বিশ্বের সবচেয়ে দামি গরুর মূল্য কত টাকা হতে পারে? সাধারণ লাখ টাকার গরু সচরাচর দেখা যায়। বড়জোর কোটি টাকার ঘর ছুঁতে পারে। কিন্তু অর্ধশত কোটি টাকা হবে, তা অবশ্য অনেককেই চমকে দেবে। হ্যাঁ, সত্যি সত্যি একটি গরুর মূল্য শতকোটি টাকার ঘর ছুঁয়েছে। শুধু তাই নয়, দামের হিসেবে বিশ্বরেকর্ডও করেছে।
গিনেস বুক ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুসারে, ভায়াটিনা-১৯ নামের ভারতীয় বংশোদ্ভূত গরুটি ২০২৩ সালে ব্রাজিলের মিনাস জেরাইসে একটি নিলামে ৪০ কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৫১ কোটি টাকা। জানা গেছে, গরুটির ওজন প্রায় ১ হাজার ১০১ কেজি, যা একই নেলোর জাতের অন্যান্য গরুর গড় ওজনের দ্বিগুণ।
ওই বছর গরুটি বয়সের হিসেবে ৫৩ মাসে পা দিয়েছিল। চমৎকার সাদা লোম, ঢিলেঢালা চামড়া এবং কাঁধের ওপরের সুস্পষ্ট কুঁজের কারণে সহজেই চোখে পড়ার মতো গড়ন ছিল।
বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি ভায়াটিনা-১৯ টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে অনুষ্ঠিত ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় ‘মিস সাউথ আমেরিকা’ খেতাব লাভ করে। এই প্রতিযোগিতাটি মিস ইউনিভার্স-এর ধাঁচে আয়োজিত গবাদি পশুর প্রতিযোগিতা, যেখানে বিভিন্ন দেশের ষাঁড় ও গাভী একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। প্রতিযোগিতায় গরুটির অসাধারণ পেশি গঠন ও বিরল বংশগতি তাকে বিজয়ী হতে সাহায্য করেছিল।
ঈদে গরু কোরবানি করবেন না আসামের মুসলমানরা
নেলোর জাতটি ক্রান্তীয় জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। এই কারণে, প্রজনন কর্মসূচির জন্য বিশ্বব্যাপী ভায়াটিনা-১৯-এর ভ্রূণের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
পশুচিকিৎসক লরেনি মার্টিনস বলেছেন, ভায়াটিনা-১৯ এখন পর্যন্ত অর্জিত নিখুঁততার সবচেয়ে কাছাকাছি। সে একটি পরিপূর্ণ গাভি ও মালিকরা যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য খোঁজেন, তার সবই গরুটির মধ্যে রয়েছে।
ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুসারে, ব্রাজিল এখন বিশ্বের বৃহত্তম নেলোর গবাদি পশুর প্রজননকারী দেশ। নেলোর জাতটি আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, ভেনিজুয়েলা, মধ্য আমেরিকা, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও আরও বহু দেশে রপ্তানি করা হয়েছে।
ব্রাজিলের মোট গবাদিপশুর প্রায় ৮০ শতাংশই মূলত ভারতীয় ‘জেবু’ উপজাতির অন্তর্গত, যাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পিঠের ওপর কুঁজ এবং গলার নিচে ঝুলন্ত চামড়া বা গলকম্বল। ভিয়াতিনা-১৯ যে ‘নেলোর’ জাতের অন্তর্ভুক্ত, সেটিকে মূলত ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলার বিখ্যাত ‘ওঙ্গোল’ জাতের বংশধর বলা হয়।
ধারণা করা হয়, ১৮০০-এর দশকে এই জাতের গরু প্রথম ব্রাজিলে আনা রপ্তানি করা হয়েছিল। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় দুই হাজার বছর আগে আর্যরা প্রথম এটি নিয়ে আসে।
বর্তমানে ব্রাজিল বিশ্বের বৃহত্তম নেলোর জাতের প্রজননকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ব্রাজিলে প্রায় ২৩ কোটি গরু রয়েছে, যার একটি বিশাল অংশ এই নেলোর জাতের এবং এদের মূলত উন্নত মানের মাংস উৎপাদনের জন্য লালন-পালন করা হয়।
সূত্র: এনডিটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট 


















