ঢাকা , শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে খুন, ধর্ষণ ও নাগরিক নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে: আসিফ মাহমুদ পদত্যাগ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: আসছে বড় ঘোষণা? চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ: দায় স্বীকার করে আসামির জবানবন্দি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ইরান: আইআরজিসি কমান্ডার রাসুলুল্লাহ পাকিস্তানে নতুন দল ‘তেলাপোকা’ আওয়ামী লীগের আত্মপ্রকাশ নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলায় ছাত্রদলের ৮ নেতার বিরুদ্ধে মামলা ঝিনাইদহে থানায় ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অতীতেও নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন গ্রেপ্তার সোহেল রানা এনসিপিতে যুক্ত হলেন প্রায় দেড় হাজার নতুন সদস্য

১২ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

ভারতের ইন্টারনেট দুনিয়ায় মাত্র চার দিন আগে জন্ম নেওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এখন দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত এই মিম-ভিত্তিক আন্দোলন ইনস্টাগ্রামে মাত্র চার দিনেই ১২ মিলিয়ন (১ কোটি ২০ লাখ) ফলোয়ার অর্জন করেছে। যা ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দেশটির সংবাদমাধ্যম Hindustan Times এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মটি নিজেদের “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর” হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। তবে হাস্যরসের আড়ালে এটি এখন ভারতের তরুণ সমাজের বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এই আন্দোলনের সূত্রপাত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি দেশের একাংশ বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন, কিছু তরুণ চাকরি না পেয়ে পরে মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া বা অ্যাক্টিভিজমে জড়িয়ে সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এর প্রতিবাদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। শুরুতে এটি শুধুই মিম ও ট্রোল সংস্কৃতির অংশ হলেও দ্রুত তা ভারতীয় তরুণদের ক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়।

এদিকে এই আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ভারতের কয়েকজন শীর্ষ বিরোধী নেতা। অখিলেশ যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এবার লড়াই হবে বিজেপি বনাম সিজেপি।” তার এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

অন্যদিকে মনীষ সিসোদিয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমিও একজন তেলাপোকা। যখন লড়াইটা কুমির আর তেলাপোকার মধ্যে, তখন আমি গর্বের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির পাশে আছি।”

মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে দলটি তাকে “গণতন্ত্রের যোদ্ধা” বলে স্বাগত জানায়। এছাড়া সাবেক ক্রিকেটার ও রাজনীতিক কীর্তি আজাদ-এর পোস্টেরও মজার ছলে জবাব দেয় সিজেপি।

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এই ঘটনাকে ভারতীয় যুবসমাজের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগও দাবি করেন।

যদিও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন, তবুও তাদের কথিত ইশতেহারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবি উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিচারপতিদের অবসরের পর সরকারি পদ না দেওয়া, বৈধ ভোট বাতিলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, দলবদলকারী জনপ্রতিনিধিদের আজীবন নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা, ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ এবং নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র মিম, ব্যঙ্গচিত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করে গড়ে ওঠা এই “তেলাপোকা আন্দোলন” ভারতের তরুণ ভোটারদের মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ইন্টারনেট-নির্ভর এই প্রতিবাদ ভবিষ্যতের ভারতীয় রাজনীতিতে কতটা বাস্তব প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে খুন, ধর্ষণ ও নাগরিক নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে: আসিফ মাহমুদ

১২ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

আপডেট সময় ১২:২০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ভারতের ইন্টারনেট দুনিয়ায় মাত্র চার দিন আগে জন্ম নেওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এখন দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত এই মিম-ভিত্তিক আন্দোলন ইনস্টাগ্রামে মাত্র চার দিনেই ১২ মিলিয়ন (১ কোটি ২০ লাখ) ফলোয়ার অর্জন করেছে। যা ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দেশটির সংবাদমাধ্যম Hindustan Times এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মটি নিজেদের “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর” হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। তবে হাস্যরসের আড়ালে এটি এখন ভারতের তরুণ সমাজের বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এই আন্দোলনের সূত্রপাত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি দেশের একাংশ বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন, কিছু তরুণ চাকরি না পেয়ে পরে মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া বা অ্যাক্টিভিজমে জড়িয়ে সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এর প্রতিবাদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। শুরুতে এটি শুধুই মিম ও ট্রোল সংস্কৃতির অংশ হলেও দ্রুত তা ভারতীয় তরুণদের ক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়।

এদিকে এই আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ভারতের কয়েকজন শীর্ষ বিরোধী নেতা। অখিলেশ যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এবার লড়াই হবে বিজেপি বনাম সিজেপি।” তার এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

অন্যদিকে মনীষ সিসোদিয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমিও একজন তেলাপোকা। যখন লড়াইটা কুমির আর তেলাপোকার মধ্যে, তখন আমি গর্বের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির পাশে আছি।”

মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে দলটি তাকে “গণতন্ত্রের যোদ্ধা” বলে স্বাগত জানায়। এছাড়া সাবেক ক্রিকেটার ও রাজনীতিক কীর্তি আজাদ-এর পোস্টেরও মজার ছলে জবাব দেয় সিজেপি।

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এই ঘটনাকে ভারতীয় যুবসমাজের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগও দাবি করেন।

যদিও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন, তবুও তাদের কথিত ইশতেহারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবি উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিচারপতিদের অবসরের পর সরকারি পদ না দেওয়া, বৈধ ভোট বাতিলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, দলবদলকারী জনপ্রতিনিধিদের আজীবন নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা, ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ এবং নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র মিম, ব্যঙ্গচিত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করে গড়ে ওঠা এই “তেলাপোকা আন্দোলন” ভারতের তরুণ ভোটারদের মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ইন্টারনেট-নির্ভর এই প্রতিবাদ ভবিষ্যতের ভারতীয় রাজনীতিতে কতটা বাস্তব প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়।