ঢাকা , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরানের ইউরেনিয়াম কেড়ে নেব, হরমুজে টোল চাই না: ট্রাম্প ‘পাত্তাই পাচ্ছেন না ট্রাম্প’, ইউরেনিয়াম নিয়ে মোজতবা খামেনির কঠোর বার্তা রোববারের মধ্যে রামিসা হত্যার চার্জশিট জমা দেবে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান কারারক্ষীর রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে নেওয়া হলো থানায়, গাড়িতে আগুন জনতার শিশু রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভ, যান চলাচল বন্ধ এবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাকস্বাধীনতা হরণ করল শুভেন্দুর সরকার রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী কনটেন্ট ক্রিয়েটর রজার এলিয়টের মর্মান্তিক মৃত্যু

ইরানের ইউরেনিয়াম কেড়ে নেব, হরমুজে টোল চাই না: ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫৬:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

ইউরেনিয়াম মজুত এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর ফলে সংঘাতের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আশার আলো দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে।

 

ওয়াশিংটনের দাবি, এই ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও তেহরান বলছে এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটা (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) নিয়ে নেব। আমাদের এর দরকার নেই, আমরা এটা চাইও না। সম্ভবত আমরা এটি পাওয়ার পর ধ্বংস করে দেব, তবে আমরা তাদের এটা রাখতে দেব না।’

 

 

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগেই দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

 

 

ইউরেনিয়াম ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, ইরান তাদের উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ফি আরোপ করতে চায়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এটি খোলা থাকুক, আমরা চাই এটি মুক্ত থাকুক। আমরা কোনো টোল চাই না। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ।’

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ছয় সপ্তাহ পার হলেও যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা খুব বেশি এগোয়নি। তবে আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানায়, ‘যোগাযোগের প্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত ও দ্রুততর করতে আমরা ইরানের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি।’

সূত্রটি আরও বলেছে, ‘ট্রাম্পের ধৈর্য দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, এটি উদ্বেগের বিষয়। তবে আমরা দুই পক্ষের বার্তা আদান-প্রদানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’

এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে তেলের মূল্যবৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতির কারণে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ইউরেনিয়াম কেড়ে নেব, হরমুজে টোল চাই না: ট্রাম্প

ইরানের ইউরেনিয়াম কেড়ে নেব, হরমুজে টোল চাই না: ট্রাম্প

আপডেট সময় ০১:৫৬:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ইউরেনিয়াম মজুত এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর ফলে সংঘাতের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আশার আলো দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে।

 

ওয়াশিংটনের দাবি, এই ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও তেহরান বলছে এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটা (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) নিয়ে নেব। আমাদের এর দরকার নেই, আমরা এটা চাইও না। সম্ভবত আমরা এটি পাওয়ার পর ধ্বংস করে দেব, তবে আমরা তাদের এটা রাখতে দেব না।’

 

 

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগেই দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

 

 

ইউরেনিয়াম ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, ইরান তাদের উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ফি আরোপ করতে চায়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এটি খোলা থাকুক, আমরা চাই এটি মুক্ত থাকুক। আমরা কোনো টোল চাই না। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ।’

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ছয় সপ্তাহ পার হলেও যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা খুব বেশি এগোয়নি। তবে আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানায়, ‘যোগাযোগের প্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত ও দ্রুততর করতে আমরা ইরানের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি।’

সূত্রটি আরও বলেছে, ‘ট্রাম্পের ধৈর্য দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, এটি উদ্বেগের বিষয়। তবে আমরা দুই পক্ষের বার্তা আদান-প্রদানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’

এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে তেলের মূল্যবৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতির কারণে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স