিয়ে দুদিন আগে আখলুছ মিয়াকে গালিগালাজ করেন মোহাম্মদ আলী। বিষয়টি শুনে মোহাম্মদ আলীকে জাউয়া বাজারে মারধর করেন আখলুছ মিয়ার লোকজন।

 

এর জের ধরে শুক্রবার বিকেলে আখলুছ মিয়ার লোকজনকে মারধর করেন মোহাম্মদ আলীর লোকজন। সন্ধ্যার পরে উভয়পক্ষের লোকজন সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের জাউয়া বাজারে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়েন। রাতের অন্ধকারে উভয়পক্ষের লোকজন টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় সড়কের উভয়পাশে শতশত যানবাহন আটক পড়ে। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ কয়েক দফা চেষ্টা করেও সংঘর্ষ থামাতে পারেনি।

 

মোহাম্মদ আলী ও আখলুছ মিয়াকে ফোন করা হলেও তারা না ধরায় সংঘর্ষের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

 

এদিকে সিলেট থেকে সড়কপথে সুনামগঞ্জে যাওয়ার সময় সংঘর্ষে আটকা পড়েন সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুল। সংঘর্ষ থামাতে ও দুই পক্ষকে শান্ত করতে পুলিশের সঙ্গে মধ্যস্থতায় অংশ নেন তিনিও। এ সময় তার হাতে ও পায়ে ঢিল পড়ে জখম হয়। পরে পুলিশ তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

 

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, জমির বিরোধ নিয়ে দুই গ্রামের লোকজন জাউয়া বাজারে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে। ঢিল পড়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জাউয়া বাজারে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে জাউয়া বাজার তদন্ত কেন্দ্র ও ছাতক থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সড়কপথে সুনামগঞ্জে আসার সময় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সংঘর্ষ দেখে মধ্যস্থতা করতে ও সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেছেন। এ সময় তার হাতে ও পায়ে ঢিল পড়েছে। পুলিশ তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। পরে তিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। জাউয়া বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।